অভ্যন্তরীণ কর্মবিরতি চললেও ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে গেছে দুটি লঞ্চ

লঞ্চবেতন-ভাতা বাড়ানোসহ চার দফা দাবি বাস্তবায়নে সারাদেশের মত পটুয়াখালীতে নৌযান শ্রমিকদের অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি চলছে। পটুয়াখালীর অভ্যন্তরীণ ১৮টি নৌ-রুটে লঞ্চ বা নৌযান চলাচল বন্ধ থাকলেও পটুয়াখালী থেকে ঢাকার উদ্দ্যেশে ছেড়ে গেছে ডাবল ডেকারের দুটি লঞ্চ ‘এমভি সুন্দরবন-১১’ ও ‘এমভি কাজল-৭’।
মঙ্গলবার (২৩ আগস্ট) বিকালে পটুয়াখালী সদর টার্মিনাল থেকে লঞ্চ দুটি ছেড়ে যায়।
নৌ-শ্রমিক সংগ্রাম পরিষদের ব্যানারে ডাকা অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি পালনের জন্য ঢাকাগামী কোনও লঞ্চ পটুয়াখালী ছেড়ে যাবে না বলে শ্রমিকরা ঘোষণা দেয়। কিন্তু দুপুরে মালিকদের নির্দেশে ওই দুটি লঞ্চের দায়িত্বরত শ্রমিকরা তাদের সিদ্ধান্ত পাল্টে লঞ্চ ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়।

এমভি কাজল ৭ লঞ্চের কেরানি তোফাজ্জল হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে জানান,  মালিক নির্দেশ দিয়েছে লঞ্চ বসিয়ে রাখা যাবে না। শ্রমিক সংগঠনের দাবির প্রেক্ষিতে অন্য মালিকরা যেভাবে বেতন ভাতা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেবেন আমাদেরও তাই দেওয়া হবে। তাই আমাদের লঞ্চ ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাচ্ছে।

এদিকে নৌযান শ্রমিকদের অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতির জন্য পটুয়াখালীর অভ্যন্তরীণ ১৮টি নৌ-রুটে লঞ্চ বা নৌযান চলাচল বন্ধ রয়েছে। ফলে নদীপথের যাত্রীরা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। নৌপথে মালামাল আনা নেওয়ার কাজে ব্যবসায়ীরা ঝুঁকির মুখে পড়েছেন।

সোমবার দিনগত রাত ১২টা ১মিনিট নৌ-শ্রমিক সংগ্রাম পরিষদের ব্যানারে ডাকা অনির্দিষ্টকালের এই কর্মবিরতি কর্মসূচি পালন শুরু করেছে পটুয়াখালীর শ্রমিকরাও।

দাবিগুলো হলো- নৌযান শ্রমিকদের মাসিক ন্যূনতম ১০ হাজার টাকা মজুরি নির্ধারণ, কর্মস্থলে দুর্ঘটনায় নিহত শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণ পুনঃনির্ধারণ, নৌপথে সন্ত্রাসী, ডাকাতি, চাঁদাবাজি বন্ধের উদ্যোগ ও নদীর নাব্যতা রক্ষায় পদক্ষেপ গ্রহণ।

পটুয়াখালী জেলা থেকে প্রতিদিন ডবল ডেকারের চার থেকে পাঁচটি লঞ্চ কয়েক হাজার যাত্রী নিয়ে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে যায়। কর্মবিরতির কারণে পটুয়াখালী টার্মিনাল থেকে ঢাকার উদ্দেশে কোনও লঞ্চ ছেড়ে যাবে না। তাই অলস সময় কাটাচ্ছেন নৌযান শ্রমিকরা। এদিকে নৌযান শ্রমিকদের কর্মবিরতির খবরে দূর-দূরান্ত থেকে আসা যাত্রীরা ভীর জমিয়েছেন যাত্রীবাহী বাস কাউন্টারগুলোয়।

প্রসঙ্গত, গত ২৬ এপ্রিল নৌযান শ্রমিকদের আন্দোলনের কারণে নৌ-মন্ত্রী শাজাহান খান জাতীয় স্কেলের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে বেতন বাড়ানোর ঘোষণা দেন। যেখানে সর্বনিম্ন ৯ হাজার এবং সর্বোচ্চ ১৭ হাজার ১০০ টাকা শ্রমিকদের বেতন ঘোষণা করা হয়। এ সিদ্ধান্তে তখন শ্রমিকরা ধর্মঘট কর্মসূচি স্থগিত করেন। তবে মালিকপক্ষ এ বিষয়টি নিয়ে আদালতে রিট আবেদন করেন। এর আগে মজুরি বাড়ানোসহ ১৫ দফা দাবিতে গত ২০ এপ্রিল থেকে নৌযান শ্রমিক ফেডারেশনের ব্যানারে সারা দেশে নৌযান শ্রমিকরা ধর্মঘট পালন করেন।

ছবি: ফাইল ফটো

আরও পড়ুন: নাটোরে নৌকা ডুবি: ১ জনের লাশ উদ্ধার, আরও নিখোঁজ ৫

/এআর/এফএস/