হানাদাররা জঙ্গি বিমান নিয়ে হামলা করেছিল পটুয়াখালীতে

২৬ এপ্রিল ১৯৭১। সোমবার সকালে পাক হানাদাররা জঙ্গি বিমান নিয়ে বোমা হামলা চালায় পটুয়াখালীতে। নিরস্ত্র মানুষের ওপর বিমান হামলার মধ্য দিয়ে শুরু হয় হত্যাকাণ্ড। বোমা হামলা পর একটি হেলিকপ্টার কালিকাপুর এলাকায় অবতরণ করে। সশস্ত্র হানাদাররা সাধারণ মানুষের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। বসত বাড়িতে লুণ্ঠন, অগ্নিসংযোগ করা হয়। চালানো হয় গণহত্যা।

পটুয়াখালীর শহীদ স্মৃতিসৌধওইদিন কালিকাপুর মাদবার বাড়ির শহীদ হয় ১৭ জন, প্রতিরোধ করতে গিয়ে জেলা প্রশাসকের বাসভবনের সামনে শহীদ হন ৬ জন আনসারসহ ৭ জন। এখনও মাদবার বাড়ির গণকবর, জেলা প্রশাসকের বাসভবনের অদূরে আনসারদের গণকবর ও পুরাতন জেলখানার অভ্যন্তরে বধ্যভূমি মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানিদের গণহত্যার নির্মম সাক্ষ্য বহন করছে।

এদিকে শহরের মহিলা কলেজে জেলা নিয়ন্ত্রণ কক্ষ স্থাপন করে মুক্তিযোদ্ধাদের সশস্ত্র প্রশিক্ষণ দেয়ার ব্যবস্থা করেন তৎকালীন জেলা প্রশাসক এম এ আউয়াল। তিনি পুলিশ লাইন থেকে রাইফেল ও গুলি এনে মুক্তিযোদ্ধাদের হাতে তুলে দেন। পরে এজন্য পাকিস্তানিরা তাকে গুলি করে। তবে তিনি প্রাণে বেঁচে যান।

মুক্তিযোদ্ধা মো. শাহজাহান জানন, গলাচিপা থানা থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার পূর্ব-দক্ষিণে প্রমত্তা আগুনমুখা নদী পাড়ের একটি নিভৃত পল্লী পানপট্টি গ্রাম। নিরাপদ এলাকা চিহ্নিত করে মুক্তিযোদ্ধারা সেখানে ক্যাম্প স্থাপন করেন। ১৮ নভেম্বর সকাল ৬টার দিকে পাকিস্তানি মেজর ইয়ামিনের নেতৃত্বে হানাদারদের একটি সুসজ্জিত বাহিনী আক্রমণ করে সেখানে। মুক্তিযোদ্ধারাও পাল্টা আক্রমণ চালায়। শুরু হয় সম্মুখ যুদ্ধ। মুক্তিযোদ্ধাদের তিনদিক থেকে আক্রমণে পাকবাহিনী কোনঠাসা হয়ে পড়ে ও তাদের কয়েকজন হতাহত হয়। বিকাল ৪টার দিকে পিছু হটতে শুরু করে ইয়ামিনবাহিনী।

জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার এম এ হালিম জানান, ৭ ডিসেম্বর সকালে মুক্তিযোদ্ধারা শহরে প্রবেশ করতে শুরু করলে রাজাকার ও আলবদররা অস্ত্রশস্ত্র ফেলে পালাতে শুরু করে। বিনা বাধায় মুক্তিযোদ্ধারা নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয় গোটা এলাকা। দীর্ঘ ৮ মাস যুদ্ধের পর একাত্তরের ৮ ডিসেম্বর পটুয়াখালীতে আনুষ্ঠানিকভাবে উত্তোলন করা হয় স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা।

কমান্ডার এম এ হালিম আরও জানান, মির্জাগঞ্জ থানার দায়িত্বে আলতাফ হায়দারের নেতৃত্বাধীন মুক্তিযোদ্ধা সদস্যরা প্রথম প্রবেশ করে পটুয়াখালী শহরে। আর মুক্তিকামিরা মেতে ওঠেন বিজয়ের মহা উল্লাসে। শহরে নামানো হয় বিজয় মিছিল। সকাল ৯টায় প্রথমে জেলা প্রশাসক কার্যালয় পরে বিকাল ৩টায় শহীদ আলাউদ্দিন শিশু পার্কের আকাশে উত্তোলন করা হয় স্বাধীন দেশের লাল সবুজের পতাকা।