ঘূর্ণিঝড়সহ নানা দুর্যোগের মুখে থাকা উপকূলীয় জেলা ভোলায় সাইক্লোন শেল্টার প্রয়োজন এক হাজার ৭০০টি। অথচ সেখানে আছে মাত্র সাড়ে ৪০০টি। এরমধ্যে অব্যবস্থাপনা কারণে অন্তত ২০টি দখল হয়ে গেছে।
১৯৭০ সালের ১২ নভেম্বরের প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড়ে ভোলা অঞ্চলে কয়েক লাখ মানুষের মৃত্যুর পর জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে ভোলার মনপুরা, চরফ্যাশনসহ বিভিন্ন এলাকায় ৩২টি মাটির কিল্লা (উঁচু মাটির ডিবি) তৈরি করা হয়। মুজিব কিল্লা নামে পরিচিত এই কিল্লাই হচ্ছে দেশের প্রথম সাইক্লোন শেল্টার। এর অনেকগুলোই এখন রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। বর্তমানে জোয়ারের সময় এসব কেল্লায় গবাদিপশু আশ্রয় নেয়।
ভোলা জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, ঝড়ের সময় আশ্রয় নেওয়ার জন্য ৪৬৭টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কাম আশ্রয় কেন্দ্র রয়েছে।
গণপূর্ত বিভাগ, এলজিইডি, শিক্ষা প্রকৌশল অধিদফতর, দুর্যোগ প্রস্তুতি কর্মসূচি বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ১৯৭২ সালে গণপূর্ত বিভাগ ভোলা জেলায় ১৭টি সাইক্লোন শেল্টার নির্মাণ করেছিল। এর সবগুলোই এখন পরিত্যক্ত। এরপর রেডক্রিসেন্ট ২২টি ও কারিতাস ২০টি, অ্যাকশন এইড তিনটি নির্মাণ করেছিল। এর বেশিরভাগই জমিদাতা এবং প্রভাবশালীদের দখলে চলে গেছে। পরবর্তীতে বিশ্বব্যাংক ৫৬ নির্মাণ করেছিল। যার কিছু টিকে আছে।
পরবর্তীতে এলজিইডি, শিক্ষা প্রকৌশল অধিদফতর ও দুর্যোগ মন্ত্রণালয় থেকে স্কুল কাম সাইক্লোন সেল্টার, মাদ্রাসা কাম সাইক্লোন সেল্টার নির্মাণ করেছে। ঝড়ের সময় বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা হয়। দুর্যোগ প্রস্তুতি কর্মসূচির ভোলাস্থ উপপরিচালক মো. সাহাবুদ্দিন মিয়ার হিসাব মতে, বর্তমানে এলজিইডি’র স্কুল কাম সাইক্লোন সেল্টার রয়েছে প্রায় ৩০০ টি, শিক্ষা প্রকৌশল অধিদফতরের স্কুল ও মাদ্রাসা কাম সাইক্লোন সেল্টার ৬০ টি, রেডক্রিসেন্ট, কারিতাস ও অ্যাকশন এইড-এর ৩৫টি, সৌদি ফায়েল খায়ের এর ৩৪টি, বিশ্বব্যাংক, দুর্যোগ মন্ত্রণালয়সহ অন্যান্য ৫০টিসহ ভোলা জেলায় চার শতাধিক সাইক্লোন শেল্টার রয়েছে। আর মাটির কিল্লা রয়েছে মাত্র ৩২ টি।
ভোলা এলজিইডি’র নির্বাহী প্রকৌশলী সিদ্দিকুর রহমান জানান বিশ্ব ব্যাংকের অর্থায়নে ভোলা জেলায় নতুন ৪২টি স্কুল কাম সাইক্লোন শেল্টার নির্মাণ করা হবে। এ গুলোর টেন্ডার প্রক্রিয়া এখন চলছে।
দুর্যোগ প্রস্তুতি কর্মসূচির ভোলাস্থ উপপরিচালক মো. সাহাবুদ্দিন মিয়ার হিসাব মতে, ভোলা জেলার লোকসংখ্যা ১৭ লাখ। ঝড়ের সময় ৪০ শতাংশ মানুষ আশ্রয় কেন্দ্রে যায়। সেই হিসেবে ৬ লাখ ৮০ হাজার মানুষ আশ্রয় কেন্দ্রে আশ্রয় নিতে পারে। প্রতিটি আশ্রয় কেন্দ্রে সর্বোচ্চ ৪০০ লোক আশ্রয় নিতে পারে। সে হিসেবে ভোলায় এক হাজার ৭০০ আশ্রয় কেন্দ্র প্রয়োজন। বাস্তবে আছে মাত্র ৪০০টি।
আরও পড়ুন
এবার পাবনায় আশ্রমের সেবককে কুপিয়ে হত্যা
ভারতীয় শিশু সনুর ডিএনএ পরীক্ষার জন্য রক্ত সংগ্রহ
/এসটি/