মাঝের চরের একমাত্র স্কুলটিকে জাতীয়করণের দাবি

majherchor-1চারপাশে নদীবেষ্টিত বরগুনার একটি চরের নাম মাঝের চর। সেখানে চার থেকে পাঁচ হাজার লোকের বসবাস। কিন্তু শিশুদের জন্য কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নেই। ২০১২ সাল থেকে তারা নিজেরাই একটি প্রাথমিক স্কুল স্থাপন করে শিশুদের পড়াচ্ছেন। কিন্তু শিক্ষকরা কোনও বেতন পাননি আজ পর্যন্ত। তাই স্কুলটিকে জাতীয়করণ করা ও শিক্ষার্থীদের জন্য সরকারি প্রাথমিক স্কুলের যাবতীয় সুযোগ সুবিধা বরাদ্দ করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
এ ব্যাপারে কাকচিড়া ই্‌উনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আলাউদ্দিন পল্টু বলেন,‘মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন এ চরটির অর্ধেক পড়েছে আমার ইউনিয়নে। অন্য অংশ আরেক ইউনিয়নে। দুই ইউনিয়নের কয়েকটা গ্রাম আছে চরটিতে। তবে কাকচিড়া ইউনিয়নের মধ্যে চরের প্রায় দুই হাজার মানুষ বাস করে।’ চরের বাকি অংশেও প্রায় সমান সংখ্যক মানুষের বসবাস বলেও জানান তিনি।
majherchor-2স্থানীয়রা জানান, মাঝের চরের একটি অংশ বরগুনা সদর উপজেলায় এবং অন্য অংশটি পাথরঘাটা উপজেলার অন্তর্গত। দুই উপজেলার অংশ হওয়ায় সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন এ চরের মানুষ। তাছাড়া নদী পার হয়ে স্কুলে যাওয়াটাও শিশুদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ বলে জানান তারা।
একই গ্রামের অভিবাবক মো. শাহীন ও তাসলিমা বেগম বলেন, ‘একসময় স্কুল ছিল না এখন স্কুল হইছে। শিক্ষকরা বেতন পান না। তারপরও তারা আমাদের ছেলেমেয়েদের পড়াচ্ছেন।’ আরও কয়েকজন অভিভাবকের সঙ্গে কথা বলেও একই তথ্য জানা যায়। শিশুদের জন্য বই ও উপবৃত্তিসহ সরকারি সুবিধা দেওয়ার জন্য সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন তারা।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. দুলাল বলেন, ‘এখানে এখন সাইক্লোন শেল্টার কাম বিদ্যালয় ভবন নির্মিত হয়েছে। আমরা এ বছরে প্রথমবারের মতো শিক্ষার্থীদের জন্য সরকারি বই পেয়েছি। এছাড়া আর কোনও সুযোগ সুবিধা পাই না। বেতন ছাড়াই বছরের পর ধরে পাঁচ জন শিক্ষক নিয়ে স্কুলটি চালাচ্ছি।’ এসময় স্কুলটি জাতীয়করণের দাবি জানান তিনি।
majherchor-3এ ব্যাপারে মাঝের চর বিদ্যালয়ের শিক্ষক দুলিয়া আক্তার জানান, সিডরের পর এ এলাকাটি পরিচিতি লাভ করে। পরে ২০১২ সালে চরের শিক্ষার্থীদের পড়ানোর জন্য একটি উন্নয়ন সংস্থার উদ্যোগে টিনের ঘরে স্কুলটি প্রতিষ্ঠা করা হয়। তারা দু’বছর পর চলে গেলেও স্থানীয়রা স্কুলটি আর বন্ধ করেননি। স্থানীয়দের উদ্যোগেই স্কুলটি চলছে। প্রথম শ্রেণি থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত প্রায় ১শ ২০ জন শিক্ষার্থী সেখানে অধ্যায়ন করছে। তবে এখন সরকারি সাইক্লোন সেন্টারে স্কুলের কার্যক্রম চালানো হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
এ বিষয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আব্দুল মজিদ জানান, কাকচিড়া মাঝের চরে একটি সাইক্লোন শেল্টার কাম বিদ্যালয় থেকে এ বছর শিক্ষার্থীদের জন্য বইয়ের চাহিদাপত্র দিয়েছিল। আমরা চাহিদাপত্র অনুযায়ী বই দিয়েছি। তবে সেখানে আগে থেকে কোন স্কুল ছিল কিনা তা আমার জানা নেই। যদি বিদ্যালয়টি সরকারি নিয়ম-নীতি অনুসরণ করে জাতীয়করণের জন্য আবেদন করে তাহলে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করার কথাও জানান তিনি।
/এএইচ/আপ-এআর/