বরিশালের উজিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্টোরকিপারের বিরুদ্ধে ওষুধ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। ওভাররাইটিংয়ের মাধ্যমে রোগীদের জন্য বরাদ্দকৃত ওষুধের চাহিদাপত্র জালিয়াতি করে আড়াই লাখ টাকার ওষুধ আত্মসাতের প্রমাণ পেয়েছে তদন্ত কমিটি। কমিটিতে রয়েছেন উজিরপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক সব্যসাচী দাস সানি ও চিকিৎসক শওকত আলী।
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, গত বছর ডিসেম্বর মাসে বহির্বিভাগের রোগীদের মধ্যে ওষুধ বিতরণের জন্য সেবিকা ইনচার্জ ফাতেমা একটি চাহিদাপত্র দাখিল করেন। স্টোরকিপার মনিরুজ্জামানও তাকে চাহিদাপত্র অনুযায়ী ওষুধ দিয়ে দেয়। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, সেবিকার দাখিলকৃত ওই চাহিদাপত্রের পুরাতন লেখা মুছে নতুন করে সংখ্যা বসায় স্টোরকিপার মনির; অ্যান্টিবায়োটিক ক্যাপসুল স্যাফিকজিন ৩০০ পিসের স্থানে চার হাজার ৩০০ পিস, ব্যাথানাশক ইনজেকশন কিটোরোলাক ১৮০ পিসের স্থলে এক হাজার ৮০০ ও গ্যাস্ট্রিকের ক্যাপসুল ওমিপ্রাজল ১০০টির স্থলে পাঁচ হাজার ১০০ পিস। এর মাধ্যমে সে সরিয়ে নেয় আড়াই লাখ টাকার ওষুধ।
এ ঘটনা জানাজানি হলে ২৬ জানুয়ারি আকস্মিক সিভিল সার্জন ডা. মনোয়ার হোসেন উজিরপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এসে রেজিস্টার খাতায় ওষুধের হিসেবে গড়মিল পান। এরপর সিভিল সার্জন উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. একেএম শামছ উদ্দিনকে তদন্ত কমিটি গঠন করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন। সিভিল সার্জনের নির্দেশে স্বাস্থ্য কর্মকর্তা দুই সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে পাঁচ কার্য দিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন।
তদন্ত কমিটির সদস্য ডা. শওকত আলী জানিয়েছেন, প্রাথমিক তদন্তে ওষুধ আত্মসাতের সত্যতা পাওয়া গেছে এবং আরও তদন্ত চলছে। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: একেএম শামছ উদ্দিন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেছেন, বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। পাশাপাশি এর বাইরে আরও কোনও অনিয়ম কিংবা দুর্নীতি হয়েছে কি না তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযুক্ত উজিরপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্টোরকিপার মনিরুজ্জামান ওষুধ আত্মসাতের বিষয়টি পুরোপুরি অস্বীকার করে বলেছে, ‘কাজকর্মে ভুল-ত্রুটির বিষয় খতিয়ে দেখার জন্যই স্যার (সিভিল সার্জন) তদন্ত কমিটি গঠন করে দিয়েছেন। এর বাইরে কিছুই না। ’