ঘূর্ণিঝড় রোয়ানু থেমে গেছে কিন্তু ভোলার মেঘনা তীরবর্তী তজুমদ্দিন উপজেলায় রয়ে গেছে এর তাণ্ডবের স্বাক্ষর।পুরো উপজেলার পথে পথে দেখা গেছে ঝড়ের ক্ষতচিহ্ন। অনেকের ঘরবাড়ি উড়ে গেছে,অনেকে হারিয়ে ফেলেছেন আয়ের উৎস। দুর্গত এলাকায় দেখা দিয়েছে খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির সংকট।
এ উপজেলায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে শশীগঞ্জ বাজার ও চাঁদপুর ইউনিয়ন। এ দুটি ইউনিয়নে প্রায় তিন শতাধিক পরিবারের ঘর-বাড়ি উড়িয়ে নিয়ে গেছে রোয়ানু। এসব পরিবার এখন রয়েছে খোলা আকাশের নিচে। যাদের ঘর ভেঙে গেছে তারা কেউ এখনও নতুন করে ঘর দাঁড় করাতে পারেনি।
তজুমদ্দিন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জালাল আহমেদ জানান, সরকারের পক্ষ থেকে তজুমদ্দিন উপজেলায় এক লাখ টাকা ও ১০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, যা প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম।
শশীগঞ্জ গ্রামে নিঃস্ব হয়ে পড়া মাইনুর বেগম নামের এক নারী জানান, ঝড়ে তার ঘর ভেঙে গিয়েছে। তার ৪টি হাঁস ও ৪টি মুরগি ছিল। সব মারা গেছে। এখন খোলা আকাশের নিচে তাকে থাকতে হচ্ছে। কবে তিনি সাহায্য পাবেন, কে তার ঘর উঠিয়ে দেবে তিনি জানেন না।
একই এলাকার জেলে আবদুল মালেক জানান, ঝড়ে তারও ঘর ভেঙে গেছে। ঘরে ৫ মণ চাল ছিল, তা ভেসে গেছে পানিতে। তিনি আফসোস করে বলেন, কিছুদিন আগে ঘর তুলেছিলাম, সেই ঘর হারিয়ে এখন খোলা আকাশের নিচে পড়ে রয়েছি।
ইউসুফ বলেন, মুহুর্তের মধ্যে আমাদের নিঃস্ব করে দিয়েছে ঝড়টি।এখন আমাদের থাকার কোনও অবস্থা নেই। আগে সামর্থ্যবান ছিলাম, এখন দুই দিন ধরে না খেয়ে দিন কাটাচ্ছি।
এদিকে ঝড়ের কবলে পড়ে ভোলার ইলিশা এলাকায় মেঘনায় নদীতে ডুবে যাওয়া বালু ভর্তি দুটি কার্গো এবং এগুলোতে থাকা ৪ নিখোঁজ শ্রমিককে উদ্ধার করতে পারেনি স্থানীয় প্রশাসন।
পুলিশ বলছে, কার্গোর মালিককে খুঁজে পাওয়া যায়নি। ভোলা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে চার হাজার ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের তালিকা তৈরি করা হয়েছে। তাদের জন্য ইতোমধ্যে নগদ চার লাখ টাকা ও ৫০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
জেলা প্রশাসক মো.সেলিম উদ্দিন জানান, তজুমদ্দিন উপজেলায় ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য ৮০ বান্ডেল টিন আর নগদ দুই লাখ ৮০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। আশা করি দুই একদিনের মধ্যে তাদের কাছে এ সাহায্য পৌঁছাবে।
আরও পড়ুন: ছুটির দিনেও চলছে হিলি স্থলবন্দরের কার্যক্রম
/এআর/টিএন/