বরিশালে মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতার অর্থ নিয়ে ধোঁয়াশা

তিন বছর অতিবাহিত হয়ে গেলেও এক মাসের ভাতা বাবাদ ৩ কোটি ২২ লাখ ৮০ হাজার টাকা আজও পাননি বরিশালের ৬ হাজার ৪৫৬ জন মুক্তিযোদ্ধা। সংশ্লিষ্টদের দাবি, মন্ত্রণালয় থেকে ওই টাকা বরাদ্দই দেওয়া হয়নি। আর ভাতাপ্রাপ্ত সাধারণ মুক্তিযোদ্ধাদের অভিযোগ, মন্ত্রণালয় থেকে টাকা দেওয়া হলেও বখরা নেওয়ার মাধ্যমে অর্থ পরিশোধ করায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগের সূত্রে বরিশালে মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে দেখা দিয়েছে বিভক্তি। বিষয়টি উচ্চ আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে।Barisal Muktijodda Vata Lopat PIc 08-01-19
বরিশাল জেলা মুক্তিযোদ্ধা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০১৪-১৫ অর্থ বছরে মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয় থেকে চার কিস্তিতে মাসিক ৫ হাজার টাকা হিসেবে ৬ হাজার ৪৫৬ জন মুক্তিযোদ্ধার জন্য বরাদ্দ চাওয়া হয় ৩৮ কোটি ৭৩ লাখ ৬০ হাজার টাকা। বরাদ্দকৃত অর্থ পাওয়ার পর ৩২৪ জন মুক্তিযোদ্ধার (তারা ভিন্ন ভিন্ন সময়ে স্বীকৃতি পেয়েছেন) বকেয়া অর্থ পরিশোধে মুক্তিযোদ্ধা নেতাদের সঙ্গে অলিখিত চুক্তি হয়।
ওই চুক্তি মোতাবেক, বকেয়া টাকা দেওয়ার জন্য তারা একটি ‘পার্সেন্টিজ’ কেটে নেন। আর ওই পার্সেন্টিজের লোভে মুক্তিযোদ্ধাদের এক মাসের ভাতার ৩ কোটি ২২ লাখ ৮০ হাজার টাকা বণ্টন করে দেওয়া হয়। সাধারণ মুক্তিযোদ্ধাদের দাবি, এর বড় একটি অংশ এখানকার মুক্তিযোদ্ধা নেতারা পেয়েছেন। ওই বরাদ্দ থেকে ২০১৪ সালের ১০ মাস এবং ২০১৫ সালের জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসের বরাদ্দকৃত টাকা দিয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু ওই বছরেরই (২০১৫) মার্চ মাসের ভাতা দেওয়া হয়নি।
৩২৪ জন মুক্তিযোদ্ধার বকেয়া টাকা বরাদ্দ না এনেই তা পরিশোধ করায় এক মাসের ভাতার টাকা কম হয়েছে। এ জন্য মুক্তিযোদ্ধা নেতাদের দায়ী করে দ্রুত সময়ের মধ্যে মন্ত্রণালয় থেকে টাকা বরাদ্দ আনার দাবি তুলেছেন সাধারণ মুক্তিযোদ্ধারা। তারা আরও জানান, যারা বকেয়া টাকা পেয়েছেন এবং যারা পাননি তার দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছেন। সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, যে কোনও সময় বাকবিতণ্ডা অন্য পর্যায়ে চলে যেতে পারে। এ বিষয়ে একাধিক মুক্তিযোদ্ধা অভিযোগ করলেও নাম না প্রকাশের অনুরোধ জানিয়েছেন।
বরিশাল জেলা প্রশাসক কার্যালয় সূত্র থেকে জানা গেছে, জেলা প্রশাসক হাবিবুর রহমান দায়িত্বে থাকাকালীন ২০১৭ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি মুক্তিযোদ্ধাদের বকেয়া ভাতা পরিশোধে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিবের কাছে চিঠি দেওয়া হয়। ওই চিঠির কপি মন্ত্রী পরিষদ বিভাগের সচিব ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিবের কাছেও যায়। বরিশাল মহানগর ইউনিট কমান্ডার মোখলেছুর রহমান জানিয়েছেন, ‘মুক্তিযোদ্ধাদের বকেয়া টাকা পরিশোধে মন্ত্রী ও সচিবরা আশ্বস্ত করলেও অদ্যবধি সেই টাকা পাওয়া যায়নি। তবে উদ্যোগ অব্যাহত রয়েছে। সাধারণ মুক্তিযোদ্ধাদের অভিযোগ সঠিক নয়।’
এদিকে গত রোববার (২০ জানুয়ারি) মুক্তিযোদ্ধাদের টাকা লোপাটের অভিযোগের বিষয়ে তদন্তে নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট করেন আইনজীবী অমিত দাশ গুপ্ত। রিটে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব, বরিশালের জেলা প্রশাসক, তথ্য কমিশনের প্রধান তথ্য কর্মকর্তাকে বিবাদী করা হয়। আইনজীবী অমিতের ভাষ্য, একই রিটে মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতা দিতে না পারার ব্যর্থতাকে কেন বেআইনি ও অবৈধ ঘোষণা করা হবে না তাও জানতে চাওয়া হয়। একই দিন বিকেলে বিচারপতি এফআরএম নাজমুল আহসান ও বিচারপতি কেএম কামরুল কাদেরের বেঞ্চে শুনানি শেষে মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানী ভাতার টাকা কেন মুক্তিযোদ্ধারা পাননি তা তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়।