এছাড়া শুক্রবার সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ১৩ থেকে ১৬টি বেসরকারি ত্রিতল লঞ্চ ঢাকা ও বরিশালের ঘাট ত্যাগ করবে। ডাবল-ট্রিপে চলাচল করবে ২ থেকে ১০ জুলাই পর্যন্ত।
এদিকে, ঈদকে সামনে রেখে দক্ষিণাঞ্চলের নৌ-রুটগুলোতে বাড়ানো হচ্ছে বেসরকারি লঞ্চ ভাড়া। উৎসব মৌসুম এলেই প্রতি বছর সরকার নির্ধারিত বেশি ভাড়ার ফাঁদে পড়তে হয় বেসরকারি লঞ্চ যাত্রীদের।
বিআইডব্লিউটি-এর নৌ নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা বিভাগের উপ-পরিচালক এবং বরিশাল নৌবন্দর কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান জানান, মানুষের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে বরিশাল-ঢাকা নৌ রুটে চলাচলকারী পারাবত কোম্পানির চারটি, সুন্দরবনের তিনটি, কীর্তনখোলার দুইটি, সুরভীর তিনটি, টিপুর দুইটি এবং কালাম খান ও দ্বীপরাজের একটি করে লঞ্চের সঙ্গে দিনের বেলায় গ্রিন লাইনের দুইটি জাহাজ সরাসরি ঢাকা-বরিশাল-ঢাকা রুটে যাত্রী পরিবহন করবে।
এছাড়া দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আরও সাতটি লঞ্চ বিশেষ সার্ভিসে ভায়া বরিশাল হয়ে চলাচল করবে।
বিভাগের ঝালকাঠী, পিরোজপুর, বরগুনা, ভোলা ও পটুয়াখালীর যাত্রীরা ঢাকার সদরঘাট থেকে সিডিউল অনুযায়ী যেসব লঞ্চ চলাচল করত সেভাবেই করবে।
ঈদের দুইদিন পর থেকে কর্মস্থলমুখী মানুষের যাতায়াত সুষ্ঠু ও সুন্দর করতে বরিশাল থেকে বিশেষ সার্ভিসে প্রতিদিন ১৩ থেকে ১৬টি লঞ্চ যাত্রী নিয়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাবে।
১০ জুলাইয়ের পর যাত্রীর চাপ না থাকলে বিশেষ সার্ভিস ওই দিন থেকে বন্ধ হয়ে যাবে।
নিরাপত্তার ব্যাপারে তিনি জানান, অতিরিক্ত যাত্রী বহন রোধ, প্রয়োজনীয় বয়া এবং প্রশিক্ষিত চালক ও অন্যান্য কর্মচারী যাতে লঞ্চে থাকে সে ব্যাপারে দক্ষিণাঞ্চলের সকল স্টেশনে বার্তা দেওয়া হয়েছে। উদ্ধারকারী জাহাজ সার্বক্ষণিক প্রস্তুত রাখা হবে।
তাছাড়া ঢাকা থেকে দক্ষিণাঞ্চলের নৌ পথে ঈদের আগে ও পরে ২০ দিন বাল্কহেড, কার্গো চলাচল নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
লঞ্চ মালিকদের দায়িত্বশীল একাধিক সূত্র জানিয়েছে, সারা বছর রাজধানী থেকে বরিশালগামী লঞ্চগুলোতে ডেকে ২০০, সোফা ৫০০, সিঙ্গেল কেবিন ৮৫০ এবং ডাবল ১৬০০ থেকে ১৮০০ টাকা ভাড়া নেওয়া হতো।
ভাড়ার ক্ষেত্রে ভিআইপি কেবিনের ভাড়া নির্ধারণ করা না-থাকায় ভিআইপি কেবিনের ভাড়া নেওয়া হতো প্রকারভেদে তিন থেকে চার হাজার টাকা।
সারা বছর লঞ্চ মালিকরা উপরোক্ত ভাড়া নিলেও ঈদুল ফিতর এবং ঈদ উল-আজহার সময় সরকার নির্ধারিত ভাড়ার অজুহাত তুলে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করেন। ঈদ পূর্ব এবং পরবর্তী ১৫ দিন চলে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়।
