একসময়ের অলিগলির ব্যাটারিচালিত রিকশা, সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও ইজিবাইকসহ তিন চাকার যান এখন অপ্রতিরোধ্যভাবে মহাসড়কে চলাচল করছে। এতে গতির সড়কে দেখা দিয়েছে ধীরগতি। বেড়েছে যানজট। একইসঙ্গে অবাধে এসব যান চলাচলের কারণে প্রায়ই সড়ক দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে।
২০১২ সালের অক্টোবরে উচ্চ আদালত মহাসড়কে তিন চাকার সিএনজিচালিত অটোরিকশা চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। কিন্তু আদালতের সেই নিষেধাজ্ঞা কাগজের পাতায় সীমাবদ্ধ। মহাসড়কের বুকে সগৌরবে চলছে তিন চাকার যান। এতে প্রতিনিয়তই ঝরছে প্রাণ। মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে মহাসড়ক।
বড় যানবাহনের চালক ও যাত্রীরা বলছেন, তিন চাকার যান প্রধান সড়ক ও মহাসড়কে চলে আসায় তীব্র যানজট সৃষ্টির পাশাপাশি প্রতিনিয়ত সড়ক দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে। মূলত পাড়া-মহল্লার গলিতে চলাচলের জন্য তৈরি এই ধীরগতির ও অনিয়ন্ত্রিত যানবাহনগুলো যখন দূরপাল্লার দ্রুতগতির যানবাহনের সঙ্গে রাজপথে চলছে, তখন সড়কের গতি যেমন থমকে যাচ্ছে, তেমনই বাড়ছে মৃত্যুর মিছিল। কারণ বড় যানের সঙ্গে এসব ছোট যানবাহন কোনোভাবেই মহাসড়কে চলার উপযোগী নয়।
নিয়ন্ত্রণহীন গতি ও দুর্বল ব্রেকিং সিস্টেম
সাধারণ প্যাডেল রিকশায় মোটর ও ব্যাটারি যুক্ত করে এগুলোতে গতি বাড়ানো হলেও এগুলোর ব্রেকিং সিস্টেম বা ভারসাম্য রক্ষা করার প্রযুক্তি উন্নত করা হয়নি। ফলে মোড় নেওয়ার সময় বা দ্রুত ব্রেক করতে গিয়ে এগুলো প্রায়ই উল্টে গিয়ে মারাত্মক দুর্ঘটনা ঘটাচ্ছে। আবার এগুলোর কারণে বড় গাড়িও দুর্ঘটনার কবলে পড়ছে।
মহাসড়কে কাঠামোগত অমিল
গ্রামের রাস্তা বা গলির জন্য তৈরি এই অটোরিকশাগুলো যখন মহাসড়কে বাস-ট্রাকের মতো দ্রুতগতির যানবাহনের লেন দখল করে, তখন গতির পার্থক্যের কারণে পেছনের গাড়িগুলোকে অনবরত ব্রেক চাপতে হয়। সামান্য ধাক্কা লাগলেই অটোরিকশার যাত্রীদের জন্য তা ডেকে আনছে বিপর্যয়।
লাইসেন্স ও প্রশিক্ষণের অভাব
বেশিরভাগ অটোরিকশা চালকদের কোনও প্রাতিষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ বা ট্রাফিক নিয়মের জ্ঞান নেই। এছাড়া বিপুল সংখ্যক অবৈধ ও লাইসেন্সবিহীন অটোরিকশা রাজপথ দখল করায় বড় শহরগুলোর ট্রাফিক ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে।
জীবিকা বনাম সড়ক নিরাপত্তা
দেশের একটি বড় অংশের মানুষ এই পেশার ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় এবং অল্প পরিশ্রমে বেশি আয়ের সুযোগ থাকায় কৃষি বা অন্যান্য পেশা ছেড়ে অনেকেই ব্যাটারিচালিত রিকশা ও অটোরিকশা চালাচ্ছেন। ফলে প্রশাসন এগুলো বন্ধের উদ্যোগ বা নিষেধাজ্ঞা দিলে চালকদের ক্ষোভ ও বিক্ষোভের মুখে পড়তে হচ্ছে, যা পুরো ট্রাফিক ব্যবস্থার শৃঙ্খলা রক্ষায় বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। যা এখন নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে।
ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে দাপট
