আগৈলঝাড়ায় সওজের প্রকল্পে ধীরগতি, ঝুঁকিতে ২ সহস্রাধিক কৃষক

সড়ক ও জনপথের উন্নয়ন কাজে মন্থরগতির কারণে বরিশালের আগৈলঝাড়ার দুই সহস্রাধিক কৃষক ধান রোপন করতে পারছেন না। রাজিহার ও গৈলা খালের মুখে দুইটি বাঁধ দেওয়ায় ৩৫টি ব্লক পানি সংকট পড়েছে। আর তাতেই বাধাগ্রস্ত হচ্ছে কৃষিকাজ। দ্রুত বাঁধ কেটে দেওয়া না হলে সংশ্লিষ্ট এলাকার শস্য উৎপাদনের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব হবে না। আগাম বোরো ধান রোপণের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কৃষকরা জানিয়েছেন, বরিশাল সড়ক বিভাগের আওতায় উপজেলা সদর থেকে ঘোষেরহাট পর্যন্ত সড়ক উন্নয়ন ও থানার সামনে ব্রিজের জন্য গাইডওয়াল নির্মাণের লক্ষ্যে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের শ্রমিকরা ১০ থেকে ১২ দিন আগে সংশ্লিষ্ট ওই দুইটি খালে বাঁধ দেয়। বাঁধ দেওয়ার সময় বলা হয়েছিল, স্বল্প সময়ের মধ্যে তা তুলে নেওয়া হবে। এ কারণে কৃষকরা বাঁধ দিতে কোনও ধরনের বাধা দেননি। কিন্তু ওই বাঁধ দেওয়ার পর থেকে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আর ধারে কাছে আসেনি। এমন কি কাজও শুরু করেনি।Barisal Khal Bath PIc 02-01-19 [2]

এদিকে আগাম বোরো ধানের সময় চলে এসেছে। চারা রোপণ করতে গিয়ে ক্ষেতে পানি পাওয়া যাচ্ছে না। রাজিহার ও গৈলা খালের বাঁধের কারণে ৩৫টি ব্লকে পাচ্ছে না পানি। সংশ্লিষ্ট কৃষকরা বলছেন, চাষিদের কথা বিবেচনা করে খালে পানি চলাচলের ব্যবস্থা রাখার দরকার ছিল। কিন্তু ঠিকাদার খামখেয়ালি করে বাঁধ দিয়ে পানি চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে। প্রধান খালে বাঁধ দেওয়ায় শাখা খালগুলোও শুকিয়ে গেছে। ফলে ইরি ব্লকের মেশিনগুলো পর্যায়ক্রমে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।

সেচ কাজের জন্য পৌষ মাস থেকে চৈত্র মাস পর্যন্ত কৃষকদের মেশিন চালানো দরকার। খালে দেওয়া ওই দু’টি বাঁধ দ্রুত অপসারণ না করলে উপজেলা সদরের উরাঞ্চল ও পূর্বাঞ্চল, বিশেষ করে রাজিহার ও গৈলা ইউনিয়নের সমগ্র এলাকা এবং বাকাল ইউনিয়নের আংশিক এলাকায় সেচ বন্ধ হয়ে যাবে। যার প্রভাব পড়বে শস্য উৎপাদনে। আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন কৃষকরা।

উপজেলা উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা সুভাষ চন্দ্র মণ্ডলের ভাষ্য, চলতি বছর উপজেলার পাঁচটি  ইউনিয়নে মোট ৯ হাজার ৬৬৩ হেক্টর জমিতে ইরি-বোরো চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে হাইব্রিড ৬ হাজার ৫ ৪৭হেক্টর ও উফসী ৩হাজার ১১৬ হেক্টর জমি। কৃষি বিভাগ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে ৪৩ হাজার ৩১৩ মেট্রিক টন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় চলতি বোরো মৌসুমে ইতোমধ্যেই ১ হাজার ৭০০ হেক্টর জমিতে আগাম বোরো ধান রোপণ করেছেন কৃষকরা। ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৪৩ হাজার ৩১৩ মেট্রিক টন। তবে সময়মতো এ ধান রোপণ সম্ভব না হলে লক্ষ্যমাত্রায় পৌঁছানো কোনওভাবেই সম্ভব হবে না।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. নাসির উদ্দিন জানিয়েছেন, বাঁধের কারণে সৃষ্ট পানি সংকটের জন্য কৃষকদের চাষাবাদে সমস্যা হওয়ার কথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অবহিত করা হয়েছে। পানির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ও ব্লকের তালিকাও তাকে দেয়া হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিপুল চন্দ্র দাস বলেছেন, বাঁধের কারণে বড় ৩০ থেকে ৩৫টি ব্লকের পাশাপশি আরও অনেক ছোট ব্লক ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এ কারণে বরিশাল সড়ক ও জনপথ কর্তৃপক্ষ, সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার, জেলা প্রশাসক এবং স্থানীয় সংসদ সদস্যের সহযোগিতায় সমন্বয় সাধনের চেষ্টা চলছে।

এ ব্যাপারে কথা বলার জন্য বরিশাল সড়ক ও জনপথের নির্বাহী প্রকৌশলী খন্দকার গোলাম মোস্তফার মোবাইলে একাধিবার কল দেয়া হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।