এদিকে কর্নেল তাহেরের ভাই জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক আনোয়ার হোসেন জানান, ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের ডিআইজি প্রিজন এর অফিস কক্ষে আদালত বানিয়ে কর্নেল তাহের, মেজর (অব.) জলিল, আ স ম আ. রব, মেজর (অব.) জিয়াউদ্দিনের বিচার করা হয়। বিচারে কর্নেল তাহেরের ফাঁসি ও অন্যদের যাবজ্জীবন দেওয়া হয়। বিচার চলাকালে মেজর (অব.) জিয়াউদ্দিন একটি কবিতা লিখেন। ফাঁসির মঞ্চে ওই কবিতা পাঠ করেন কর্নেল তাহের।’
কবিতাটি হল-
“জন্মেছি সারাদেশটাকে কাঁপিয়ে তুলতে কাঁপিয়ে দিলাম
জন্মেছি তোদের শোষণের হাত দুটো ভাঙবো বলে ভেঙে দিলাম
জন্মেছি মৃত্যুকে পরাজিত করবো বলে করেই গেলাম
জন্ম আর মৃত্যুর বিশাল পাথর রেখে গেলাম
পাথরের নিচে শোষক আর শাষকের কবর দিলাম
পৃথিবী,অবশেষে বিদায় নিলাম।”
শনিবার রাতে বাংলা ট্রিবিউনকে অধ্যাপক আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘আমার ভাই কর্নেল তাহের ফাঁসির মঞ্চে দাঁড়িয়ে মেজর (অব.) জিয়াউদ্দিন আহমেদের লেখা এই কবিতাটি পাঠ করেন।’
আহসানুল কবির বাদল বলেন, ‘সেনাবাহিনীর ভেতরে ছিল জাসদের গোপন সংগঠন বিপ্লবী সৈনিক সংস্থা, আর বাইরে ছিল গণবাহিনী। বিপ্লবী সৈনিক সংস্থার প্রধান ছিলেন কর্নেল আবু তাহের। কর্নেল আবু তাহেরের খুবই ঘনিষ্ট ছিলেন মেজর (অব.) জিয়াউদ্দিন আহমেদ। কর্নেল তাহেরের ঘনিষ্ট থাকার সুবাদে অনেক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করতেন মেজর জিয়াউদ্দিন।’ আহসানুল কবির বাদল বলেন, জাসদের সমন্বয় কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ‘৭৫ এর ৭ নভেম্বর সিপাহী জনতার অভ্যুত্থান করা হয়। ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের ডিআইজি প্রিজনের অফিস কক্ষে সামরিক আদালত বসিয়ে কর্নেল আবু তাহেরকে ফাঁসি ও অন্যদের যাবজ্জীবন দেওয়া হয়। এ নিয়ে তখন সারাদেশের মুক্তিযোদ্ধারা আন্দোলন শুরু করলে আ স ম আবদুর রব, মেজর জলিলসহ অন্যদের সঙ্গে মেজর জিয়াউদ্দিনও ১৯৮০ সালে রাষ্ট্রপতির সাধারণ ক্ষমায় মুক্তি লাভ করেন।
উল্লেখ্য, গত ২৯ জুলাই শুক্রবার সিঙ্গাপুরের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মেজর (অব.) জিয়াউদ্দিন মারা যান। বর্ণাঢ্য জীবনের অধিকারী জিয়াউদ্দিন আহমেদ ১৯৬৯ সালে পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে কমিশন লাভ করেন এবং সেকেন্ড লেফটেন্যান্ট পদে যোগদান করেন। মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে জুলাই মাসে পাকিস্থান থেকে পালিয়ে এসে যোগ দেন মহান মুক্তিযুদ্ধে। দায়িত্ব পান ৯ নম্বর সেক্টরের সুন্দরবন অঞ্চলের সাব সেক্টর কমান্ডার হিসেবে। মুক্তিযুদ্ধে সুন্দরবন অঞ্চলে শত্রুদমনে বিরত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার জন্য তাকে ‘মুকুটহীন সম্রাট’ উপাধি দেওয়া হয়। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর তিনি ব্যারাকে ফিরে যান।
মেজর জিয়া মুক্তিযুদ্ধে নিজের ও অন্যদের অংশগ্রহণ এবং যুদ্ধের বিভিন্ন দিক নিয়ে ‘সুন্দরবন সমরে ও সুষমায়’ নামে একটি বই লিখেছেন।
/এফএস/
আরও পড়ুন- মুক্তিযুদ্ধের নবম সাব-সেক্টর কমান্ডার মেজর জিয়াউদ্দিন আর নেই