গ্রামীণ সড়কের ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক ও অটোরিকশা এখন চলছে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে। শুধু ইজিবাইক নয়, থ্রি-হুইলার, সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও মাহিন্দ্রাসহ অনেক তিন চাকার যান বেপরোয়া গতিতে বাস-ট্রাকের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে চলছে। এ কারণে প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা। মহাসড়কে চলাচল নিষিদ্ধ থাকলেও তা মানছে না তারা। এখন আর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীরও তেমন তৎপরতা দেখা যায় না।
ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক ফোরলেন হওয়ার পর সড়কের মাঝখানে ডিভাইডার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এ কারণে ইউটার্ন ছাড়া সড়কের দুই পাশ থেকে কোনও যানবাহন প্রবেশ করার সুযোগ নেই। কিন্তু এর চিত্র ভিন্ন। গ্রামের সড়কে চলাচল করা ইজিবাইক অনায়াসে উল্টোপথে এসে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে যাত্রী নিয়ে চলাচল করছে। শুধুই ইজিবাইক নয়, মহাসড়কের বিভিন্ন মোড়ে নিষিদ্ধ থ্রি-হুইলার, সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও মাহিন্দ্রা স্ট্যান্ড গড়ে তোলে যাত্রী নিয়ে মহাসড়কে দাবিয়ে বেড়াচ্ছে।
এতে প্রায়ই দুর্ঘটনার কবলে পড়ছে বড় যানবাহনগুলো। অথচ তিন চাকার যানের নেই সরকারি কোনও রেজিস্ট্রেশন নম্বর। এমনকি বেশিরভাগ চালকের নেই ড্রাইভিং লাইসেন্স। এরপরও কীভাবে মহাসড়কে এসব যানবাহন চলাচল করছে, এ নিয়ে রয়েছে সাধারণ মানুষের মিশ্র প্রতিক্রিয়া।
যা বলছে সাধারণ মানুষ
ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের পাশের ময়মনসিংহ সদরের চুরখাই মোড়ের দোকানি কামাল হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘গ্রামের সড়কের ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক এখন মহাসড়কে চলছে। মহাসড়কের চুরখাই মোড়ে নিষিদ্ধ সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও মাহিন্দ্রা স্ট্যান্ড গড়ে তোলা হয়েছে। অথচ এসব যানবাহনের সরকারি রেজিস্ট্রেশন নম্বর নেই। অবৈধভাবে এসব যানবাহন চলাচল করছে। এতে একদিকে যেমন দুর্ঘটনা ঘটছে তেমনি বিভিন্ন মোড়ে যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। এ কারণে আমরা সময়মতো গন্তব্যে পৌঁছতে পারি না। কারণ এসব যানের কারণে বাসের গতি কমে যাচ্ছে। বাসগুলোকে জায়গায় জায়গায় ব্রেক করতে হয়।’
ত্রিশাল সদরের বাসিন্দা সামসু মিয়া বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ত্রিশাল বাসস্ট্যান্ড মোড়ে নিষিদ্ধ থ্রি-হুইলারের স্ট্যান্ড গড়ে তুলে সব সময় যানজটের সৃষ্টি করছেন চালকরা। এর ফলে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে বড় যানবাহন চলাচলে বাধার সম্মুখীন হচ্ছে। যানজটে আটকে থাকতে হয়। পথচারীরাও দুর্ভোগে পড়ছেন।’
ঝুঁকি জেনেও চালানোর কথা বলছেন তিন চাকার যানের চালকরাও
ত্রিশালের ইজিবাইক চালক সুমন মিয়া বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘মহাসড়কে তিন চাকার যান চলাচলে আসলেই ঝুঁকি আছে। তবু চালাতে হচ্ছে। কারণ ইজিবাইক গ্রামেগঞ্জে চালালে ভাড়ার খরচ ও আয় উঠানো যায় না। বাধ্য হয়েই আমরা উপজেলা সদরে এসে যাত্রীদের নিয়ে মহাসড়কে ঢুকতে হয়। মহাসড়কে ডিভাইডার থাকায় ইউটার্ন নিতে গিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হতে হয়। তবে সাবধানে চালানোর চেষ্টা করি।’
