কুমির আতঙ্কে বরগুনার বুড়িশ্বর (পায়রা) নদীতে মাছ ধরা বন্ধ রেখেছেন জেলেরা। নদীতে একাধিক কুমির এসেছে এমন কথা ছড়িয়ে পড়ায় নদীর তীরেও যাচ্ছেন না তারা।
গত শনিবার (২৭ মে) নদীতে প্রথম কুমির দেখতে পান বলে জানান জেলেরা।
কুমির আতঙ্কে জেলেরা বঙ্গোপসাগরের মোহনায় বুড়িশ্বর নদীর জয়ালভাঙ্গা, চন্দনতলা, বগীর বাজার, মৌপাড়া, গাবতলী ও চরপাড়ার ৫ কিলোমিটার এলাকার নদীতে মাছ ধরা বন্ধ করে দিয়েছেন। দিনের বেলা দুই-একজন জেলে নদীতে গেলেও রাতে কেউই যাচ্ছে না।
এ ব্যাপারে ছোটবগী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. তৌফিকুজ্জামান তনু বলেন, ‘ঘূর্ণিঝড় মোরা’র পর নদীতে কুমির এসেছে। জেলেরা ভাসমান অবস্থায় দেখেছে। গত বুধবার পচাকোরালিয়া এলাকার চরে উঠে কিছুটা সময় ছিল বলে স্থানীয় জেলেরা আমাকে জানিয়েছে। এ কারণে জেলেদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।’
বরগুনা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা ওয়াহিদুজ্জামন বলেন, ‘শুনেছি বুড়িশ্বর (পায়ার) নদীতে কুমির এসেছে। সুন্দর বনের কাছাকাছি এ নদীতে কুমির আসতে পারে। এ নদীতে কুমির না থাকলেও আশেপাশের নদীতে কুমির রয়েছে। এ কারণে কুমির দেখে বিচলিত হওয়ার কিছু নেই। নদীতে লবণ পানি আসলে আবার চলে যেতে পারে।’ জেলেরা যেন জালে আটকে কুমির না মারে এ ব্যাপারে তিনি অনুরোধ জানিয়েছেন।
বরগুনার তালতলী উপজেলা রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. সামছুদ্দোহা বলেন,‘নদীতে কুমির এসেছে এটা শুনেছি। তবে এখনো দেখিনি। নদীতে কুমির থাকা স্বাভাবিক। এতে আতঙ্কের কিছু নেই। জেলেদের সাবধানে মাছ ধরতে হবে।’
বরগুনা জেলা প্রশাসক ড. বশিরুল আলাম বলেন, ‘প্রথমে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুকে বিষয়টি জেনেছি। এ বিষয়ে মৎস্য বিভাগ ও বন বিভাগের সঙ্গে কথা বলেছি। জেলেদের আতঙ্ক দূর করতে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’
প্রত্যক্ষদর্শী এক ব্যক্তি জানান, হঠাৎ করে লোকজন কুমির কুমির করে চিৎকার করছিল- এমন সময় নদীর তীরে গিয়ে দুটি কুমির ভাসতে দেখি। এর আগে গত শনিবার (২৭ মে) গাবতলী গ্রামের জেলে আলমগীর শিকদার বুড়িশ্বর নদীতে মাছ ধরতে গিয়ে দুইটি কুমির দেখে ভয়ে মাছ না ধরে বাড়ি ফিরে আসেন। তিনি বিষয়টি সবাইকে জানালে প্রথমে কেউ বিশ্বস করেনি।
বগী এলাকার মো. মন্টু মিয়া জানান, নদীতে দুটি কুমির ভাসতে দেখেছি। একটি একটু বড় ও অন্যটা তার চেয়ে ছোট। সেই থেকে নদীতে পানি আনতেও যাচ্ছিনা।
/এনআই/জেবি