লাঙ্গল-সাইকেল লাগবে না, নৌকাই চলবে: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা (ছবি: ফোকাস বাংলা)প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘ভবিষ্যতে সাইকেলও লাগবে না, লাঙ্গলও লাগবে না; নৌকাই ঠিক আছে-নৌকাই চলবে।’ বুধবার (১৯ ডিসেম্বর) বিকালে পিরোজপুরে এক জনসভায় ভিডিও কনফারেন্সে এ কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। পিরোজপুর শহরের স্বাধীনতা মঞ্চে এই জনসভা অনুষ্ঠিত হয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ভবিষ্যতে নৌকায় আসবেন এমন শর্তে পিরোজপুর-২ আসনে মহাজোট থেকে জাতীয় পার্টির (জেপি) প্রার্থী আনোয়ার হোসেন মঞ্জুকে আপনারা সাইকেল মার্কায় ভোট দেবেন। সবাই তাকে চেনেন। যদিও তিনি জাতীয় পার্টির (জেপি)। তবে ভবিষ্যতে সাইকেল মার্কার দরকার হবে না, নৌকাই ভালো। আগামীতে নৌকায় আসবেন এই শর্তে সাইকেল মার্কায় ভোট চাই।’

বঙ্গবন্ধুকন্যা বলেন, ‘পিরোজপুরে আওয়ামী লীগের প্রার্থী আছে। আবার মহাজোটেরও প্রার্থী আছে। যদিও মহাজোটের অনেক প্রার্থী নৌকা নিয়ে নির্বাচন করছেন। তবে এখানে মহাজোটের একজন প্রার্থী সাইকেল ও একজন লাঙ্গল নিয়ে নির্বাচন করছেন। আমার নৌকায় সবাই ভোট দেবেন। উনাদের মার্কায়ও ভোট দেবেন। তবে আমরা সাইকেল নৌকায় তুলে নিতে পারবো। উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে স্বাধীনতার স্বপক্ষের শক্তি ক্ষমতায় আসা দরকার।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘টুঙ্গিপাড়ার লাগোয়া একটি জেলা পিরোজপুর। একসময় টুঙ্গিপাড়াও পিরোজপুরের মতো অবহেলিত ছিল। গত ১০ বছরে পিরোজপুরে ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। যুদ্ধাপরাধীর বিচার করে এ অঞ্চল অভিশাপমুক্ত করেছি। ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনে পিরোজপুরবাসীর কাছে ভোট চাই।’

আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, ‘স্বাধীনতা বিরোধীরা যেভাবে অগ্নিসন্ত্রাস করেছে, মানুষ পুড়িয়ে মেরেছে, জঙ্গিবাদ সৃষ্টি করেছে, বাংলাভাই সৃষ্টি করেছে, তাতে তারা একবার ক্ষমতায় আসলে সব উন্নয়ন কর্মকাণ্ড নস্যাত করে দেবে। তারা দেশকে ধ্বংশ করবে। আমরা পদ্মা সেতু নির্মাণ করছি, মেঘা প্রকল্প বাস্তবায়ন করছি, এ কাজগুলো শেষ করতে হবে। ’

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘একটা সেতু নির্মাণ হলে একটা অঞ্চল উন্নত হয়। উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের ধারাবাহিকতা আমরা যাতে বজায় রাখতে পারি সে জন্য নৌকা মার্কায় ভোট চাই।’

এসময় প্রধানমন্ত্রী পিরোজপুরের তিনটি আসনে যাদের মহাজোট থেকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে তাদের পিরোজপুরবাসীর সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন। পিরোজপুর-১ (পিরোজপুর- নাজিরপুর- স্বরুপকাঠী) আসনে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির আইন সম্পাদক অ্যাডভোকেট শ ম রেজাউল করিমকে। তিনি বলেন, ‘শ ম রেজাউল করিমকে আপনারা টকশোতে দেখেছেন। আমি যখন জেলে ছিলাম প্রতিদিন তিনি (শ ম রেজাউল করিম) কোর্টে আমার মামলায় যথেষ্ট অবদান রেখেছেন। তাকে অপনারা ভোট দিয়ে বিজয়ী করবেন।’

পিরোজপুর-২ ( ইন্দুরকানী- ভাণ্ডারিয়া- কাউখালী) আসনে আনোয়ার হোসেন মঞ্জুকে পরিচয় করিয়ে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সবাই তাকে চেনেন। যদিও তিনি জাতীয় পার্টির (জেপি)। তিনি সাইকেল মার্কা নিয়ে নির্বাচন করছেন। তাকে ভোট দেবেন।’

পিরোজপুর-৩ (মঠবাড়িয়া) আসনের প্রার্থী ডা. রস্তুম আলী ফরাজীকে পরিচয় করিয়ে দিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘তিনি একজন ডাক্তার। সততার সঙ্গে কাজ করেন। উনি এখন জাতীয় পার্টির লাঙ্গল মার্কায় গেছেন। তাকে বিজয়ী করুন।

জনসভায় বক্তব্য রাখেন— পানিসম্পদ মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু , অ্যাডভোকেট শ ম রেজাউল করিম, ডা. রস্তুম আলী ফরাজী, পিরোজপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও পিরোজপুর -১ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য এ কে এম এ আউয়াল, পিরোজপুর জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি পিরোজপুর পৌরসভার মো. হাবিবুর রহমান মালেক ও পিরোজপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এম এ হাকিম হাওলাদার।