পাথরঘাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে তিন জেলে পরিবার থেকে সহযোগিতার জন্য আবেদন করা হয়েছে। তবে অন্য নিখোঁজ জেলে পরিবারকেও সহযোগিতার জন্য তাদের খোঁজ নিচ্ছে উপজেলা প্রশাসন। এছাড়াও উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যানও সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন। একইসঙ্গে বরগুনা জেলা প্রশাসক মো. মোখলেছুর রহমান নিখোঁজ জেলে পরিবারকে সহযোগিতার জন্য তার বরাবর আবেদন করার জন্য বলেছেন।
পাথরঘাটা উপজেলা চেয়ারম্যান মো. রফিকুল ইসলাম রিপন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘এসব পরিবার থেকে কখনো উপজেলায় কোনও আবেদন করেনি। যার কারণে বিষয়টি চাপা পড়েছিল। তাদের পরিবার থেকে যোগাযোগ করা হলে সহযোগিতা করা হবে।’
পাথরঘাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘প্রথমে জেলা প্রশাসক আমাকে মোবাইলে ফোনে বিষয়টি জানান। পরে আমার কাছে তিন জেলে পরিবার থেকে আবেদন এসেছে। আমি চাচ্ছি একসঙ্গে ক্ষতিগ্রস্থ জেলে পরিবারগুলোকে ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে বিভিন্ন ভাতার আওতায় নিয়ে আসতে। ক্ষতিগ্রস্থ জেলে পরিবারের খোঁজ-খবর নেওয়া শুরু করেছি। আমরা যত দ্রুত সম্ভব তাদেরকে দীর্ঘ মেয়াদী কোনও ভাতার আওতায় নিয়ে আসবো।’
পাথরঘাটা উপজেলার চরদুয়ানী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. হাফিজ উদ্দিন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমি অসুস্থ থাকায় চিকিৎসার জন্য ঢাকায় এসেছি। বিগত দিনে তাদের নাম কেনও দেওয়া হয়নি আমার জানা নেই। ভিজিডি বা ভিজিএফ দুই বছর করে দেওয়া হয়। চলমান প্রজেক্ট শেষ হতে আর সাত মাস বাকি আছে। এর পর নতুন করে শুরু হলে সেখানে ক্ষতিগ্রস্থ জেলে পরিবার অগ্রাধিকার পাবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘ইউনিয়ন পরিষদে আসা সব সুযোগ-সুবিধায়ও তাদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।’
সাবেক মৎস্য মন্ত্রী ছায়েদুল হক বরগুনার আমতলীতে একটি অনুষ্ঠানে বলেছিলেন, যেসব জেলে নিখোঁজ রয়েছে তাদেরকেও সরকারের পক্ষ থেকে সাহয্য দেওয়া হবে উল্লেখ করে পাথরঘাটা ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী বলেন, ‘কিন্তু আজ পযর্ন্ত কোনও নিখোঁজ জেলের পরিবার সে সাহায্য পায়নি। ’
বরগুনা মৎস্য কর্মকর্তা মো. সাহেদ আলী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘একটি প্রকল্প ছিল, যেখানে জেলেরা মাছ ধরতে গিয়ে মারা গেলে তাদের পরিবারকে সহায়তা করার জন্য ২৫ হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত দেওয়া হতো। তবে, সেখানে লাশ পাওয়া শর্ত ছিল। সে প্রকল্পটির মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। এছাড়া মৎস্য বিভাগের আওতায় নিখোঁজ জেলে পরিবারের আর্থিক সহযোগিতার জন্য কোনও প্রকল্প নেই। তবে আমরা এ বিষয়টি আগামী দিনে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নজরে নিয়ে আসার জন্য চেষ্টা করবো।’
২০১৪ সালে সাগরে এফবি আনোয়ারা নামের ট্রলারডুবির ঘটনায় বরগুনা জেলার ১৩ জেলে নিখোঁজ হন। তিন জেলেকে অন্য একটি ট্রলার তীরে নিয়ে ফিরলেও এখনও ফেরেননি ১০ জেলে। সেই ট্রলারে রানী বেগমের স্বামী ইসমাইল ফরাজী, বড় ছেলে শহিদুল ও মেজ ছেলে সাইফুল ছিলেন। চার বছরেও কোনও খোঁজ মেলেনি তাদের। একই ট্রলারে থাকা জ্ঞানপাড়া গ্রামের সুলতান হাওলাদার ও চাঁন মিয়াও নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজদের মধ্যে জ্ঞানপাড়া গ্রামের পাঁচজন, মঠের খালের একজন, তালতলী উপজেলার একজন ও অন্য তিনজন পাথরঘাটা উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের।