ছয় বছর পর বরিশাল সফরে আসছেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। তার সফরের সময় সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো সর্বাত্মক প্রস্তুতি নিচ্ছে। শহর জুড়েই থাকছে নিরাপত্তা বলয়। বিশেষ করে ৮ ফেব্রুয়ারি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে চলমান মামলার রায়কে ঘিরে যাতে অপ্রীতিকর কোনও ঘটনা ঘটতে না পারে সেজন্য বেশি সতর্ক রয়েছে আইন শৃঙ্খলারক্ষাকারী সংস্থাগুলো।
বরিশালের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. আবুল কালাম আজাদ জানান, উদ্বোধন এবং ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনযোগ্য বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর একাডেমিক ভবন, বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ সিপাহী মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল একাডেমিক ভবন, শহীদ আবদুর রব সেরনিয়াবাত কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি, বঙ্গবন্ধু হল, শেখ হাসিনা হল, শেরে বাংলা হল, মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার দেশরত্ন শেখ হাসিনা মহাবিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবন, শহীদ আরজু মনি ও শহীদ আবদুর রব সেরনিয়াবাত সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পৃথক সাত তলা দু'টি একাডেমিক ভবন, বরিশাল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ।
এছাড়া রয়েছে বঙ্গবন্ধু অডিটরিয়াম ভবন, সরকারি শিশু পরিবার বালিকা (দক্ষিণ) বরিশালের নিবাসীদের নব নির্মিত ডরমিটরি ভবন, বরিশাল সদরে কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদফতরের আধুনিকায়ন ও শক্তিশালীকরণ শীর্ষক ভবন, বিভাগীয় ও জেলা শিল্পকলা একাডেমি, নগরীর রুপাতলী এলাকায় ১৬ এমএলডি শোধন ক্ষমতাসম্পন্ন সার্ফেস ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট, বিভাগীয় পাসপোর্ট ও ভিসা অফিস, জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) অফিস, মেট্রোপলিটন পুলিশ লাইন্স ও সদর দফতর, নারী কারারক্ষীদের বাসভবন, বিভাগীয় হিসাব নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়, শহীদ আবদুর রব সেরনিয়াবাত টেক্সটাইল ইন্সটিটিউট নির্মাণ, কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (টিটিসি) নির্মাণসহ বিভিন্ন প্রকল্প।
নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়ে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার এসএম রুহুল আমীন বলেন, ‘পুলিশের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীর জনসভাস্থলসহ পুরো বরিশালেই বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সভাস্থল বঙ্গবন্ধু উদ্যান ও শহীদ আবদুর রব সেরনিয়াবাত স্টেডিয়াম সংলগ্ন এলাকা ঘিরে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। নগরের বিভিন্ন ছাত্রাবাস, হোটেল ও বাড়িতে অতিথি পরিচয়ে বহিরাগতদের উপস্থিতি নজরদারিতে আনছে প্রশাসন।’
তিনি জানান, ‘শহীদ আব্দুর রব সেরনিয়াবাত স্টেডিয়াম, বঙ্গবন্ধু উদ্যান ও সার্কিট হাউজকে ঘিরে বরিশালে ৫ সেক্টরে ১ হাজার ৬৮ পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করবে। পাশাপাশি র্যাবসহ অন্যান্য গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরাও নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করবে। বঙ্গবন্ধু উদ্যানসহ আশপাশের এলাকায় শতাধিক সিসি ক্যামেরা লাগানো হয়েছে। প্রতিটি মানুষকে নিরাপত্তা গেটের (আর্চওয়ে) মধ্য দিয়ে জনসভাস্থলে প্রবেশ করতে হবে।
বরিশাল শহর ও শহরতলির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে বসানো হবে চেকপোস্ট। নগরবাসীর ভোগান্তি কমাতে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা ও যান চলাচলে পরিবর্তন আনা হচ্ছে।
বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট গোলাম আব্বাস চৌধুরী দুলাল বলেন, ‘খালেদা জিয়ার রায়কে ঘিরে বিএনপি যেভাবে আস্ফালন করছে, মারবো, ধরবো, পেটাবো বলছে- এটা আমরা বরদাশত করবো না। আমরা রাজনৈতিকভাবে তা মোকাবিলা করবো। রায় রায়ের মতো হবে, বিচার বিচারের মতো হবে। এজন্য কারও কাজ বন্ধ থাকতে পারে না। প্রধানমন্ত্রীর বরিশালের জনসভা জনসমুদ্রে পরিণত করার লক্ষ্যে আমরা কাজ করে যাচ্ছি।’