সংঘর্ষের এক পর্যায়ে যুবলীগ ও ছাত্রলীগ নেতাকর্মীর হাতে অবরুদ্ধ মেয়র পুত্র ও তার সহযোগীকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে পুলিশ। ঘটনাস্থল থেকে মেয়রপুত্রের শর্টগানও উদ্ধার করে তারা। এসময় চাকামইয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবির কেরামত ও পৌর মেয়রের ছোট ভাই স্বপন হাওলাদারকে লাঞ্ছিত করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয়রা জানান, সোমবার দুপুরে নতুন বাজার জুতা পট্টি থেকে সংঘর্ষ শুরু হয়ে পৌরসভা প্রাঙ্গনসহ বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষের পর পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে পৌর মেয়রের ছেলে বিকাশ হাওলাদার, আবুল কাশেম, মিন্টু মল্লিকসহ চারজনকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
চাকামইয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও ইউপি চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবির কেরামত বলেন, উপজেলা পরিষদের সিদ্ধান্ত মোতাবেক কাঁঠালপাড়া স্লুইচগেট ইউনিয়ন পরিষদের তত্ত্বাবধায়নে নিয়ে কাঁঠালপাড়া গ্রামের মেম্বার মো. রফিককে সভাপতি করে স্লুইচগেট রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব দেওয়া হয়। এরপরই সোমবার দুপুরের দিকে যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন তার দলবল নিয়ে আমার কার্যালয়ে এসে ১০ লাখ টাকা দাবি করে আমার ওপর হামলা চালায়।
তবে চেয়ারম্যানের কাছে টাকা দাবির বিষয়টি অস্বীকার করে কলাপাড়া পৌর যুবলীগ সাধারণ সম্পাদক ও ৩নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মো. জাকির হোসেন বলেন, স্লুইচ গেটের কমিটি নিয়ে আলোচনার সময় চেয়ারম্যান কেরামত আমার মৃত পিতাকে নিয়ে অশ্লীল ভাষায় গালমন্দ শুরু করেন। এ নিয়ে বাকবিতণ্ডা হয়, এর বেশী কিছুই হয়নি। পরে এর জের ধরে মেয়রের ছেলে বিকাশ শর্টগান নিয়ে আমাকে গুলি করতে চাইলে জনতা তাকে ধরে পুলিশে সোপর্দ করে।
কলাপাড়া থানা অফিসার ইনর্চাজ জি এম শাহনেওয়াজ বলেন, পৌর মেয়রের ছেলেকে অবরুদ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেছে পুলিশ। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে তার লাইসেন্স করা শর্টগানটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। শর্টগানটি মেয়রের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।
কলাপাড়া পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও পৌর মেয়র বিপুল হাওলাদার জানান, বিকাশ ও তার বন্ধুদের কুপিয়ে আহত করার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করা হবে।
/এমও/