শেবাচিম হাসপাতালে ফের কর্মীদের সঙ্গে রোগীর স্বজনের সংঘাত

বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে স্বজনদের ভাঙচুর এবং হাসপাতালকর্মীরা স্বজনদের মারধর করেছে, এমন পাল্টাপাল্টি অভিযোগ উঠেছে। রবিবার দুপুরে এসব ঘটনা ঘটে। এতে হাসপাতাল এলাকায় আতঙ্ক ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. আব্দুল কাদের, স্থানীয় কাউন্সিলর মজিবুর রহমান ও থানা পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতাল (ফাইল ছবি)হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. আব্দুল কাদের জানান, পরিস্থিতি বর্তমানে স্বাভাবিক রয়েছে। বিষয়টি তারা খতিয়ে দেখছেন। পরবর্তীতে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

ইন্টার্ন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি রাজু আহমেদ জানান, মূল ঝামেলা নার্সদের সঙ্গে হয়েছে। কিন্তু রোগীর স্বজনরা ওয়ার্ডের ভেতরে এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে যে সবাই আতঙ্কে ছিলো। ওই পরিস্থিতিতে ওয়ার্ডের গেট আটকে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।

হাসপাতাল ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, নগরের কাউনিয়া এলাকার মো. জালাল জমাদ্দারের ছেলে মো. কবির জমাদ্দার (৪৫) স্ট্রোক করে ২৪ নভেম্বর বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ৪র্থ তলার মেডিসিন-৪ ইউনিটে ভর্তি হন। শারিরীক অবস্থার অবনতি হলে রবিবার সকাল ১১টায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। মৃত্যুর পর স্বজনরা তার মৃতদেহ নিয়ে চলে যাওয়ার সময় নার্স ও চিকিৎসকদের দরজায় এলোপাথারি লাথি মারতে থাকে এবং জানালার গ্লাস ভেঙে দেয়। এসময় তারা অকথ্য ভাষায় হাসপাতালে কর্মরতদের গালগাল করতে থাকে। এসময় মৃতের ছেলে পাভেলসহ ২ স্বজনকে মারধর করে কর্তব্যরতরা।

এ বিষয়ে ওয়ার্ডে দায়িত্বরত নার্সরা জানান, মারা যাওয়ার পরও পরিস্থিতি স্বাভাবিক ছিলো। কিন্তু মৃতদেহ নেওয়ার সময় ১৫/২০ জন স্বজন এসে পরিস্থিতি অস্বাভাবিক করে ওয়ার্ডে সাধারণ রোগীদের মাঝে আতঙ্ক সৃষ্টি করে। পরে সবাই মিলে এর প্রতিবাদ জানালে চিকিৎসকদেরও লাঞ্ছিত করার চেষ্টা করে মৃতের স্বজনরা। এসময় ২ জনকে আটকে রেখে পুলিশে খবর দেওয়া হয়।

তবে মৃতের ছেলে পাভেল জানান, তাকে আটকে চিকিৎসক ও ওয়ার্ডের অন্য স্টাফরা মিলে মারধর করেছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে তিনি কথা বলতে চাইলেও কেউ তার কথা শোনেনি।

অপর এক স্বজন জানান, শনিবারও রোগীর অবস্থা ভালো বলেই জানিয়েছিল চিকিৎসকরা। আজ হঠাৎ করে তার মৃত্যু কেউ মেনে নিতে পারছিলো না। আর মৃত্যুর আগ মুহূর্তে ডাক্তার তো দূরের কথা নার্স পর্যায়ের কাউকেই পাওয়া যায়নি।