রোয়ানু’র আঘাত

পটুয়াখালীতে প্রশাসনের ত্রাণ বিতরণ, ক্ষয়-ক্ষতি নির্ধারণ চলছে

Patuakhali Roanu Pic-055

প্রশাসনের হিসাব অনুযায়ী পটুয়াখালীতে ঘূর্ণিঝড় রোয়ানু’র আঘাতে দুই নারী নিহত ও আটজন আহত হয়েছেন। তবে স্থানীয়দের মতে, আহত হয়েছেন অন্তত অর্ধশত। এছাড়াও প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করা হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনের জন্য প্রশাসন কাজ করছে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক।

জেলা প্রশাসক একেএম শামিমুল হক ছিদ্দিকী জানান, ঘূর্ণিঝড় রোয়ানুর প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনের জন্য প্রাথমিকভাবে জন্য ২ লাখ টাকা ও ১৮০ টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। জেলায় দুই জন নিহত ও ৮ ব্যক্তি আহত হয়েছেন। রোয়ানু’র কবলে নিহতদের জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ২০ হাজার ও আহতদের ১০ হাজার টাকা করে আর্থিক সাহায্য দেওয়া হবে। এছাড়াও বিভিন্ন উপজেলায় ৯টি বেড়িবাঁধ ভেঙে বহু গ্রাম তলিয়ে গেছে। ঝড়ো হাওয়ায় উপড়ে পড়েছে হাজার হাজার গাছপালা। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বহু ঘরবাড়ি, মাছের ঘের, ফসলি জমি ও গবাদি পশু।

111

জানা যায়, আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় জনজীবন স্বাভাবিক হয়ে উঠতে শুরু করেছে। রবিবার সকাল থেকে আশ্রয় কেন্দ্রে অবস্থান নেওয়া লোকজন বাড়ি ফিরে গেছে। চরাঞ্চলসহ প্লাবিত এলাকার পানি কমতে শুরু করলেও কোথাও কোথাও পানিবন্দি মানুষ দুর্ভোগ পোহাচ্ছে।

শনিবার রোয়ানুর আঘাতে জেলার দশমিনা উপজেলার উত্তর লক্ষ্মীপুর এলাকার লিজাবাদ গ্রামে ঘর চাপা পড়ে এক নারীর মৃত্যু হয়। একইদিনে দুমকি উপজেলায় মেয়ের বাড়িতে বেড়াতে এসে আরেক বৃদ্ধা গাছচাপা পড়ে মারাত্মক আহত হন। পরদিন রবিবার সকালে চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।

দশমিনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আজহারুল ইসলাম জানান, রোয়ানুর প্রভাবে দশমিনার উত্তর লক্ষ্মীপুর এলাকার লিজাবাদ গ্রামে ১৫টি বসত ঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এখানে এক নারী নিহত হওয়া ছাড়াও আহত হয়েছে বেশ কিছু মানুষ। বেড়িবাঁধ ভেঙে ও পানি উপচে বেশ কিছু গ্রাম তলিয়ে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। ঝড়ো হাওয়ায় বাড়িঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানসহ উপড়ে পরেছে বহু গাছপালা। ৪-৫ ফুট পানির নিচে তলিয়ে গেছে উপকূলীয় এলাকা। এতে ভেসে গেছে অসংখ্য মাছের ঘের ও রবি ফসলি জমি। বেড়িবাঁধ ভেঙে ও উপচে অন্তত ৬০ গ্রামে পানি ঢুকে পড়েছে।

Patuakhali Roanu Pic-0222

জেলার রাঙ্গাবালী উপজেলার চরমোন্তাজ ইউনিয়নের বউ বাজার, লঞ্চঘাট, পুরান বাজার, বাইলাবুনিয়া এবং আন্ডার চর এলাকায় জোয়ারের পানির তোড়ে বেড়িবাঁধ ভেঙে ও উপচে পানি ঢুকে ২০টি গ্রাম প্লাবিত হয়ে ঘরবাড়ি তলিয়ে গেছে। কলাপাড়া উপজেলার চম্পাপুর ইউনিয়নের দেবপুর ও লালুয়া ইউনিয়নের চারীপাড়া এলাকায় ভাঙ্গা বেড়িবাধ দিয়ে গ্রামের মধ্যে পানি ঢুকে পরলে পানি বন্দি হয়ে পরেছে ১০ গ্রামের কয়েকশ’ পরিবার। একই উপজেলার মহিপুর ইউনিয়নের নিজামপুর পয়েন্টে বেড়িবাঁধ ভেঙে তলিয়ে গেছে অন্তত ১০টি গ্রাম।

আরও পড়তে পারেন : ধর্ষণ মামলা করায় কিশোরীকে তুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ

মির্জাগঞ্জ উপজেলার সুন্দ্রা কালিকাপুর, ডোমরা, ভিখাখালী, আন্দুয়া ও পিপড়াখালী এলাকার বেড়িবাঁধ ভেঙে জলাবদ্ধতায় অন্তত ১৫ গ্রাম প্লাবিত হয়ে কয়েকশ’ পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।

জেলার দূরবর্তী বিচ্ছিন্ন দ্বীপ রাঙ্গাঁবালী উপজেলার বিভিন্ন এলাকার বেড়িবাঁধের বাইরের অন্তত দুই শতাধিক কাঁচা ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানান উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা তপন কুমার ঘোষ।

/জেবি/টিএন/