বুধবার বরিশাল নগরীর হাটখোলার কামারপট্টিতে গিয়ে দেখা যায়, ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থেকেও মিলছে না ক্রেতা। ফলে পুরনো দা-বটিতে পাইন (ধার) দেওয়ার জন্য আসা লোকজনদের নিয়েই ব্যস্ত সময় পার করছেন এখানকার কারিগররা।
রাম কর্মকার নামে এক কারিগর জানান, আগে মানুষ নিজেরাই নিজেদের কোরবানির পশু জবাই ও কাটার কাজ করতেন। এখন তা করে দিচ্ছে পেশাদার কসাইরা। তাই অনেকে দা-বটি কিনছেনই না।
কারিগর হরিপদ কর্মকার বলেন, ‘দিন দিন লোহা ও কয়লার দাম বেড়েই চলেছে। তাই চাপাতি, দা-বটি, ছুরির দামও বাড়তির দিকে। আগে মানুষ প্রতি বছর কোরবানির সময় এগুলো নতুন করে কিনতেন। এখন পণ্যগুলোর দাম বেড়ে যাওয়ায় ৩০/৪০ টাকা খরচ করে পুরাতন চাপাটি দা-বটি, ছুরিই পাইন দিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন।’
তিনি বলেন, এ পেশার সঙ্গে জড়িতরা দিন দিন খারাপ অবস্থায় চলে যাওয়ায় হাটখোলায় এখন পাঁচজন কামার কোনও মতে টিকে আছে। অথচ ৩০ বছর আগে এখানে ১০/১৫ জন কামার ছিল।
বরিশাল নগরের নাজিরের পোল এলাকায় সবচেয়ে বেশি খাটিয়া বিক্রি ও আমদানি করা হয়ে থাকে। এখানে প্রতি পিস খাটিয়া আকার ভেদে ১৫০ টাকা থেকে ৭০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
তেঁতুল গাছের খাটিয়া ভালো হয় বলে জানালেন খাটিয়া ব্যবসায়ীরা।
খাটিয়া ব্যবসায়ী নাদিম জানান, তেঁতুল গাছের খাটিয়ার কদর বেশি থাকলেও এই গাছের আমদানি কম থাকায় দাম বেশি। গাছের দাম বাড়ায় খাটিয়ার দাম বেড়েছে। বর্তমানে ক্রেতা না থাকলেও ঈদের দু-একদিন আগে খাটিয়ার বাজারের মূল বেচা-বিক্রি হয়। তবে দাম বাড়ায় খাটিয়ার বেচা-বিক্রি অনেক কমে গেছে বলে জানালেন এই ব্যবসায়ী। তিনি বলেন, আগে যেখানে দুইটা খাটিয়া লাগতো সেখানে এখন একটা দিয়েই কাজ চালিয়ে নিচ্ছেন মানুষ।
তিনি জানান, বর্তমানে সাড়ে তিন হাত থেকে সাড়ে চার হাত হোগলা পাটি বিক্রি হচ্ছে-৮০-১০০ টাকায় আর সাড়ে চার হাত/সাড়ে পাঁচ হাত হোগলা পাটি বিক্রি হচ্ছে ১০০-১২০ টাকায়। আর সাজি আকার ভেদে ১২০ থেকে ২০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
তবে কোরবানির এক-দুদিন আগে হোগলা-পাটির বাজারে বেচা-বিক্রি বেড়ে যাবে বলে আশাপ্রকাশ করেছেন হাটখোলার পাটি-সাজি ব্যবসায়ী মিঠুন সাহা।
সার্বিক বিষয়ে আবুল কালাম নামে এক ক্রেতা বলেন, দিন দিন কোরবানির আনুসাঙ্গিক পণ্যের দর বেড়ে যাওয়ায় বিকল্প চিন্তা করতে বাধ্য হচ্ছেন সীমিত আয়ের লোকজন।