মনপুরায় ট্রলারসহ ১৫ জেলে অপহৃত, মুক্তিপণ দাবি

জলদস্যুদের হামলার শিকার জেলেনৌকাভোলার মনপুরার মেঘনার বদনার চর ট্রলারসহ ১৫ জেলেকে অপহরণ করা হয়েছে। শনিবার গভীর রাতে হাতিয়ার জলদস্যু আলাউদ্দিন বাহিনী তাদের অপহরণ করেছে। অপহৃত ট্রলার ও জেলেদের ছাড়িয়ে আনতে জনপ্রতি ৫০ হাজার টাকা মুক্তিপন দাবি করা হয়েছে। স্থানীয় আড়তদার ও অপহৃত জেলে পরিবার সূত্র এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। জলদস্যুদের ধরতে হাতিয়া জোনের কোস্টগার্ড অভিযান অব্যহত রেখেছে বলে কোস্টগার্ড সূত্রে জানা গেছে।

গত দুই সপ্তাহ ধরে নদীতে প্রচুর ইলিশ আসায় জেলেরা মেঘনায় ব্যস্ত সময় পার করছেন। এরই মধ্যে প্রতিনিয়ত জলদস্যুদের হামলার শিকার হচ্ছেন মেঘনায় ইলিশ শিকারে যাওয়া জেলেরা। ঈদের পর আবারও জলদস্যুদের হামলায় জেলেদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। মাছ ধরতে যাওয়ার সাহস পাচ্ছেন না জেলেরা। জলদস্যুদের হামলার ভয়ে কেউ মুখ খুলতেও রাজি নন।

মনপুরার রামনেওয়াজ ঘাটের মৎস্য আড়তে ও স্থানীয় আহত জেলে সূত্রে জানা যায়,  প্রতিদিনের মতো সুজন, জামাল, আলাউদ্দিন, শাহ আলম, লোকমান, জাফর, সেলিম, ইলিয়াছ, জাহাঙ্গীর, শাহাবউদ্দিন ও আব্দুল হাই মাঝি বদনার চর সংলগ্ন মেঘনা নদীতে ইলিশ মাছ ধরার জন্য জাল ফেলেন। আগ থেকে ওত পেতে থাকা হাতিয়ার জলদস্যু বাহিনীর প্রধান আলাউদ্দিন, কৃষ্ণ, রুবেল ও আরিফ বাহিনী জাগলার চর থেকে ট্রলার নিয়ে দেশীয় অস্ত্র ও ছররা গুলি ছুড়ে জেলেদের চারদিক থেকে ঘিরে ফেলে।

পরে জলদস্যুরা অস্ত্র তাক করে হামলা চালিয়ে জেলেদের জিম্মি করে। প্রতি ট্রলার থেকে ১ জন করে মাঝিকে অপহরণ করে মোট ১৫ মাঝিকে হাতিয়ার দিকে গভীর জঙ্গলে নিয়ে যায়। এদের মধ্যে ১১জন অপহৃত জেলের নাম পাওয়া গেছে। অপহৃত বাকি ৪ জনের নাম এখনও পাওয়া যায়নি।

আহত জেলে লোকমান জানান জলদস্যুরা তাদের নৌকায় উঠে তাদের বেধরক মারধর করেন। তাদের নৌকা থেকে ১৬ হালি মাছ নিয়ে গেছে। নগদ ৫শ টাকা ও ৩টি মোবাইল সেটও নিয়ে যায়। অপহৃত সব মাঝি মনপুরার বলে জানিয়েছেন তিনি।

স্থানীয় আড়তদার লিটন হাওলাদার ও টিটু ভূইয়া বলেন, ‘মেঘনায় মাছ ধরা অবস্থায় হাতিয়ার জলদস্যু বাহিনীর লোকজন জেলেদের ওপর হামলা চালিয়ে প্রতি ট্রলার থেকে এক জন মাঝিকে অপহরণ করে জনপ্রতি ৫০ হাজার টাকা করে মুক্তিপণ দাবি করছে। প্রায়ই হাতিয়ার জলদস্যু বাহিনী মনপুরার জেলেদের ওপর হামলা চালায়। জেলেদের জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায় করে ছেড়ে দেয়। হাতিয়ার কোস্টগার্ড একটু সোচ্চার হলে জলদস্যুরা জেলেদের ওপর হামলা করার সাহস পেত না।’

স্থানীয় আড়তদার ও জেলেরা নাম না প্রকাশ করার শর্তে বলেন, ‘যেখানে জলদস্যুরা জেলেদের ওপর হামলা চালায় সেখান থেকে কোস্টগার্ডের ক্যাম্প মাত্র দেড় কিলোমিটার। কোস্টগার্ড যদি ইচ্ছে করে তাহলে এক ঘন্টার মধ্যে জলদস্যুদের আটক করতে পারেন।’

এ ব্যাপারে হাতিয়া কোস্টগার্ড স্টেশন ইনচার্জ ল্যাফটেনেন্ট কমান্ডার ওমর ফারুক এ প্রতিনিধিকে জানান, ‘আমরা জলদস্যুদের হামলার ঘটনা শোনার সঙ্গে সঙ্গে মেঘনায় অভিযান শুরু করি। এখনও অপহৃত মাঝি ও ট্রলারটি উদ্ধার করতে আমরা মেঘনায় অভিযান অব্যাহত রেখেছি। আমাদের কয়েকটি টিম ইতোমধ্যে মেঘনার বিভিন্ন চরে অভিযান চালাচ্ছে। এখনও অপহৃত জেলে ও ট্রলার উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।’

এ ব্যাপারে মনপুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শাহীন খান বলেন, ‘আমি বিষয়টি শুনেছি। তবে কতজন মাঝিকে অপহৃত করছে তার সঠিক তথ্য এখনও পায়নি। আমি এব্যাপারে খোঁজ খবর নিচ্ছি।’

আরও পড়ুন-

কুমিল্লায় প্রাইভেট কার খালে, শিশুসহ নিহত ৫

লুই কানের মূল নকশা পেলেই জিয়ার কবর অপসারণ

/এফএস/