বাংলাদেশ ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট দফতরের মহাপরিচালকের উদ্দেশে বৃহস্পতিবার (০১ ফেব্রুয়ারি) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগের জ্যেষ্ঠ সহকারী সচিব মনিরা হক এ সংক্রান্ত একটি চিঠি পাঠিয়েছেন।
বরিশালের জেলা প্রশাসক মো. হাবিবুর রহমান শুক্রবার জানান, ভিসা ফি মওকুফ করা এবং নাগরিকত্ব দেওয়ার জন্য লুসি হল্টের গত ১৩ ডিসেম্বরের আবেদনপত্র সুপারিশসহ পাঠানো হয়েছিল। সে আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তিনি ১৫ বছরের জন্য অগ্রিম ভিসা পেয়েছেন। এটি আনন্দের বিষয়। লুসি হল্ট নাগরিকত্বের জন্য যে আবেদন করেছেন সেটিরও দ্রুত সমাধান হবে আশা করেন জেলা প্রশাসক।
১৯৬০ সালে তরুণ বয়সে অক্সফোর্ড মিশনের একজন কর্মী হিসেবে স্বল্প সময়ের জন্য কাজ করতে এ দেশে আসেন লুসি হল্ট। তবে বাংলাদেশের মায়ায় আবদ্ধ হয়ে পড়েন তিনি। এখানেই থেকে যান শেষ পর্যন্ত।
১৯৭১ সালে যশোরের ফাতেমা হাসপাতালে চিকিৎসা সেবায় নিজেকে সম্পৃক্ত করে অবদান রেখেছিলেন মহান মুক্তিযুদ্ধে। তবে পাননি কোনো স্বীকৃতি।
লুসি হল্টের জন্ম ও বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ের তারিখ একই: ১৬ ডিসেম্বর। ১৯৩০ সালের ১৬ ডিসেম্বর ব্রিটেনে জন্ম নেন লুসি হল্ট।
মুক্তিযুদ্ধের সময় নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যুদ্ধাহতদের সেবা করার পাশাপাশি দেশের বাইরে বাংলাদেশের মুক্তিসংগ্রামের সপক্ষে জনমত তৈরির লক্ষ্যে চিঠি লিখেছেন। দেশ স্বাধীনের পরও তিনি বাংলাদেশে থেকে যান। নীরবে মানবকল্যাণে কাজ করছেন। তবে বেশির ভাগ সময় কেটেছে তার বরিশালের অক্সফোর্ড মিশন চার্চ ও সংলগ্ন ক্লিনিকে।
২০০৪ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে অবসর নিলেও এখনও তিনি অসহায় শিশুদের মানসিক বিকাশ ও ইংরেজি ভাষা শিক্ষা দেওয়ার কাজে জড়িত। পাশাপাশি শিশুদের জন্য তহবিল সংগ্রহের কাজ করছেন।
চলনে-বলনে পুরোদস্তুর বাঙালি বনে যাওয়া লুসির শেষ ইচ্ছা, মৃত্যুর পর যেন তাকে বরিশালের মাটিতে সমাধিস্থ করা হয়। সে জন্য তিনি কবরের স্থানও ঠিক করে রেখেছেন।
বয়সের ভারে নুয়ে পড়া লুসি হল্ট বিনা-ফিতে দীর্ঘমেয়াদি ভিসা পাওয়ায় আবেগাপ্লুত। তার প্রত্যাশা বাংলাদেশ তাকে দ্বৈত নাগরিকত্বও দেবে।