বরিশালে স্ত্রী হত্যা মামলায় স্বামীর মৃত্যুদণ্ড

স্ত্রী হত্যার অভিযোগে স্বামীর মৃত্যুদণ্ডের আদেশ

বরিশালে স্ত্রী হত্যা মামলায় ইউসুফ সিকদার নামে এক ব্যক্তিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে বরিশালের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন বিশেষ ট্রাইব্যুনালের বিচারক আবু শামীম আজাদ আসামির উপস্থিতিতে এ রায় দেন। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন বিশেষ ট্রাইব্যুনাল আদালতের স্পেশাল পিপি ফয়জুল হক ফয়েজ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

১৩ জন সাক্ষির সাক্ষ্য-প্রমাণ বিশ্লেষণ করে তিনি এ রায় দেন।

দণ্ডপ্রাপ্ত ইউসুফ সিকদার (৩২) জেলার হিজলা উপজেলার ইন্দুরিয়া গ্রামের হারুন সিকদারের ছেলে।

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন বিশেষ ট্রাইব্যুনাল আদালতের স্পেশাল পিপি ফয়জুল হক ফয়েজ জানান, ২০১২ সালে দণ্ডপ্রাপ্ত ইউসুফ সিকদারের সঙ্গে হিজলার মেমানিয়ার ইন্দুরিয়া গ্রামের ফারুক সিকদারের মেয়ে কুলসুম বেগমের বিয়ে হয়। তাদের সিফাত নামে একটি ছেলে রয়েছে।বিয়ের সময় কুলসুমের বাবা নগদ দুই লাখ টাকা ও এক লাখ টাকা মূল্যের তিনটি গরু যৌতুক হিসেবে দেন। কিন্তু এতে কুলসুমের স্বামীসহ শ্বশুর বাড়ির লোকজন সন্তুষ্ট ছিল না। তারা আরও  দুই লাখ টাকা যৌতুক দাবি করলে কুলসুমের বাবা তা দিতে অস্বীকৃতি জানান। এ কারণে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে ২০১৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি দুপুরে কুলসুমকে মারধর করে পরিকল্পিতভাবে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে।

এ ঘটনার পর কুলসুমের আত্মহত্যার খবর প্রচার করে তার শ্বশুরবাড়ির লোকজন পালিয়ে যায়। খবর পেয়ে ওই বাড়িতে গিয়ে তার বাবা  দেখেন বসত ঘরের চৌকির ওপর মেয়ের মরদেহ পরে আছে।

এসময় তিনি জানতে পারেন তার মেয়েকে যৌতুকের দাবিতে মারধর করে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে এবং ঘটনা ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার জন্য কুলসুম বিষপানে আত্মহত্যা করেছে এমন খবর এলাকায় ছড়িয়েছে। এ ঘটনায় ওই দিনই কুলসুমের বাবা ফারুক সিকদার বাদী হয়ে কুলসুমের স্বামী ইউসুফ সিকদার, শ্বশুর হারুন সিকদার, শ্বাশুড়ি রাহিমা বেগম, চাচা-শ্বশুর জাহাঙ্গীর সিকদার, ননদ রোকেয়া বেগম, ননদের স্বামী হালান বেপারিসহ ছয় জনের বিরুদ্ধে হিজলা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

একই  বছরের ৯ মে হিজলা থানার এসআই মো. আসাদুজ্জামান হাওলাদার শুধু নিহত কুলসুমের স্বামী ইউসুফ সিকদারকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন।