রবিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে এই ঘটনা ঘটে। কোতোয়ালি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শাহ মোহাম্মদ আওলাদ বলেন, সিনিয়র-জুনিয়র নিয়ে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের মাধ্যে হামলা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়।
হামলা চালানোর সময় ছাত্রলীগের কর্মীরা কলেজের মুসলিম হলের ২০৭ নম্বর কক্ষে ভাঙচুর চালিয়েছে। আহত অবস্থায় ছাত্রলীগের তিন কর্মীকে উদ্ধার করে পুলিশ বরিশাল শের-ই-বাংলা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় (শেবাচিম) হাসপাতালে ভর্তি করে দিয়েছে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত থানায় কোনও অভিযোগ দায়ের হয়নি।
ক্যাম্পাসে বড় ধরনের সংঘর্ষের আশঙ্কায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন কোতোয়ালি থানার ওসি শাহ মোহাম্মদ আওলাদ।
বিএম কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক স ম ইমানুল হাকিম বলেন, ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের খবর পেয়েছি। সেখানে হোটেল সুপার এবং পুলিশ পাঠানো হয়েছে। সোমবার কলেজ এ বিষয়ে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
প্রত্যক্ষদর্শী বিএম কলেজের মুসলিম হলের শিক্ষার্থীরা জানায়, রবিবার বিকালে কলেজের অবৈধ কর্মপরিষদের সাবেক ভিপি মঈন তুষারের অনুসারী ফয়সাল আহম্মেদ মুন্নার সহযোগী বহিরাগত শিপনের সঙ্গে সিনিয়র জুনিয়র নিয়ে সাবেক জিএস নাহিদ সেরনিয়াবাত অনুসারী জোবায়ের হোসেনের সহযোগী কলেজ ছাত্র রফিকুল ইসলামের বিরোধ হয়।
এ নিয়ে বিকালে তাদের মধ্যে হাতাহাতির পর রফিকের সহযোগীরা মারধর করে তুষারের অনুসারী বহিরাগত ছাত্রলীগ কর্মী শিপনকে।
বিকালের ওই ঘটনার জের ধরে তুষারের অনুসারী ফয়সাল আহম্মেদ মুন্নার নেতৃত্বে গভীর রাতে বহিরাগত শিপনসহ ১৫/২০ জনের একটি বাহিনী মুসলিম হলে হামলা চালায়।
এসময় তারা হলের দ্বিতীয় তলায় ২০৭ নম্বর কক্ষে থাকা জুবায়ের’র সহযোগী ছাত্রলীগ কর্মী রফিকুল ইসলাম (২৫), এএম অলি (২২) সজিব সিকদারের (২২) ওপর ধারালো অস্ত্র, রড ও হকিস্টিক নিয়ে হামলা চালায়। তাছাড়া ভাঙচুর করে ২০৭ নম্বর কক্ষের দরজা, জানালা এবং পড়ার চেয়ার-টেবিল।
আহতরা জানান, মুন্না ও তার সহযোগীরা তাদের তিনজনকে মুসলিম হল থেকে টেনে-হিঁচড়ে পার্শ্ববর্তী মাঠে নিয়ে যায়। সেখানে তিনজনকে রড, হকিস্টিক দিয়ে পিটিয়ে এবাং ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করে।
ধারালো অস্ত্রের আঘাতে রফিক ও আলি জখম হলেও হকিস্টিক ও রডের আঘাতে সজিবের একটি হাত ভেঙে গেছে।
আরও পড়ুন-
বন্যার্তদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
গুলশান হামলা: একমাস ধরে জঙ্গিদের লাশ মর্গে
/এফএস/