ইফতার আয়োজনকে কেন্দ্র করে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। শুক্রবার রাত ১১টার পর থেকে ১২টা পর্যন্ত দফায় দফায় হওয়া সংঘর্ষে উভয় গ্রুপের ৫ কর্মী আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে তিনজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
খবর পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ফাঁড়ি ও বন্দর থানা পুলিশ এবং শিক্ষক ও দলীয় নেতারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই মিজানুর রহমান জানান, ইফতার পার্টির আয়োজনকে কেন্দ্র করে শুক্রবার রাতে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষে কয়েকজন আহত হয়েছেন। আমাদের ভেতরে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। তাই আমরা ক্যাম্পাসের সামনে অবস্থান নেই। ক্যাম্পাস এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কোনও মামলা হয়নি।
ক্যাম্পাস সূত্রে জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের নাঈম হোসেন ইমরানের নেতৃত্বাধীন ছাত্রলীগের একাংশ ইফতার পার্টির আয়োজন করে ক্যাম্পাস এলাকার হাবিব হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্টে।
সম্প্রতি স্থানীয়দের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনায় ও ইফতার পার্টি বর্জন করে ছাত্রলীগের শাওন ও রুজবেলের অনুসারী অপর দুই গ্রুপ।
এ নিয়ে ইফতারের আগেই দুই গ্রুপের মধ্যে দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয়। এক পর্যায় ছাত্রলীগের শাওন ও রুজবেল গ্রুপ এক হয়ে ইমরান হোসেন নাঈম গ্রুপের বিরুদ্ধে লাঠি-সোটা, রডসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ক্যাম্পাসের সামনে অবস্থান নেয়।
এর কিছুক্ষণ পরেই ছাত্রলীগের নাঈম গ্রুপও ক্যাম্পাস এলাকায় দেশীয় অস্ত্র নিয়ে পাল্টা অবস্থান নিলে দুই গ্রুপের মধ্যে তুমুল উত্তেজনা ছড়িয়ে পরে।
এরপর ছাত্রলীগের নাঈম ও শাওন গ্রুপের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ বাঁধলে আল আমিন, সাকিব, এনামুল, নাইমসহ কমপক্ষে ৫ জন আহত হয়। পরে শিক্ষক এবং পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
আহতদের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র আল আমিন, রসায়ন বিভাগের এনামুল এবং মার্কেটিং বিভাগের সাকিব নামের তিনজনকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের অবস্থা উন্নতির দিকে।
এ বিষয়ে ইমরান হোসেন নাঈম বলেন, ‘ইফতার পার্টি নিয়ে একটু ঝামেলা হয়েছে। আমাদের কয়েকজন ছেলেকে মারধর করায় তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।’
তবে শাওন জানিয়েছেন, ‘ইফতার পার্টির আয়োজনকে কেন্দ্র করে এই ঘটনা রাতে হল পর্যন্ত গড়ায়। নাঈমের অনুসারীরা হলের মধ্যে আল আমিন নামের এক ছাত্রকে পিটিয়ে আহত ছাড়াও কয়েকটি কক্ষ ভাঙচুর করেছে।’
/এসটি/