নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ও ভোটকেন্দ্রে সুষ্ঠু ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে পুলিশ-র্যাব ও বিজিবি সমন্বয়ে তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা করা হয়েছে। এছাড়া ১১২টি ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে বাড়তি নিরাপত্তার ব্যবস্থাসহ ১৯ প্লাটুন বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
ইতোমধ্যে শনিবার (২৮ জুলাই) সকাল থেকে বিজিবি সদস্যরা নগরীর বিভিন্ন এলাকায় টহল দিতে শুরু করেছেন। এছাড়া তৎপর রয়েছে র্যাবও। নগরীর বিভিন্ন এলাকায় মোটরসাইকেলে টহল দিচ্ছেন র্যাব সদস্যরা।
এ বিষয়ে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের (বিএমপি) ট্রাফিক বিভাগ সূত্র জানায়, সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বরিশাল নগরীতে মোটরসাইকেলসহ অন্যান্য মোটরযানের ওপর নজরদারি বৃদ্ধি করেছে মেট্রোপলিটন পুলিশ। নগরীর তিনটি প্রবেশমুখে পুলিশের স্থায়ী চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। নগরীর ভেতরে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে সর্বাক্ষণিক চেকপোস্ট বসিয়ে যানবাহনে নজরদারি রাখা হচ্ছে। এছাড়া বহিরাগতদের নির্বাচনি এলাকা ছাড়তে বলা হয়েছে। আবাসিক হোটেলগুলোতে চালানো হচ্ছে তল্লাশি অভিযান।
বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনের সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. হেলাল উদ্দিন জানান, ভোটাররা যাতে পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারেন সেজন্য ১২৩টি কেন্দ্রের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কমতি রাখা হচ্ছে না। আর ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে বাড়তি নিরাপত্তার ব্যবস্থাও করা হচ্ছে।
সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা হেলাল উদ্দিন জানান, প্রতিটি ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকবেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ২২ জন সদস্য। এরমধ্যে অস্ত্রধারী সদস্য সংখ্যা ১০ জন। আর ঝুঁকিপূর্ণ (গুরুত্বপূর্ণ) কেন্দ্রে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকবেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ২৪ জন সদস্য। এরমধ্যে অস্ত্রধারী সদস্য সংখ্যা ১২ জন।
এছাড়া ১৫ প্লাটুন বিজিবি সদস্য ও ৩০০ জন র্যাব সদস্য ভোটকেন্দ্র ও চারপাশের পরিবেশ শান্তিপূর্ণ রাখতে দায়িত্ব পালন করবেন। স্ট্রাইকিং রিজার্ভ ফোর্স হিসেবে বিজিবির আরও ৪ প্লাটুন ও র্যাবের ২০ জন সদস্যকে প্রস্তুত রাখা হবে। আপৎকালীন সমস্যা দেখা দিলে তারা জরুরি ভিত্তিতে সেখানে পৌঁছে পরিস্থিতি সামাল দেবে তারা। এছাড়া আরও থাকছেন ১০ জন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এবং ৪০ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। সুষ্ঠু ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করতে যা প্রয়োজন তা-ই করা হয়েছে বলে জানান সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা হেলাল উদ্দিন।
বরিশাল মেট্রোপলিটন ট্রাফিক পুলিশের পরিদর্শক (টিআই) শামসুল আলম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ট্রাফিক পুলিশের চেকপয়েন্টে মোটরসাইকেল ও অন্যান্য মোটরযানের কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। এ টিমের সঙ্গে পুলিশের ক্রাইম শাখার সদস্যরাও রয়েছেন, যাতে অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র বহনকারীসহ অন্যান্য অপরাধীকে তাৎক্ষণিক আটক করা যায়।’