আহতরা হলেন গোবিন্দ ধবল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আ. লতিফ মিয়া, কীত্তিপাশা বাজারের ব্যবসায়ী উত্তম দাস, তার বোন রীনা দাস এবং ভাইয়ের বউ অঞ্জনা দাস। এদের মধ্যে দুইজনকে ঝালকাঠি সদর এবং অপর দুইজনকে বরিশাল শেরে বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
আহত প্রধান শিক্ষক লতিফ মিয়া জানান, সোমবার রাত ১০টার দিকে কীত্তিপাশা এলাকায় সদর উপজেলা চেয়ারম্যান সুলতান হোসেন খান দলবল নিয়ে উত্তম দাসের ঘর থেকে তাকে টেনে হিঁচড়ে বের করে হকিস্টিক দিয়ে বেধরক মারধর করতে থাকে। এ সময় তাকে বাঁচাতে গিয়ে মারপিটে অন্যরা আহত হয়। মারপিটের একপর্যায়ে উপজেলা চেয়ারম্যানের গাড়িতে তাদেরকে ঝালকাঠি থানায় নিয়ে আসা হয়। সেখান থেকে পুলিশ তাদের হাসপাতালে পাঠায়।
ব্যবসায়ী উত্তম দাস বলেন, ‘আমাকে মারধরের একপর্যায়ে বোন রীনা দাস এবং ভাইয়ের বউ অঞ্জনা দাস এগিয়ে আসলে তাদের সুলতান হোসেন খানের লোকজন পিটিয়ে আহত করে। পরে আমাকে ও শিক্ষক আবদুল লতিফকে গাড়িতে তুলে থানায় নিয়ে আসে।’
তবে এ ব্যাপারে উপজেলা চেয়ারম্যান সুলতান হোসেন খান জানান, তাকে হত্যার হুমকি দেওয়ায় ক্ষুব্ধ সমর্থকরা এ ঘটনা ঘটিয়েছে।
এ ব্যাপারে ঝালকাঠি সদর থানার পরিদর্শক (ওসি, অপারেশন) মো.মাহে আলম বলেন, ‘চেয়ারম্যান অভিযোগ করেছেন, ওই শিক্ষক এবং উত্তম দাসসহ এলাকার একদল লোক চেয়ারম্যানকে হত্যার পরিকল্পনা করে। বিষয়টি জানতে পেরে এলাকার লোকজন লতিফ ও উত্তম দাসকে আটক করে থানায় আনে। এ সংক্রান্ত মোবাইল ফোনের কিছু কথোপোকথনও চেয়ারম্যান পুলিশকে দিয়েছেন। তাই এ ব্যাপারে চেয়ারম্যানের পক্ষে থানায় একটি সাধারণ ডায়েরিও রেকর্ড করা হয়েছে।’
তবে শিক্ষক ও ব্যবসায়ী উত্তম দাসের অভিযোগটিও খতিয়ে দেখে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান ওসি মাহে আলম।
ঝালকাঠি সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসক এসএম হাসান মাহামুদ জানান, আ. লতিফের হাত ও পায়ের হার ভেঙে যাওয়াসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।
/বিএল/