বরগুনায় জোয়ারের পানিতে উপকূলের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত


বরগুনাউত্তরাঞ্চল থেকে উজানের পানি নামতে শুরু করায় অস্বাভাবিক জোয়ারের পানিতে উপকূলীয় জেলা বরগুনাসহ দক্ষিনাঞ্চলের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। বরগুনায় প্রধান তিন নদী বিষখালী, বুড়িশ্বর ও বলেশ্বরের পানি বিপদসীমার ৩৬ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে বইছে। প্রতিদিন দুবার করে জোয়ারের পানিতে ভাসছে আর ভাটায় শুকাচ্ছে বরগুনার ৬ উপজেলার ৪৫টি গ্রামের প্রায় ৫০ হাজার মানুষ।
বরগুনার পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্র থেকে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (৪ আগস্ট) দুপুর দেড়টা পর্যন্ত বরগুনার বিষখালী নদীর ক্রোক পয়েন্টে জোয়ারের মোট উচ্চতা ছিল ৩ দশমিক ২১ মিটার যা বিপদসীমার ৩৬ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে।
বরগুনার ৯০০ কিলোমিটার বেড়িবাঁধের মধ্যে বিভিন্ন পোল্ডারে ২০০ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ নির্মাণ কাজ চলছে। এরপরেও আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত অবস্থায় আছে ৩৫ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ। সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত অবস্থায় আছে সাড়ে ছয় কিলোমিটার। এছাড়াও সম্প্রতি ঘূর্ণিঝড় রোয়ানুর আঘাতে বরগুনার ১৮টি স্থানে ৯৬০ মিটার বাঁধ সম্পূর্ণভাবে নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে এবং আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ২৮ কিলোমিটার বাঁধ।

এর মধ্যে বরগুনা সদর উপজেলার, বালিয়াতলী, নিশানবাড়িয়া, নলটোনা, ডালভাঙ্গা, পাথরঘাটা উপজেলার জীনতলা,রুহিতা, বাদুরতলা, কোড়ালিয়া, নিজ লাঠিমারা, ছোট টেংরা, গাববাড়ীয়া, বেতাগী উপজেলার আলিয়াবাদ, ঝোপখালী, ভোলানাথপুর, জগাইখালী, কালিকাবাড়ী, গাবতলী, জোয়ার করুনা, গ্রেমর্দন, তালতলীর খোটটার চর, নলবুনিয়ার চর, আশার চর, তেতুল বাড়ীয়া, আমতলী উপজেলার আড়পাঙ্গাশিয়াসহ অন্তত ৪৫টি গ্রাম জোয়ারের পানিতে ভাসছে আর ভাটায় শুকাচ্ছে।

ভাঙা বেড়িবাঁধ দিয়ে পানি ঢুকে ভেসে গেছে ঘর-বাড়ি, তলিয়ে যাচ্ছে ফসলি জমি ও মাছের ঘের। এতে ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছে ভাঙন কবলিত ও পানিতে তলিয়ে যাওয়া এলাকার মানুষেরা। ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা।

এ বিষয়ে বরগুনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নিবার্হী প্রকৌশলী এসএম শহিদুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, বিভিন্ন স্থানের ভাঙা বেড়িবাঁধ দিয়ে পানি ঢুকে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এসকল বেড়িবাঁধ দ্রুত মেরামতের জন্য মন্ত্রণালয়কে জানানো হয়েছে। বরাদ্দ পেলে শিগগিরই কাজ শুরু করা হবে।

আরও পড়ুন: ডিসেম্বরে পদ্মা সেতুর মূল অবকাঠামো দৃশ্যমান হবে: ওবায়দুল কাদের

/এআর/