প্রতি বছরের মতো এ বছরও কেবিনের ভাড়া বাড়িয়ে টিকিট বিক্রি করেছে লঞ্চ কোম্পানিগুলো। এবারের ঈদুল ফিতরে ডেক ২৫০-৩০০, সোফা ৬০০-৬৫০, সিঙ্গেল (এসি/ননএসি) ১২০০-১৫০০ এবং ডাবল (এসি/ননএসি) ২৫০০-২৮০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। চার হাজার টাকার ভিআইপি কেবিনের ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে পাঁচ থেকে ছয় হাজার টাকা।
বরিশাল-ঢাকা নৌ রুটে চলাচলকারী বিলাসবহুল ১৬টি লঞ্চে প্রায় দেড় হাজার কেবিন। তারপরও কেবিনের টিকিট সংকট থেকেই যাচ্ছে। ২৫ জুনের মধ্যেই সব কেবিন বিক্রি হয়ে গেছে।
একই পথ অনুসরণ করেছে বিভাগের অপর পাঁচটি জেলা থেকে চলাচলকারী লঞ্চ মালিকরা।
চাহিদার তুলনায় কেবিন সংখ্যা কম ও কালোবাজারিদের তৎপরতার কারণে প্রতিবছরেই কেবিনের টিকিট পেতে যুদ্ধ করতে হয় যাত্রীদের।
অন্যদিকে, ১৬৯ কিলোমিটার ঢাকা-বরিশাল রুটে সরকারি জাহাজে সব সময়ই ডেক-১৭০, চেয়ার- ২৬০, প্রথম শ্রেণি -১০৫০, দ্বিতীয় শ্রেণি (লঞ্চের ১ম শ্রেণি মানের) ৬৩০ টাকা ভাড়া নেওয়া হচ্ছে।
বিআইডব্লিউটিসির বরিশাল স্টেশন ম্যানেজার সৈয়দ আবৃল কালাম আজাদ জানান, সিডিউল অনুযায়ী ঈদের আগে ঘরমুখো যাত্রী পরিবহনে ২৯ জুন থেকে পিএস অস্ট্রিচ, পিএস মাহসুদ, পিএস লেপচা এবং এমভি মধুমতি ও এমভি বাঙালি এই ৫টি স্টিমার নিয়ে ১০ জুলাই পর্যন্ত ঢাকা থেকে ছেড়ে বাগেরহাটের মোড়েলগঞ্জ পর্যন্ত যাবে।
এ জাহাজগুলো চাঁদপুর, বরিশাল, ঝালকাঠী ও পিরোজপুরের হুলারহাট স্ট্রেশনে যাত্রাবিরতি করবে।
এছাড়াও উপকূলীয় রুটে নিরাপদ ও বিশেষ জাহাজ এমভি আবদুল মতিন, এমভি মনিরুল হক, এমভি বারআউলিয়া চলাচল করবে। দ্বীপ ও চরাঞ্চলে যাতায়াতের জন্য থাকবে বিশেষ সি-ট্রাক সার্ভিস।
যাত্রী চাহিদা থাকলে এ সব রুটে ট্রিপ আরও বাড়ানো হবে বলেও জানান তিনি।
আকাশ-পথে থাকবে বাংলাদেশ বিমান, ইউএস বাংলা এবং নভো এয়ারের বিশেষ ফ্লাইট আসন প্রতি একমুখী ১৯০০-৩০০০ টাকা ভাড়ায়।
লঞ্চ মালিক সমিতির কেন্দ্রীয় সহ সভাপতি সাইদুর রহমান রিন্টু ভাড়া বাড়ানোর বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, তারা সরকার নির্ধারিত ভাড়ার মধ্যেই বাড়তি ভাড়া নেবেন। সারা বছর লঞ্চ মালিকরা সরকার নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে ৩০ থেকে ৪০ ভাগ কম ভাড়ায় যাত্রী পরিবহন করেন। এতে অনেক রুটে লোকসানও হয়। ঈদের সময় যাত্রী বেশি হওয়ার কারণে ওই লোকসান কাটিয়ে ওঠার সুযোগ আসে।
তাছাড়া বিশেষ সার্ভিস দিতে গিয়ে ঈদের আগে ও পরে উভয় প্রান্ত থেকে খালি জাহাজ চালিয়ে যেতে হয়। এ জন্য লঞ্চ মালিকরা জ্বালানি তেলের বাড়তি ব্যয় পুষিয়ে নিতে বাড়তি ভাড়া নিয়ে থাকেন।
তবে যাত্রীদের অভিযোগ, লঞ্চ মালিকরা ঘরমুখো লাখ লাখ মানুষের অসহায়ত্বকে পুঁজি করে দুটি ঈদ উৎসবে সরকারি রেটের নামে যাত্রীদের শুভংকরের ফাঁদে ফেলেন। আর কোটি কোটি টাকা অতিরিক্ত ভাড়া হাতিয়ে নেন।
আরও পড়ুন:
ঈদ উপলক্ষে পশ্চিমাঞ্চলে চলবে বিশেষ ট্রেন
/বিটি/