প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত থেকে পুরস্কার নিতে গিয়ে একটি স্কুলভবন নির্মাণ করে দেওয়ার জন্য আবেদন করেছিল বরগুনার বেতাগী উপজেলার হোসনাবাদ ইউনিয়নের জলিশাহাট সরকারি প্রাথমিক বিদালয়ের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র মাইনুল ইসলাম অমিত। তার আবেদনে সাড়া দিয়ে দ্বিতল স্কুলভবন নির্মাণের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়।
সম্প্রতি প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় আয়োজিত উপস্থিত বক্তৃতায় জাতীয় পর্যায়ে তৃতীয় স্থান অধিকার করে মাইনুল ইসলাম। গত ২৯ জানুয়ারি রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত থেকে জাতীয় শিক্ষাপদক পুরস্কার নেয় সে। এসময় স্কুলভবনটি জোয়ার ও বৃষ্টির পানিতে প্লাবিত হয় জানিয়ে একটি বিদ্যালয় ভবন গড়ে দেওয়ার অনুরোধ নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন জানায় ছেলেটি।
আবেদনে মাইনুল উল্লেখ করে, 'আমার বিদ্যালয়টি বেড়িবাঁধের বাইরে পায়রা নদীর শাখা ব্যারের ডোন নদীর তীরে অবস্থিত হওয়ায় জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হয়। এ কারণে আমাদের দৈনন্দিন লেখাপড়া ও খেলাধুলায় ব্যাঘাত ঘটে। আপনার কাছে আমার বিনীত প্রার্থনা, আমরা অতিদ্রুত একটি দ্বিতল ভবন কাম সাইক্লোন সেন্টার পেয়ে উন্নত পরিবেশে লেখাপড়া করতে পারি এ ব্যবস্থা করুন।'
নতুন ভবন নির্মাণের বিষয়ে বরগুনা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, 'প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতির পরপরই বিদ্যালয় ভবন কাম সাইক্লোন সেন্টার নির্মাণের জন্য কাজ শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে আমরা জায়গা নির্বাচন করে মন্ত্রণালয়ে সুপারিশ পাঠিয়েছি। আশা করি, খুব দ্রুত স্কুল কাম সাইক্লোন শেল্টার নির্মাণের কাজ শুরু হবে।'
সাংবাদিকদেরকে মাইনুল ইসলাম অমিত বলেছে, 'প্রধানমন্ত্রী আমার মতো একজন সাধারণ শিশুর আবেদনে সাড়া দিয়ে একটি স্কুলভবন নির্মাণের নির্দেশ দেওয়ায় আমি খুবই আনন্দিত। আমি ঢাকা থেকে আসার আগেই এখানে স্কুলের কাজ শুরু হয়েছে। হোসনাবাদ ইউনিয়নবাসীর পক্ষ থেকে তাকে ধন্যবাদ জানাই।'
জলিশাহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মনিরুল ইসলাম জানান, ১৯৪৩ সালে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর ১৯৭৩ সালে বিদ্যালয়টি জাতীয়করণ হয়। বর্তমানে এ বিদ্যালয়ে ছয়জন শিক্ষক এবং ২৩০ শিক্ষার্থী রয়েছে। বিদ্যালয়টি প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষার কেন্দ্র হিসেবেও ব্যবহার হয়ে আসছে।
প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, 'মাইনুলের আবেদনে প্রধানমন্ত্রী এখানে একটি দ্বিতল ভবন করে দিচ্ছেন, এজন্য আমরা তার কাছে চিরঋনী হয়ে গেলাম।'
জলিশাহাট সরকারি প্রাথমিক বিদালয়ের শিক্ষকরা বলেন, 'প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে বিদ্যালয়টি পানিতে প্লাবিত হলেও কর্তৃপক্ষ কোনও ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি। প্রতিনিয়ত শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা ঝুঁকি নিয়ে ক্লাস করছে। কিন্তু শিশু মাইনুলের আবেদনে সাড়া দিয়ে স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী সমস্যা সমাধানে নতুন দ্বিতল ভবন নির্মাণের নির্দেশ দেওয়ায় আমরা সবাই খুশি। তার প্রতি আমরা সবাই কৃতজ্ঞ।'
মাইনুলের বাবা বরগুনার বেতাগী উপজেলার হোসনাবাদ ইউনিয়নের ব্যবসায়ী মো. আসাদুজ্জামানও প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। একই সঙ্গে ছেলের কৃতিত্বে তিনি আনন্দিত। মাইনুলের মা মোসা. নুরুন্নাহার স্কুল ৩৪ নম্বর জলিশাহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষিকা হিসেবে কর্মরত। এক ভাই এক বোনের মধ্যে মাইনুল বড়। তার ছোট বোন মারজিয়ার বয়স চার বছর।
প্রসঙ্গত, গত বছর ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্টে জয়ের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখায় জাতীয় দলের ক্রিকেটার মেহেদি হাসান মিরাজের পরিবারের জন্য খুলনায় তার গ্রামে একটি বাড়ি বানিয়ে দিতে বলেন প্রধানমন্ত্রী।
/জেএইচ/আপ-এআর/