ব্যবস্থাপনা কমিটির ‘অযৌক্তিক’ সিদ্ধান্তে ৮ মাস বেতনহীন এক শিক্ষক

চাঁদপুরের হাইমচরে একটি মাদ্রাসার ব্যবস্থাপনা কমিটির অযৌক্তিক সিদ্ধান্তে আটকে রয়েছে এক শিক্ষকের বেতন। দীর্ঘ ৮ মাস বেতন থেকে বঞ্চিত শিক্ষক মো. মাহমুদুল হাসান গন্ডামারা এবিএস ফাযিল মাদ্রাসার আরবির প্রভাষক।

গন্ডামারা এবিএস ফাযিল মাদ্রাসাজানা যায়, ২০১৫ সালের ১ অক্টোবর গন্ডামারা এবিএস ফাযিল মাদ্রাসায় আরবি শিক্ষক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়। সেই মোতাবেক ৯ জন প্রার্থী আবেদন করেন। এরপর গতবছরের ২১ মার্চ অনুষ্ঠিত নিয়োগ পরীক্ষায় মাহমুদুল হাসান প্রথম স্থান অধিকার করেন। ওই বছরের ১ জুলাই মাহমুদুল হাসান এমপিওভুক্ত হওয়ার পরও দীর্ঘ ৮ মাস বেতন থেকে বঞ্চিত হয়ে আসছেন।

গন্ডামারা এবিএস ফাযিল মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল মাওলানা মুহাম্মাদ আবদুর রহমান বলেন, ‘শিক্ষক মাহমুদুল হাসান দীর্ঘদিন বেতন না পাওয়ার বিষয়টি দুঃখজনক। তিনি এমপিওভুক্তির পর থেকেই ব্যাংকে নিয়মিত বেতন জমা হচ্ছে। কিন্তু মাদ্রাসা ব্যবস্থাপনা কমিটির সিদ্ধান্তের কারণে শিক্ষক মাহমুদুল বেতন উত্তোলন করতে পারছেন না।’

প্রিন্সিপাল আবদুর রহমান জানান, শিক্ষক মাহমুদুলের নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে চাঁদপুর আদালতে গতবছরের ৬ জুন একটি মামলা দায়ের করা হয়। শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার প্রার্থী মোহাম্মদ আলী বাদী হয়ে এই মামলা দায়ের করেন। এ মামলার জের ধরেই আদালতের কোনও নির্দেশনা না থাকার পরও ব্যবস্থাপনা কমিটির অযৌক্তিক সিদ্ধান্তে আটকে রয়েছে তার বেতন।

শিক্ষক মাহমুদুল হাসান বলেন, ‘আমি নিয়ম মোতাবেক গন্ডামারা এবিএস ফাযিল মাদ্রাসায় আরবি প্রভাষক পদে নিয়োগ পেয়েছি। নিয়োগ কমিটি যখনই আমার কাছে পূর্বের কর্মস্থলের ছাড়পত্র চেয়েছে তখনই আমি তা জমা দিয়েছি। এতে আমার কোনও ত্রুটি ছিল না এবং আমি বিষয়টি জেলা শিক্ষা অফিসকে অবহিত করেছি।’

তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘আমি যখন মাদ্রাসায় নিয়োগ পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করি, তখন আরও কয়েকজন প্রার্থী ছিলেন। ওইসব প্রার্থীদের সাথে মাদ্রাসা ব্যবস্থাপনা কমিটির কারও সঙ্গে আর্থিক লেনদেনের চুক্তি ছিল। ওই চুক্তি অনুযায়ী তাদের নিয়োগ দিতে না পেরে আমার বেতন ইচ্ছাকৃতভাবে আটকে রাখা হয়েছে।’

গন্ডামারা এবিএস ফাযিল মাদ্রাসা ব্যবস্থাপনা কমিটির সহ-সভাপতি ও শিক্ষক নিয়োগ কমিটির আহ্বায়ক মো. শাহজাহান পাটওয়ারী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘যেহেতু আদালতে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে সেই প্রেক্ষিতে আমরা শিক্ষক মাহমুদুল হাসানের বেতন উত্তোলন বন্ধ রেখেছি। আদালত থেকে তার বেতন বন্ধ রাখার জন্য কোনও নির্দেশনা দেয়া হয়নি। মাদ্রাসা ব্যবস্থাপনা কমিটির সিদ্ধান্ত মোতাবেক তার বেতন উত্তোলন বন্ধ রাখা হয়েছে।’

শাহজাহান আরও বলেন, ‘বেসরকারি শিক্ষক নীতিমালায় কি বলা হয়েছে-তা আমার কাছে মুখ্য বিষয় নয়। মাদ্রাসা ব্যবস্থাপনা কমিটি যেই সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তাই চূড়ান্ত।’

মাদ্রাসা ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি হারুনুর রশিদ পাটওয়ারী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আদালতে শিক্ষক মাহমুদুল হাসানের বিষয়টি নিষ্পত্তি শেষে তার বকেয়া বেতন-ভাতা পরিশোধ করা হবে। আমাদের বিরুদ্ধে আর্থিক যেই অভিযোগ করা হয়েছে, তা ঠিক নয়। এই অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট।’

জেলা শিক্ষা অফিসার আবু সালেক বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, “শিক্ষক মাহমুদুল হাসানকে গন্ডামারা এবিএস ফাযিল মাদ্রাসায় যোগদানের জন্য গতবছরের ২৬ এপ্রিল ‘ভূতাপেক্ষিক’ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এরপরও মাদ্রাসা ব্যবস্থাপনা কমিটি কেন ওই শিক্ষকের বেতন উত্তোলন করতে দিচ্ছে না, তা বোধগম্য নয়।”

তিনি আরও বলেন, ‘যেহেতু আদালত থেকে বেতন বন্ধের কোনও নির্দেশনা দেওয়া হয়নি, সেহেতু মাদ্রাসা ব্যবস্থাপনা কমিটি এই ধরনের সিদ্ধান্ত নিতে পারে না। আমি বিষয়টি নিয়ে হাইমচর মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারের কথা বলবো এবং বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে।’

হাইমচর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার জাহিদুর রহমান বলেন, ‘মাদ্রাসা ব্যবস্থাপনা কমিটি এভাবে শিক্ষক মাহমুদুল হাসানের বেতন উত্তোলন বন্ধ রাখতে পারেন না। যেহেতু সরকার থেকে ওই শিক্ষকের জন্য প্রতিমাসে বেতন পাঠানো হচ্ছে, সেহেতু তার বেতন বন্ধ রাখার কোনও সুযোগ নেই। এটি অন্যায়ভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।’

/এমও/