২ হাজারে ১০ তলা বাড়ি, ৩ হাজারে তিন তলা লঞ্চ!

বেল্লালের তৈরি শো-পিস

দুই হাজার টাকায় ১০ তলা ভবন আর ৩ হাজার টাকায় তিনতলা যাত্রীবাহী লঞ্চ পাওয়া যাচ্ছে শুনলে অবাক লাগতেই পারে। ভাবছেন এটাও কি সম্ভব! সত্য নাকি কল্পনা। কিন্তু ঘটনা সত্য। তবে পাকা ভবন নয় বাঁশের তৈরি বাড়ি আর লঞ্চ পাওয়া যাবে এ টাকা। তবে থাকার জন্য নয়, ঘর সাজানোর জন্য। বাঁশ দিয়ে দৃষ্টিনন্দন এসব জিনিসপত্র তৈরি করে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন বরিশালের বেল্লাল সরদার (২৪)। তার নিপুণ হাতের ছোঁয়ায় দৃষ্টিনন্দন হয়ে উঠেছে বাঁশ দিয়ে তৈরি এসব শো-পিস। জাহাজ, মসজিদ ও নৌকা তৈরিতেও তিনি দিয়েছেন নান্দনিকতার ছোঁয়া।

বাবুগঞ্জ উপজেলার চাঁদপাশা ইউনিয়নের কোলচর গ্রামের কাঠমিস্ত্রি আব্দুর রহিম সরদারের তিন ছেলে ও এক মেয়ের মধ্যে বেলাল দ্বিতীয়। আর্থিক সংকটের কারণে এসএসসি পরীক্ষার আগেই বিজ্ঞান শাখার ছাত্র বেল্লালকে কর্মজীবনে নামতে হয়েছে।

বরিশাল নগরীর নবগ্রাম রোডে তার বড় ভাইয়ের সঙ্গে থেকে ইলেক্ট্রিশিয়ানের কাজ শুরু করেন। এ কাজের ফাঁকে তিনি বাঁশ নানা ধরনের কারুকার্যের শৌখিন শো-পিস তৈরির কাজ করেন।

বাঁশ দিয়ে তৈরি সুরম্য নৌকা, চারতলা বিশিষ্ট জাহাজ, বসতঘর, মসজিদসহ প্রায় শতাধিক পণ্য দেখতে এবং কিনতে শৌখিন ক্রেতারা নবগ্রাম রোড সোনামিয়ার পুল সংলগ্ন রফিক মার্কেটে বেল্লালের দোকানে ছুটে যান। যেখানে মাত্র দুই হাজার টাকায় মিলছে ১০ তলা ভবন। আর মাত্র তিন হাজার টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে তিনতলা একটি যাত্রীবাহী লঞ্চ কিংবা পণ্যবাহী জাহাজ।

বেল্লালের হাতের ছোঁয়ায় বাঁশের নির্মিত তৃতীয় ও চতুর্থ তলার লঞ্চে রয়েছেসিঙ্গেল এবং ডাবল কেবিন, সোফা সেট, ডেক ও বাথরুমসহ লঞ্চের ইঞ্জিন রাখাসহ চালকের নির্দিষ্ট স্থান। একইভাবে ভবন তৈরিতেও বেল্লাল রেখেছেন প্রবেশপথসহ ওপরে ওঠার সিঁড়ি, নিচতলায় গাড়ি পার্কিংয়ের সু-ব্যবস্থা, প্রতিটি তলায় আলাদা কক্ষ, দরজা-জানালা ও বাথরুম।

আর্কিটেক বা নেভাল আর্কিটেক যেভাবে নকশা তৈরি করে আঁকাজোকার মাধ্যমে বেল্লাল ঠিক তেমনি তা বাঁশ দিয়ে তৈরি করে দিতে পারেন।

বেল্লাল বলেন, তিনি  প্রথমে বাঁশ দিয়ে একটি কবুতরের খাঁচা তৈরি করেন। পরবর্তীতে শৌখিন সব শো-পিস তৈরি করতে শুরু করেন। তাকে যে কোনও অফিস-আদালত, ভবন-বসতঘর, লঞ্চ-জাহাজ-নৌকা, উড়োজাহাজ ইত্যাদির চিত্র দেখালে তিনি বাঁশ দিয়ে হুবহু সেভাবে তৈরি করে দিতে পারেন।

এসব শো-পিস তৈরি করতে তার ব্যয় হয় দুই থেকে ১২ শ’ টাকা। একটি জাহাজ নির্মাণ করতে তার কমপক্ষে ১৫ দিন, বাড়ি নির্মাণে ১২দিন ও গ্রামের যে কোনও ঘর নির্মাণে তার পাঁচদিন পর্যন্ত সময় লাগে।

শৌখিন ক্রেতা মনির হোসেন, তানভির আহমেদ অভি, মো. মিরাজ, আনোয়ার হোসেন, ফোরকান আহমেদসহ অনেকেই বলেন, বেল্লালের হাতে নির্মিত বাঁশের শো-পিসগুলো দেশ-বিদেশে রফতানিযোগ্য। যে কোনও শৌখিন ক্রেতা এসব শো-পিস দেখলে পছন্দ করবেন।

সরকারি ও বেসরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে বেল্লাল সরদার তার বাঁশ শিল্পের শো-পিসগুলোকে বাণিজ্যিকভাবে বাজারজাত করে বেকার-যুবকদের কর্মস্থানের সুযোগ তৈরি করে দিতে পারেন।

 /এনআই/এসটি/