বরিশালের সীমা রানী হত্যার বিচার চেয়ে স্মারকলিপি

বরিশালযৌতুকের দাবিতে অমানুষিক নির্যাতনের পর হত্যা করা গৃহবধূ সীমা রানীর হত্যাকারীদের বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। রবিবার দুপুরে (৩০ জুলাই) নগরীতে এ বিক্ষোভ শেষে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বরাবর স্মারকলিপি দেওয়া হয়।

জেলা নারী পরিষদের সভাপতি রাবেয়া খাতুন ও সাধারণ সম্পাদক পুষ্প রানী চক্রবর্তীর নেতৃত্বে পরিষদের নেতারা নবনিযুক্ত জেলা প্রশাসক মো. হাবিবুর রহমানের কাছে এ স্মারকলিপি দেন। এসময় জেলা প্রশাসক নারী পরিষদের দাবির বিষয়টি দ্রুত সংশ্লিষ্ট দফতরে পাঠানোর আশ্বাস দেন।

জেলা নারী পরিষদের সাধারণ সম্পাদক পুষ্প রানী চক্রবর্তী জানান, পাঁচ বছর আগে নগরীর ওয়াপদা কলোনির বাসিন্দা দুলাল মালির মেয়ে সীমা রানীর সঙ্গে পটুয়াখালীর গলাচিপার কলাগাছিয়া গ্রামের বাসিন্দা গোপাল চন্দ্র মালির বিয়ে হয়। বিয়ের পর তারা ঢাকার কেরানীগঞ্জে বসবাস করে আসছিল। বিয়ের কিছুদিন পর থেকে যৌতুকের দাবিতে সেলুন ব্যবসায়ী মাদকাসক্ত স্বামী গোপাল চন্দ্র স্ত্রী সীমাকে শারীরিক নির্যাতন শুরু করে। নির্যাতন থেকে মেয়েকে রক্ষা করতে সীমার বাবা বিভিন্ন সময়ে ২ লাখ ৮০ হাজার টাকা গোপালকে দেন।

গত ১৬ জুন স্বামী গোপাল চন্দ্র মালি আরও এক লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে।কিন্তু স্ত্রী সীমা তার বাবার বাড়ি থেকে টাকা আনতে না চাইলে ওইদিন রাতে নির্যাতন করে সীমাকে হত্যা করে স্বামী ও তার স্বজনরা।

বরিশাল নারী পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক প্রতিমা সরকার জানান, এ ঘটনায় ১৯ জুন সীমার মা আরতী রানী বাদী হয়ে ঢাকার কেরানীগঞ্জ থানায় গোপাল চন্দ্র মালি, তার বাবা সুনীল চন্দ্র মালি, মা রেনু মালি, বোন রিনা রানী মালি, তার জামাতা গৌতম চন্দ্র মালি ও কাকা অনিল চন্দ্র মালিকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

মামলার পর কেরানীগঞ্জ থানার পুলিশ গোপাল মালি ও রেনু মালিকে গ্রেফতার করে জেলে পাঠায় । তবে অন্য আসামি এবং তাদের ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসীরা আত্মগোপনে থেকে মামলা প্রত্যাহারের জন্য বাদীকে নানানভাবে হুমকি দিচ্ছে বলে নারী পরিষদ নেত্রী জানান।

/এআর/