মাহিন্দ্রাচালক সেলিম মিয়া বলেন, ‘আমাদের গাড়ির রেজিস্ট্রেশন না থাকলেও সংগঠনের মাধ্যমে আমরা চালিয়ে আসছি। সংগঠনের নেতারা বিষয়গুলো দেখে থাকেন। অন্য কাজ করতে পারি না বলে নিষিদ্ধ থাকার পরও মহাসড়কে মাহিন্দ্রা চালিয়ে সংসার পরিচালনা করে আসছি। তবে মাঝেমধ্যে পুলিশ জরিমানা করে।’
১৪৯ সড়ক দুর্ঘটনায় ঝরেছে ১৪৩ প্রাণ
ময়মনসিংহ জেলা বিআরটিএ কার্যালয়ের তথ্যমতে, চলতি বছর ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে ১৪৯টি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে। এতে ১৪৩ জন নিহত হয়েছেন এবং ১৪১ জন আহত হন।
ময়মনসিংহ বিআরটিএর সহকারী পরিচালক আনিসুর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘মহাসড়কে তিন চাকার অবৈধ যানবাহন চলাচল বন্ধের জন্য মাঝেমধ্যে আমরা প্রশাসনের সহায়তায় মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে থাকি। তবে জনবল সংকটের কারণে সবসময় অভিযান চালানো সম্ভব হয় না।’
সুযোগ পেলেই মহাসড়কে উঠে যান চালকরা
ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল মামুন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘মহাসড়কে তিন চাকার যান চলাচলে নিষেধাজ্ঞা আছে। মহাসড়কে এসব যানবাহন নিয়ন্ত্রণে হাইওয়ে পুলিশ সদস্যরা চেকপোস্ট বসিয়ে দায়িত্ব পালন করে থাকেন। এরপরও সুযোগ পেলেই চালকরা গ্রামের সড়ক থেকে মহাসড়কে ঢুকে যান। আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি, যাতে এসব যান মহাসড়কে চলাচল করতে না পারে।’
২০১২ সালের অক্টোবরে উচ্চ আদালত মহাসড়কে তিন চাকার সিএনজিচালিত অটোরিকশা চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। কিন্তু আদালতের সেই নিষেধাজ্ঞা কাগজের পাতায় সীমাবদ্ধ। মহাসড়কের বুকে সগৌরবে চলছে তিন চাকার যান। এতে প্রতিনিয়তই ঝরছে প্রাণ। মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে মহাসড়ক।
বড় যানবাহনের চালক ও যাত্রীরা বলছেন, তিন চাকার যান প্রধান সড়ক ও মহাসড়কে চলে আসায় তীব্র যানজট সৃষ্টির পাশাপাশি প্রতিনিয়ত সড়ক দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে। মূলত পাড়া-মহল্লার গলিতে চলাচলের জন্য তৈরি এই ধীরগতির ও অনিয়ন্ত্রিত যানবাহনগুলো যখন দূরপাল্লার দ্রুতগতির যানবাহনের সঙ্গে রাজপথে চলছে, তখন সড়কের গতি যেমন থমকে যাচ্ছে, তেমনই বাড়ছে মৃত্যুর মিছিল। কারণ বড় যানের সঙ্গে এসব ছোট যানবাহন কোনোভাবেই মহাসড়কে চলার উপযোগী নয়।
নিয়ন্ত্রণহীন গতি ও দুর্বল ব্রেকিং সিস্টেম
সাধারণ প্যাডেল রিকশায় মোটর ও ব্যাটারি যুক্ত করে এগুলোতে গতি বাড়ানো হলেও এগুলোর ব্রেকিং সিস্টেম বা ভারসাম্য রক্ষা করার প্রযুক্তি উন্নত করা হয়নি। ফলে মোড় নেওয়ার সময় বা দ্রুত ব্রেক করতে গিয়ে এগুলো প্রায়ই উল্টে গিয়ে মারাত্মক দুর্ঘটনা ঘটাচ্ছে। আবার এগুলোর কারণে বড় গাড়িও দুর্ঘটনার কবলে পড়ছে।
মহাসড়কে কাঠামোগত অমিল
