ওষুধ চুরির অপরাধে গলায় সাইনবোর্ড!

ভোলায় ওষুধ চুরির অপরাধে এক যুবককে এভাবে মারধর করে গলায় ‘আমি চোর’ লেখা সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে শহর ঘোরানো হয়ভোলায় ওষুধ চুরির অপরাধে কানু হাওলাদার নামে এক যুবকের হাত বেঁধে গলায় ‘আমি চোর’ সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে মধ্যযুগীয় কায়দায় বৃষ্টির মধ্যে শহর ঘোরানোর অভিযোগ উঠেছে। ওষুধ ব্যবসায়ী মালিক (ড্রাগ ক্যামিস্ট অ্যান্ড ফার্মাসিস্ট) সমিতির কর্মকর্তারা অমানবিক এই কাজটি করেছেন।

বুধবার দুপুরে শহরের সদর রোড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ ওই যুবককে উদ্ধার করে। ভোলার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মীর খায়রুল কবির ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

প্রত্যক্ষদর্শী মোকাম্মেল হক, শ্যামল ও সৈকত জানান, শহরের সদর রোডের উত্তরণ ফার্মেসিতে কানু হাওলাদার ওষুধ কিনতে গেলে তাকে দোকানে রেখে বিক্রেতা মিজান বাইরে যান। এসময় প্রায় তিন হাজার টাকার ওষুধ নিয়ে কানু পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা  করলে দোকানের কর্মচারীরা তাকে ধরে ফেলে। পরে তাকে মারধর করে ওষুধ ব্যবসায়ী মালিক সমিতির হাতে তুলে দেওয়া হয়। সেখানে তাকে ফের মারধর করে গলায় ‘আমি চোর’লেখা সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে বৃষ্টির মধ্যে শহর ঘোরানো হয়।

এ ব্যাপারে ওসি মীর খায়রুল কবির জানান,বিষয়টি অমানবিক। ছেলেটি নেশাগ্রস্ত হতে পারে বা  চুরিও করতে পারে। তাই বলে কেউ আইন হাতে তুলে নিতে পারেন না। পুলিশের পক্ষ থেকে ড্রাগ সমিতির কর্মকর্তাদের সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

উত্তরণ ফার্মেসির মালিক মো. কামাল হোসেনকে তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে পাওয়া না গেলেও তার ছেলে সৈকত জানান,‘ আমরা ওষুধ চোর ছেলেটিকে ধরে সমিতির নেতা হাফিজ মিয়ার কাছে নিয়ে যাই।’

জেলা ড্রাগ ক্যামিস্ট অ্যান্ড ফার্মাসিস্ট সমিতির সম্পাদক হাফিজুর রহমান জানান,ওষুধ নিয়ে ছেলেটি পালিয়ে যাওয়ার সময় দোকানের কর্মচারীরা তাকে ধরে ফেলে। পরে তাকে পুলিশে দেওয়া হয়। তাকে মারধর করা হয়নি। এর আগেও ছেলেটি বিভিন্ন দোকানে ওষুধ কিনতে এসে চুরি করেছিল বলেও জানান তিনি।

আরও পড়ুন:

তদন্তে বড় বাধা অকেজো সিসিটিভি, ১৩৯টির মধ্যে সংযোগ বিচ্ছিন্ন ১২৬টির

জঙ্গি টার্গেট এখন আরও স্পষ্ট ও সংহত

/এনএস/এমএসএম/