মনোয়ার হোসেনের খালু আবদুল জলিল মৃধা জানান, ২০০৩ সালে মনোয়ার হোসেন সেনাবাহিনীতে যোগ দেন। সব শেষ প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্ট থেকে রমজানের প্রথম দিকে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনে আফ্রিকার মালিতে যান তিনি। ২২ সেপ্টেম্বর সেখানে বিদ্রোহীদের সঙ্গে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। পরে ক্যাম্পে ফেরার পথে সন্ত্রাসীদের পুঁতে রাখা বোমার বিস্ফোরণে গাড়িতে থাকা সাত জনের মনোয়ারসহ তিন জন নিহত ও বাকি চার জন আহত হন।
মনোয়ার হোসেনের মা রওশন আরা বেগম জানান, তার স্বামী ২০০৩ সালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ের পুলিশ ফাঁড়িতে ডিউটিরত অবস্থায় আগারগাঁও বস্তিতে দুই গ্রুপ সন্ত্রাসীদের গোলাগুলিতে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন। এর আগে, তার বড় ছেলে আনোয়ার হোসেন ২০০০ সালে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাকতোত্তর পরীক্ষা দেওয়ার জন্য বাবার কাছে ফরম ফিলআপের টাকা আনতে গিয়ে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হন। মেজ ছেলে মনোয়ারেরও অপমৃত্যু ঘটলো।
মনোয়ারের স্ত্রী ইভা আক্তার বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ঘটনার আগের দিনও তার সঙ্গে কথা হয়েছে মনোয়ারের। মনোয়ার তখন ক্যাম্পে। পরের দিন সেনা সদর দফতর থেকে ফোন করে তার কাছে মনোয়ার হোসেনের ভাই ও বোনের মোবাইল নম্বর চায়। তখনই তার মনে সন্দেহের দানা বাঁধে। দুই শিশুসন্তান নিয়ে ইভা কী করবেন, সেই দুশ্চিন্তায় এখন তার মনে।
৬২ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের লেফটেন্যান্ট কর্নেল নাহিদ জানান, শনিবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বিকালে মনোয়ারের মরদেহ মালি থেকে ঢাকা পৌঁছেছে। রবিবার সকালে সেনা সদর দফতরে প্রথম জানাজা শেষে বরিশালের গ্রামের বাড়ি সদর উপজেলার চন্দ্রমোহনে নিয়ে আসা হয় মরদেহ। সেখানে রাকে দাদার কবরের পাশে মনোয়ারকে দাফন করা হয়।