বরিশালে সাবেক রাষ্ট্রপতি আবদুর রহমান বিশ্বাসের জানাজা নামাজ সম্পন্ন

বরিশালে সাবেক রাষ্ট্রপতি আবদুর রহমান বিশ্বাসের জানাজা সম্পন্নবরিশাল জিলা স্কুল মাঠে সাবেক রাষ্ট্রপতি আবদুর রহমান বিশ্বাসের জানাজা নামাজ সম্পন্ন হয়েছে। শনিবার (৪ নভেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টায় তার জানাজা নামাজ সম্পন্ন হয়।

আকাশ পথে বরিশাল বিমান বন্দর হয়ে তার মরদেহ জিলা স্কুল মাঠে পৌঁছার পর প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিভাগীয় কমিশনার, পুলিশের ডিআইজি, জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা  নিবেদন করা হয়। এরপর আওয়ামী লীগ, বিএনপি, আইনজীবী সমিতিসহ বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন তার মরদেহে শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করে।

জেলা বিএনপির সভাপতি এবায়দুল হক চাঁন বলেন, ‘বরিশালে বিএনপির অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন আব্দুর রহমান বিশ্বাস। তার হাত ধরেই আমরা রাজনীতিতে এসেছি। তার মৃত্যুতে আমাদের অপূরণীয় ক্ষতি হলো।
এসময় কেন্দ্রীয় বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও বরিশাল নগর বিএনপির সভাপতি মজিবর রহমান সরোয়ার, নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি গোলাম আব্বাস চৌধুরী দুলালসহ সমাজিক সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

জানাজা নামাজ শেষে আবদুর রহমানের মরদেহ হেলিকপ্টারে করে ঢাকার বনানী গোরস্থানে দাফন করা হবে বলে জানিয়েছেন তার ছেলে শিবলী বিশ্বাস।

এর আগে, শুক্রবার (৩ নভেম্বর) রাত ৮টা ৪০ মিনিটে রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আবদুর রহমান বিশ্বাস মৃত্যুবরণ করেন।

সাবেক এই রাষ্ট্রপতির মৃত্যুতে মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করে গভীর শোক এবং সমবেদনা জানিয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।

উল্লেখ্য, ১৯২৬ সালে ১ সেপ্টেম্বর আবদুর রহমান বিশ্বাস বরিশালের শায়েস্তাবাদে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইতিহাসে স্নাতক (সম্মান) ও এমএ ডিগ্রি লাভ করেন। ১৯৫০-এর দশকে আইন পেশায় যোগ দেন তিনি। এরপর ১৯৬২ ও ১৯৬৫ সালে পূর্ব পাকিস্তান আইন সভার সদস্য নির্বাচিত হন।

১৯৬৭ সালে আবদুর রহমান বিশ্বাস পাকিস্তান প্রতিনিধিদলের সদস্য হিসেবে জাতিসংঘের ২২ তম অধিবেশনে যোগ দেন।

১৯৭৯ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি বরিশাল থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৭৯-৮০ সালে তিনি জিয়াউর রহমানের মন্ত্রিসভায় পাটমন্ত্রী ও ১৯৮১-৮২ সালে বিচারপতি আব্দুস সাত্তারের মন্ত্রিসভায় স্বাস্থ্যমন্ত্রী ছিলেন। ১৯৯১ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এরপর ৪ এপ্রিল ১৯৯১ তিনি জাতীয় সংসদের স্পিকার নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯১ সালে তিনি বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। ১৯৯৬ সালের ৮ অক্টোবর তার মেয়াদ শেষ হয়।