কীর্তনখোলার ভাঙনে বিলীন হচ্ছে চরকাউয়া বাজার

ভাঙন কবলিত চরকাউয়া বাজার

কীর্তনখোলা নদীর ভাঙনে রবিবার রাত থেকে বিলীন হতে শুরু করেছে বরিশাল নদী বন্দরের বিপরীত দিকের চরকাউয়া বাজারের অংশ বিশেষ। ভাঙন রোধে স্থায়ী কোনও ব্যবস্থা পানি উন্নয়ন বোর্ড গত ২ বছরেও নেয়নি বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।

পাউবো’ বরিশাল দফতরের নির্বাহী প্রকৌশলী আবু সাঈয়ীদ জানান, ভাঙন হঠাৎ তীব্র হওয়ার খবর শুনে তারা ভাঙন-কবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছেন। আপদকালিন ব্যবস্থা হিসাবে সেখানে জিও-ব্যাগ ডাম্পিং-এর ব্যবস্থা নিচ্ছেন।

’পাউবো’ বরিশাল দফতরের নির্বাহী প্রকৌশলী জানান, এই এলাকা বরিশাল শহরের বিপরীত দিকে হওয়ায় ভাঙন প্রতিরোধে স্থায়ী ব্যবস্থা হিসেবে এটাকে ‘বরিশাল শহর রক্ষা-৫’ এর আওতায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ’একনেকে’র অনুমোদন হলেই এটা বাস্তবায়নের কাজ শুরু করা হবে।

বরিশালের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. জাকির হোসেন বলেন, ‘জেলা প্রশাসকের গৌরনদী উপজেলায় নির্ধারিত কর্মসূচি থাকায় ভাঙন কবলিত এলাকায় সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার  এবং ত্রাণ ও পূর্ণবাসন কর্মকর্তাকে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। তবে জেলা প্রশাসকে নিয়ে তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করবেন।’

এই কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘নদী ভাঙনের শিকার ব্যবসায়ীদের দ্রুত সহায়তার ব্যবস্থা করা হবে।’

ভাঙন কবলিত চরকাউয়া বাজার ২

স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান এনামুল হক সাগর বলেন, ‘ছয় দশকের বেশি সময় ধরে ভাঙছে বরিশালের কীর্তনখোলা নদী। এরই ধারাবাহিকতায় প্রতিবছরের  মতো এবারও ভাঙছে ।’

রবিবার মধ্যরাত থেকে ভাঙন তীব্র হয়ে চরকাউয়া বাজারের মুদি ও মনোহারি দোকানসহ হোটেল-রেঁস্তোরা মিলিয়ে ২৫টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। এর ফলে ৩ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। অব্যাহত এ ভাঙনের ফলে ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে মাদ্রাসা ও ইউনিয়ন পরিষদ ভবনসহ বেশ কিছু ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান।

তিনি জানান, এখন ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ভাঙন মাত্র ৬ ফুট দূরে আছে। ভাঙন চলমান থাকায় এই ভবনও বিলীন হবে। কীর্তনখোলার হাত থেকে চরকাউয়া বাজার রক্ষার জন্য গত বছরও ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে ১২ লাখ টাকার কাজ করা হয়েছেন।

কীর্তনখোলার ভাঙনে হামিদিয়া ফাজিল মাদ্রাসার চারটি ভবন রবিবার রাতে নদী গর্ভে বিলীন হয়েছে। অন্য ভবনও ঝুঁকির মধ্যে আছে। যে কারণে মাদ্রাসাটি বৃহস্পতিবার পর্যন্ত বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে বলে জানান মাদ্রাসার আরবি বিভাগের প্রভাষক মো. নূরুল হুদা। 

এখানকার হোটেল ব্যবসায়ী রহিমা বেগম বলেন, ‘রবিবার রাতে  দোকান পাট বন্ধ করে যখন বাড়ি ফিরছি ঠিক তখনই চরকাউয়া বাজারে ভাঙন শুরু হয়েছে।’ ভাঙনের কবলে পড়ায় তিনি কোনও মালামাল রক্ষা করতে পারেননি বলে জানান। একই কথা জানালেন,  মিষ্টির দোকানি রনজিৎ সরকার।  দুইটা ঘরের পরেই তার দোকান ছিল যা এখন কীর্তনখোলায় ভাসছে। কোনও মালামাল রক্ষা করতে পারেননি। এখন কি করবেন, কোথায় যাবেন এই চিন্তায় করছেন।

বরিশাল বন্দর থানার ওসি ফয়সাল আহমেদ বলেন, ‘ভাঙন ঝুঁকিতে থাকা জনতার সম্পদ সরিয়ে নেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তার করা হচ্ছে।

/জেবি/

আরও পড়তে পারেন: ধর্মান্তরিত মুক্তিযোদ্ধা হত্যা মামলা: দুই জেএমবি সদস্যের উপস্থিতিতে শুনানি অনুষ্ঠিত