আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেন, ‘স্বাধীন দেশের সুফল যাতে সবাই লাভ করতে পারেন তার জন্য আমাদের চেষ্টা রয়েছে। আমাদের স্বাধীনতা অর্জন ব্যর্থ হয়নি, বৃথা যায়নি। সরকার মানুষের প্রয়োজন অনুধাবনে সক্ষম। এর কারণ সরকার ব্যবস্থার বিকেন্দ্রীকরণ করা হয়েছে, যেমন- কেন্দ্রীয় সরকারের পাশাপাশি স্থানীয় সরকার হিসাবে জেলা পরিষদ, উপজেলা পরিষদ ও ইউনিয়ন পরিষদসহ নানা স্তরের মাধ্যমে দেশের উন্নয়ন কাজ পরিচালনা করা হচ্ছে। অথচ পাকিস্তান আমলে করাচি বা রাওয়ালপিন্ডিতে বসে কেন্দ্রীয় সরকার দেশ পরিচলান করতো। এটাই হচ্ছে স্বাধীনতা ও পরাধীনতার পার্থক্য।
তিনি বলেন, ‘জনগণ মন্ত্রীদের এখন কাছে পায়। বলতে গেলে প্রতি মাসেই প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রী সাধারণ মানুষের কাছে আসেন। পরাধীন পাকিস্তানে দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ তৎকালীন প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খানকে একবার শর্ষিনায় একনজর দেখার সুযোগ পেয়েছিল। দেশ স্বাধীন হয়েছে বলেই আজকের ছেলেমেয়েরা দোতলা-তিনতলা ভবনে বসে লেখাপড়া শিখছে। ৪০ থেকে ৫০ বছর আগে গাছতলায় বসে শিক্ষাদান করা হতো।
আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেন, ‘জনগণ শেখ হাসিনার সরকারকে আবারও ক্ষমতায় দেখতে চায়। দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ আজ থেকে ৩০/৩৫ বছর আগেও নদীপথে যাতায়াত করতো। এরশাদ সাহেবের আমলে আমাদের এ অঞ্চলের জন্য রাস্তাঘাট, ব্রিজ-কালভার্ট নির্মাণের কথা বললে ঢাকার কর্মকর্তারা বলতেন, নদী-খালের দেশে নৌকার বদলে গাড়ি চলাচলের সুযোগ সৃষ্টি হবে না। আজকে এখান থেকে বাংলাদেশের যেকোনও প্রান্তে যাওয়ার জন্য সড়ক যোগাযোগ সৃষ্টি হয়েছে। আসন্ন নির্বাচনে সারাদেশে নৌকা প্রতীকে যেমন সবাই ভোট দেবেন, তেমনি শেখ হাসিনার সরকারের শরিক দল হিসাবে কাউখালী-ভান্ডারিয়া-ইন্দুরকানিতে জাতীয় পার্টির (জেপি) নির্বাচনি প্রতীক সাইকেলেও ভোট দেওয়া উচিত। কারণ, আমরা এ অঞ্চলে মানুষের জন্য কাজ করার চেষ্টা করেছি। পাশাপাশি এলাকায় যাতে শান্তি বজায় থাকে সেদিকেও খেয়াল রেখেছি।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বাগেরহাট সামাজিক বন বিভাগের ডিএফও মো. সাইদুল ইসলাম, কাউখালী সদর ইউপি চেয়ারম্যান আমিনুর রশীদ মিল্টন, ভাণ্ডারিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান ও জেপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সম্পাদক আতিকুল ইসলাম তালুকদার উজ্জল, কেন্দ্রীয় জেপির প্রচার সম্পাদক হুমায়ুন কবির তালুকদার রাজু, কেন্দ্রীয় যুব বিষয়ক সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় যুব সংহতির সাধারণ সম্পাদক মো. নজরুল ইসলাম, কাউখালী উপজেলা জেপি সভাপতি মো. মাহবুবুর রহমান খান, সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম নসু, উপজেলা প্রকৌশলী হরষিত কুমার সাহা, সয়না-রঘুনাথপুর ইউপি চেয়ারম্যান আবু সাইদ মিয়া মনু, আমড়াজুড়ি ইউপি চেয়ারম্যান শেখ সামসুদ্দোহা চাঁদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
পানিসম্পদমন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু সোমবার কাউখালী উপজেলায় বাশুরী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কাঠালিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পূর্ব আমড়াজুড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, দক্ষিণ-পূর্ব জিবগা সাতুরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পশ্চিম জিবগা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বেকুটিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অ্যাকাডেমিক ভবনের নির্মাণকাজ উদ্বোধন করেন।এছাড়া মন্ত্রী বিজেপি প্রকল্পের আওতায় কাউখালী সদর ইউনিয়নের কাউখালী-নৈকাঠি আরএসবি-ভারানি খাল-জয়কুল আরএইচডি সড়ক এবং বরিশাল বিভাগ পল্লী অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় কাউখালী কলেজ মোড় আর অ্যান্ড এইচ সড়ক থেকে দাসেরকাঠি রফিক মাস্টারের বাড়ি ভায়া আসপর্দ্দি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পর্যন্ত সড়ক এবং বিজেপি প্রকল্পের আওতায় চিড়াপাড়া ইউনিয়নের গাজীরউলা বাজার থেকে নিলতি হাইস্কুল সড়কের নির্মাণকাজ উদ্বোধন করেন।