কালবৈশাখীর তাণ্ডব কাটিয়ে উঠতে পারেনি আগৈলঝাড়া

কালবৈশাখী ঝড়ে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় পাকা ধানের ক্ষেতবরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলায় গতকাল মঙ্গলবার (১৭ এপ্রিল) বিকাল থেকে রাত পর্যন্ত বয়ে যাওয়া প্রবল কালবৈশাখী ঝড়ে লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে বিভিন্ন গ্রাম। গ্রামগুলোর ক্ষেতে পাকা ধান, পানের বরজ, গাছপালা, ঘরবাড়ি, পোলট্রি ফার্মগুলো প্রায় বিধ্বস্ত হয়ে পড়েছে। বিদ্যুৎব্যবস্থাও এখন বিপর্যস্ত। স্থানীয়রা বলছেন, কালবৈশাখীর ওই তাণ্ডবের রেশ কাটতে বেশ কয়েকদিন লাগবে।
কালবৈশাখীর প্রভাবে ক্ষয়ক্ষতি কেমন হয়েছে, তা তুলে ধরে রাজিহার ইউপি চেয়ারম্যান ইলিয়াস তালুকদার বলেন, মুহূর্তের মধ্যে টর্নেডোর আঘাতে বড় বাশাইল, ছোট বাশাইল, লখারমাটিয়া, চৌদ্দমেধা, সাজুরিয়া, কান্দিরপাড়, ভাজনা, বাহাদুরপুর, পশ্চিম গোয়াইল, চেঙ্গুটিয়া গ্রাম লণ্ডভণ্ড হয়ে যায়। টর্নেডোর ছোবলে দুইশ একর জমির উঠতি পাকা ধান, ৪০ একর পান বরজ, ৫২টি কাঁচা ঘরবাড়ি, তিন হাজার গাছপালা, ১০টি মুরগির ফার্ম বিধ্বস্ত হয়েছে।
এ ছাড়া, বাকাল ইউনিয়নে একশ একর জমির উঠতি পাকা ধান, পান বরজ, গাছপালা ও ৪৫টি কাঁচা ঘরবাড়ির ক্ষতি হয়েছে বলেও জানা গেছে। ঝড়ের আঘাতে অন্তত ১৫টি বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙে গিয়ে ও বিভিন্ন স্থানে গাছ পড়ে সঞ্চালন তার ছিঁড়ে গিয়ে বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে রাজিহার ইউনিয়নে।
রাজিহার ইউনিয়নের এই বাড়ির ওপর ভেঙে পড়ে গাছকালবৈশাখী ঝড়ের কারণে মঙ্গলবার দুপুরের পরপরই বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। ২৬ ঘণ্টা পর আজ বুধবার (১৮ এপ্রিল) বিকাল ৪টা নাগাদ উপজেলা সদরে বিদুৎ সংযোগ ফিরে এসেছে। তবে প্রত্যন্ত এলাকাগুলোতে কবে নাগাদ বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হবে, তা জানাতে পারেননি আগৈলঝাড়া পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) মো. হযরত আলী।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. নাসির উদ্দিন জানান, উঠতি ফসল ও পান বরজের ক্ষতির শিকার যারা হয়েছে, তাদের তালিকা তৈরি করা হয়েছে। তালিকা অনুযায়ী তারা ক্ষতিপূরণ পাবেন।
এদিকে, কালবৈশাখী ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। বলে জানিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশ্রাফ আহম্মেদ রাসেল। তিনি বলেন, উপজেলার সবখানেই কালবৈশাখী ঝড়ে উঠতি পাকা ধান, পানের বরজ, ঘরবাড়ি, গাছপালার ব্যাপক ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। দ্রুতগতিতে ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণের জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।