নিষেধাজ্ঞার সময় বরিশালে ২৭৩ জেলেকে সাজা

বরিশালনিষেধাজ্ঞার ২২ দিনে বরিশাল বিভাগের ছয় জেলায় ২৭৩ জেলেকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়েছে। জব্দ করা হয়েছে প্রচুর পরিমাণে কারেন্ট জাল। এদিকে, বৃহস্পতিবার থেকেই দক্ষিণাঞ্চলের নদ-নদীতে পুরোদমে শুরু হয়েছে মাছ ধরা।  মৎস্যজীবীদের তৎপরতা আর হাক-ডাকে সরগরম হয়ে উঠতে শুরু করেছে এ অঞ্চলের মাছ-ঘাট ও বাজারগুলো।

মা-ইলিশ রক্ষায় গত ১২ অক্টেবর থেকে  ২ নভেম্বর পর্যন্ত মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা ছিল। এই সময়ে জেলেদের ২০ কেজি করে চাল দেওয়ার কথা থাকলেও এ নিয়ে অভিযোগ করেছেন অনেক জেলে।

মুলাদীর জেলে মইনুল মাঝি বলেন, ‘আমরা মাছ শিকার না করলেও সরকার আমাদের যা দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছিল, তা কিছুই দেয়নি। বরং চাল দেওয়ার নামে আমাদের কাছ থেকে মেম্বাররা ১’শ টাকা করে নিয়েছিল। কিন্তু আমরা কিছুই পাইনি। তবে নিষেধাজ্ঞা শুরুর আগে প্রচুর ইলিশ পাওয়ায় তা দিয়েই পুষিয়ে নিতে হয়েছে। অনেকে আবার পড়েছেন সমিতির দেনায়।’  

বরিশাল বিভাগীয় মৎস্য অধিদফতরের তথ্য মতে, নিষেধাজ্ঞার ২২ দিনের মধ্যে প্রতিদিনই  বিভিন্ন নদীতে উপজেলা এবং জেলা মৎস্য কর্মকর্তারা এ অভিযান পরিচালনা করেন।

বরিশাল বিভাগীয় মৎস্য অধিদফতরের সহকারী পরিচালক আজিজুল হক বলেন, নিষেধাজ্ঞার ২২ দিনে বরিশাল বিভাগে ৯৪২টি মোবাইল কোর্ট, এক হাজার ৮৪৪টি অভিযান, তিন হাজার ৯৪৯ কেজি ইলিশ জব্দ, ২৯ লাখ ২৭ হাজার ৮’শ মিটার কারেন্ট জাল উদ্ধার, ৩৫৭টি মামলা দায়ের এবং ১২ লাখ ৭ হাজার ৩৫০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

এ তথ্যের ভিত্তিতে মৎস্য কর্মকর্তারা বলেন, এবারে নিষেধাজ্ঞায় আমরা সন্তুষ্ট। সচেতনতার কারণে গতবারের ১৫ দিনের নিষেধাজ্ঞার তুলনায় এবারে জেলেদের কারাদণ্ডের পরিমাণ কম।

বরিশাল বিভাগীয় মৎস্য অধিদফতরের সহকারী পরিচালক আজিজুল হক বলেন, ‘গতবারের থেকে এবার মানুষের সচেতনতা অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে, এটা সত্য কথা। বিশেষ করে প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলোতে চেয়ারম্যান এবং ইউপি সদস্যরাও পাহারা দিয়েছে, যাতে করে কেউ ইলিশ শিকার করতে না পারে। আগামীতে জেল জরিমানার পরিমাণ আরও কমবে বলে আমি আশাবাদী।’  

বরিশাল জেলা মৎস্য কর্মকর্তা ড. তপন কুমার পাল জানিয়েছেন, সবার চেষ্টায় ইলিশ নিধন বন্ধের এ নিষেধাজ্ঞায় জেলেরা অনেকটাই সচেতন হয়েছে। চলতি বছরে স্বল্প সময়ে দেশের নদ-নদীতে বিপুল পরিমাণ ইলিশ ধরেছেন জেলেরা। যেসব নদীতে সচরাচর ইলিশ পাওয়া যায় না সেসব নদীতেও ইলিশ পাওয়া গেছে নিষেধাজ্ঞার আগে। তা দিয়েই বেশিরভাগ জেলে পুষিয়ে নিয়েছে তাদের চাহিদা। সরকারি সহায়তা কিছু জেলে বাদে সবাই পেয়েছে।

বরিশাল সদর উপজেলার চরকাউয়া এলাকার জেলে সিদ্দিক বলেন, মাছ শিকার থেকে আমরা এই ২২ দিন বিরত ছিলাম। কিন্তু এই নিষেধাজ্ঞার মধ্যে যারা ইলিশ শিকার করেছেন তারা কোনও জেলে নয়। এরা নিষেধাজ্ঞার সময়ই মাছ শিকারে আসে। যারা নিষেধাজ্ঞার সময় ইলিশ শিকার করে তারা দেশের ভালো চায় না।’

অন্যদিকে, বাংলাদেশ ক্ষুদ্র মৎস্যজীবী জেলে সমিতির সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন শিকদার বলেন, সরকারি বরাদ্দকৃত চাল না পেয়ে নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও অনেক জেলে জেল-জরিমানার কথা ভুলে বাধ্য হয়ে নদীতে মাছ ধরতে নামে।

তিনি বলেন, ‘সঠিক সময়ে সঠিকভাবে চাল বিতরণ করা না হলে ইলিশ শিকার করতে নদীতে নামা জেলের সংখ্যা কমবে না।’

বরিশাল মৎস্য অধিদফতরের মৎস্য কর্মকর্তা (ইলিশ) বিমল চন্দ্র দাস বলেন, ইলিশ রক্ষায় যা করা দরকার তা করা হচ্ছে। জেলেদের জন্য বরাদ্দ চাল ইতিমধ্যে তালিকা অনুযায়ী স্ব-স্ব জেলা, উপজেলা চেয়ারম্যান ও মেম্বারদের মাধ্যমে জেলেদের মাঝে বিতরণ করা হয়েছে। ভবিষ্যতে তা আরও দ্রুত, সুষ্ঠুভাবে এবং যথাসময়ে দেওয়ার ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

/বিটি/