বিগত পরিষদগুলো নগরবাসীর সঙ্গে প্রতারণা করেছে: বরিশালের মেয়র সাদিক

গত বুধবার (১৪ নভেম্বর) বিকেলে বরিশাল সিটি করপোরেশনের (বিসিসি) চতুর্থ পরিষদের প্রথম সভায় কাউন্সিলর, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং সুধীজনের উপস্থিতিতে দেওয়া বক্তব্যে মেয়র সাদিক আবদুল্লাহ বলেছেন, বাইরে থেকে সিটি করপোরেশন দেখতে যেমনই হোক না কেন ভেতরের অবস্থা তার চেয়েও বেশি খারাপ। এখানে কোন রেকর্ড রুম নেই। কতজন কর্মকর্তা-কর্মচারী আছেন, কত টাকা রাজস্ব আদায় হয়, কী পরিমাণ সম্পদ আছে ইত্যাদি বিষয়ে কেউ স্পষ্টভাবে জানেন না। আগে বেতন দেওয়া হতো নগদ টাকায়। তিনি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট বা চেক ছাড়া কোনও বেতন-ভাতা পরিশোধ করবেন না। কারণ তিনি কোনও দুর্নীতির অভিযোগের দায়ভার নিতে চান না। বিসিসিতে সদ্য যোগদানকারী প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা খাইরুল আলমের সঞ্চলনায় অনুষ্ঠিত পরিষদের প্রথম সভায় প্রধান প্রকৌশলী খান মো. নুরুল ইসলামসহ ৪০ জন সাধারণ ও সংরক্ষিত কাউন্সিলর উপস্থিত ছিলেন।Barisal City Corporation First Meeting PIc 14.11.18

নগর ভবনের হলরুমে অনুষ্ঠিত সভায় মেয়র সাদিক বলেন, সিটি করপোরেশনের বিগত পরিষদগুলো জনগণের টাকায় জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করেছে। বিগত দিনে বিসিসিতে ‘সাগর চুরি’ হয়েছে। সিটি করপোরেশনে স্থায়ী-অস্থায়ী মিলিয়ে ২ হাজার ৬০০ কর্মকর্তা-কর্মচারী আছেন। অথচ নগর ভবনে ৩০০ কর্মকর্তা-কর্মচারীর বসার জায়গাই নেই। একটা পরিকল্পিত নগরী গড়তে দক্ষ জনবল প্রয়োজন। কিন্তু বিসিসিতে সেই দক্ষ জনবল দেখছেন না তিনি। যারা গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন পদে রয়েছেন, তারা সেই সেই পদের যোগ্য কি না তা নিয়েও সংশয় প্রকাশ করেন মেয়র।

মেয়রের ভাষ্য, টাকা কামানোর জন্য তিনি সিটি করপোরেশনে আসেননি। যারা সিটি করপোরেশনকে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান মনে করছেন, তাদের আগেভাগেই বিদায় হওয়া উচিত। কমপক্ষে ৪ বছরের গ্যারান্টি দিয়ে যারা রাস্তা নির্মাণ করতে পারবেন তাদের দিয়েই রাস্তাঘাট নির্মাণ করানো হবে। নইলে সিটি করপোরেশন নিজস্ব জনবল দিয়ে রাস্তাঘাট নির্মাণ করার কথা ভাববে।

বরিশালের মেয়র সাদিক আবদুল্লাহ নগরীর চারপাশ দিয়ে ৪০ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি রিং রোড নির্মাণ এবং সিটি করপোরেশনের আয়তন বাড়ানোর পরিকল্পনার কথাও জানান। সরকারি প্রয়োজন ছাড়া নগরীর মধ্যে কোনও রাস্তার পাশ দিয়ে ড্রেজার পাইপ বসাতে না দেওয়া এবং নগরীর প্রাণকেন্দ্র সদর রোডের অশ্বিনী কুমার হল ও বিবিরপুকুর পাড়ে কোন বিলবোর্ড-ব্যানার স্থাপন করতে না দেওয়ার সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেন তিনি। ব্যক্তিগত খরচে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন শাখার হিসেবের গরমিল অডিট করা, ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট, সদর রোডের সিটি মার্কেট, বঙ্গবন্ধু অডিটরিয়াম, সিসি ক্যামেরা এবং সেবক কলোনি নির্মাণ সংক্রান্ত অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন তিনি।