স্থানীয় শান্তি বাহিনী প্রধান এমএলএ আ. আজিজ মাস্টারের নেতৃত্বে ১৪ এপ্রিল পটুয়াখালী থেকে পশ্চিমা হানাদার বাহিনী তৎকালীন মাহকুমা বরগুনায় আসে। ১৪ এপ্রিল পাথরঘাটা বিষখালী নদীর চরে প্রথম গণহত্যা চালায় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী।
পরে ২৬ থেকে ২৮ এপ্রিল পর্যন্ত বরগুনা শহর থেকে শত শত মানুষকে ধরে নিয়ে জেলখানায় আটকে রাখা হয়। নারীদের নিয়ে সিএমবি ডাকবাংলোয় পাশবিক নির্যাতন করে হানাদাররা। ২৯ ও ৩০ মে হানাদার মেজর নাদের পারভেজের নেতৃত্বে জেলখানায় আদালত বসিয়ে শত শত বাঙালিকে হত্যা করা হয়। অনেককে মৃত ও অর্ধমৃত অবস্থায় জেলখানার বাইরের উত্তর পাশে তাদেরকে মাটিচাপা দেওয়া হয়। জেলখানায় এই দুই দিনের শত শত শহীদদের মধ্যে মাত্র ৭০ জনের নাম পরিচয় পাওয়া গেলেও অন্যরা এখনও অজ্ঞাত।
সেদিন জেলাখানায় গুলি থেকে কোনওরকম বেঁচে গিয়েছিলেন বরগুনার মো. ফারুক ব্যন্ডার।
তিনি বলেন, ‘সেদিন জেলখানায় আমাদের লাইন দিয়ে দাঁড় করিয়ে হত্যাযজ্ঞ চালায় পাকিস্তানি বাহিনী। তারমধ্যে থেকে আল্লাহর রহমতে আমি বেঁচে যাই। আমাকে তিনবার গুলি করলেও গায়ে কোনও গুলি লাগেনি। পরে আমাকে ছেড়ে দেয় পাকিস্তানি সেনারা।’
দেশ স্বাধীন হওয়ার পরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বাক্ষরিত শোক চিঠি পেয়েছিলো অনেক পরিবার। কোনও ধরনের স্বীকৃতি পায়নি এ সব শহীদ পরিবার। দেওয়া হয়নি মুক্তিযুদ্ধের কোনও সম্মাননা।