গ্রামের রাস্তা বা গলির জন্য তৈরি এই অটোরিকশাগুলো যখন মহাসড়কে বাস-ট্রাকের মতো দ্রুতগতির যানবাহনের লেন দখল করে, তখন গতির পার্থক্যের কারণে পেছনের গাড়িগুলোকে অনবরত ব্রেক চাপতে হয়। সামান্য ধাক্কা লাগলেই অটোরিকশার যাত্রীদের জন্য তা ডেকে আনছে বিপর্যয়।
লাইসেন্স ও প্রশিক্ষণের অভাব
বেশিরভাগ অটোরিকশা চালকদের কোনও প্রাতিষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ বা ট্রাফিক নিয়মের জ্ঞান নেই। এছাড়া বিপুল সংখ্যক অবৈধ ও লাইসেন্সবিহীন অটোরিকশা রাজপথ দখল করায় বড় শহরগুলোর ট্রাফিক ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে।
জীবিকা বনাম সড়ক নিরাপত্তা
দেশের একটি বড় অংশের মানুষ এই পেশার ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় এবং অল্প পরিশ্রমে বেশি আয়ের সুযোগ থাকায় কৃষি বা অন্যান্য পেশা ছেড়ে অনেকেই ব্যাটারিচালিত রিকশা ও অটোরিকশা চালাচ্ছেন। ফলে প্রশাসন এগুলো বন্ধের উদ্যোগ বা নিষেধাজ্ঞা দিলে চালকদের ক্ষোভ ও বিক্ষোভের মুখে পড়তে হচ্ছে, যা পুরো ট্রাফিক ব্যবস্থার শৃঙ্খলা রক্ষায় বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। যা এখন নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে।
ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে দাপট
গ্রামীণ সড়কের ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক ও অটোরিকশা এখন চলছে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে। শুধু ইজিবাইক নয়, থ্রি-হুইলার, সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও মাহিন্দ্রাসহ অনেক তিন চাকার যান বেপরোয়া গতিতে বাস-ট্রাকের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে চলছে। এ কারণে প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা। মহাসড়কে চলাচল নিষিদ্ধ থাকলেও তা মানছে না তারা। এখন আর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীরও তেমন তৎপরতা দেখা যায় না।
ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক ফোরলেন হওয়ার পর সড়কের মাঝখানে ডিভাইডার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এ কারণে ইউটার্ন ছাড়া সড়কের দুই পাশ থেকে কোনও যানবাহন প্রবেশ করার সুযোগ নেই। কিন্তু এর চিত্র ভিন্ন। গ্রামের সড়কে চলাচল করা ইজিবাইক অনায়াসে উল্টোপথে এসে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে যাত্রী নিয়ে চলাচল করছে। শুধুই ইজিবাইক নয়, মহাসড়কের বিভিন্ন মোড়ে নিষিদ্ধ থ্রি-হুইলার, সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও মাহিন্দ্রা স্ট্যান্ড গড়ে তোলে যাত্রী নিয়ে মহাসড়কে দাবিয়ে বেড়াচ্ছে।
এতে প্রায়ই দুর্ঘটনার কবলে পড়ছে বড় যানবাহনগুলো। অথচ তিন চাকার যানের নেই সরকারি কোনও রেজিস্ট্রেশন নম্বর। এমনকি বেশিরভাগ চালকের নেই ড্রাইভিং লাইসেন্স। এরপরও কীভাবে মহাসড়কে এসব যানবাহন চলাচল করছে, এ নিয়ে রয়েছে সাধারণ মানুষের মিশ্র প্রতিক্রিয়া।
যা বলছে সাধারণ মানুষ
ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের পাশের ময়মনসিংহ সদরের চুরখাই মোড়ের দোকানি কামাল হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘গ্রামের সড়কের ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক এখন মহাসড়কে চলছে। মহাসড়কের চুরখাই মোড়ে নিষিদ্ধ সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও মাহিন্দ্রা স্ট্যান্ড গড়ে তোলা হয়েছে। অথচ এসব যানবাহনের সরকারি রেজিস্ট্রেশন নম্বর নেই। অবৈধভাবে এসব যানবাহন চলাচল করছে। এতে একদিকে যেমন দুর্ঘটনা ঘটছে তেমনি বিভিন্ন মোড়ে যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। এ কারণে আমরা সময়মতো গন্তব্যে পৌঁছতে পারি না। কারণ এসব যানের কারণে বাসের গতি কমে যাচ্ছে। বাসগুলোকে জায়গায় জায়গায় ব্রেক করতে হয়।’
ত্রিশাল সদরের বাসিন্দা সামসু মিয়া বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ত্রিশাল বাসস্ট্যান্ড মোড়ে নিষিদ্ধ থ্রি-হুইলারের স্ট্যান্ড গড়ে তুলে সব সময় যানজটের সৃষ্টি করছেন চালকরা। এর ফলে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে বড় যানবাহন চলাচলে বাধার সম্মুখীন হচ্ছে। যানজটে আটকে থাকতে হয়। পথচারীরাও দুর্ভোগে পড়ছেন।’
ঝুঁকি জেনেও চালানোর কথা বলছেন তিন চাকার যানের চালকরাও
ত্রিশালের ইজিবাইক চালক সুমন মিয়া বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘মহাসড়কে তিন চাকার যান চলাচলে আসলেই ঝুঁকি আছে। তবু চালাতে হচ্ছে। কারণ ইজিবাইক গ্রামেগঞ্জে চালালে ভাড়ার খরচ ও আয় উঠানো যায় না। বাধ্য হয়েই আমরা উপজেলা সদরে এসে যাত্রীদের নিয়ে মহাসড়কে ঢুকতে হয়। মহাসড়কে ডিভাইডার থাকায় ইউটার্ন নিতে গিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হতে হয়। তবে সাবধানে চালানোর চেষ্টা করি।’
মাহিন্দ্রাচালক সেলিম মিয়া বলেন, ‘আমাদের গাড়ির রেজিস্ট্রেশন না থাকলেও সংগঠনের মাধ্যমে আমরা চালিয়ে আসছি। সংগঠনের নেতারা বিষয়গুলো দেখে থাকেন। অন্য কাজ করতে পারি না বলে নিষিদ্ধ থাকার পরও মহাসড়কে মাহিন্দ্রা চালিয়ে সংসার পরিচালনা করে আসছি। তবে মাঝেমধ্যে পুলিশ জরিমানা করে।’
১৪৯ সড়ক দুর্ঘটনায় ঝরেছে ১৪৩ প্রাণ
ময়মনসিংহ জেলা বিআরটিএ কার্যালয়ের তথ্যমতে, চলতি বছর ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে ১৪৯টি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে। এতে ১৪৩ জন নিহত হয়েছেন এবং ১৪১ জন আহত হন।
ময়মনসিংহ বিআরটিএর সহকারী পরিচালক আনিসুর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘মহাসড়কে তিন চাকার অবৈধ যানবাহন চলাচল বন্ধের জন্য মাঝেমধ্যে আমরা প্রশাসনের সহায়তায় মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে থাকি। তবে জনবল সংকটের কারণে সবসময় অভিযান চালানো সম্ভব হয় না।’
সুযোগ পেলেই মহাসড়কে উঠে যান চালকরা
ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল মামুন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘মহাসড়কে তিন চাকার যান চলাচলে নিষেধাজ্ঞা আছে। মহাসড়কে এসব যানবাহন নিয়ন্ত্রণে হাইওয়ে পুলিশ সদস্যরা চেকপোস্ট বসিয়ে দায়িত্ব পালন করে থাকেন। এরপরও সুযোগ পেলেই চালকরা গ্রামের সড়ক থেকে মহাসড়কে ঢুকে যান। আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি, যাতে এসব যান মহাসড়কে চলাচল করতে না পারে।’