ববি’র ভিসি’র দুঃখ প্রকাশের পরও শিক্ষার্থীদের আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্দোলনরত শিক্ষর্থীরা

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) ভিসির পদত্যাগের দাবিতে চতুর্থ দিন শনিবার বিকেলে প্রতিবাদী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান করেছে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা। এদিকে গত শুক্রবার রাতে ভিসি তার বক্তব্যের জন্য দুঃখ প্রকাশ করে গণমাধ্যমে প্রেসবিজ্ঞপ্তি পাঠালেও আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।

ভিসির পদত্যাগের এক দফা দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রিয় শহীদ মিনারে অনুষ্ঠিত হয় এই প্রতিবাদী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। প্রতিবাদী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান চলাকালে শিক্ষার্থীরা স্লোগান দেয়। এখন তাদের একটাই দাবি ভিসি’র পদত্যাগ। এক দফা দাবি পূরন না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। 

অপরদিকে শুক্রবার রাতে ববি থেকে ই-মেইল বার্তায় জানানো হয় ‘বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা ২০১১ সালে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের পর বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় দক্ষিণ বঙ্গের উচ্চশিক্ষার একটি সমৃদ্ধ ও সর্ববৃহৎ বিদ্যাপীঠ হিসেবে তার একাডেমিক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। বিগত ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিবেটিং সোসাইটি আয়োজিত অনুষ্ঠানে আমার প্রদত্ত বক্তব্যের একটি বাক্যকে কেন্দ্র করে সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মাঝে কিছু ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়েছে। এ বিষয়ে আমি  দ্ব্যর্থহীনভাবে বলতে চাই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের রাজাকার সম্বোধন করিনি বরং যারা মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপন অনুষ্ঠানে বাঁধা সৃষ্টি করতে চায়, তাদের কার্যক্রমে রাজাকার সাদৃশ্য মর্মে মন্তব্য করেছি। উক্ত শব্দটি আমি কোনও ভাবেই আমার বিশ্ববিদ্যালয়ের কোমলমতি শিক্ষার্থীদেরকে উদ্দেশ্য করে বলিনি। এরপরও যদি আমার ওই বক্তব্যে কোনও শিক্ষার্থী মানসিকভাবে আঘাত পেয়ে থাকে তার জন্য আমি আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছি। বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সব একাডেমিক কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে চালানোর স্বার্থে আমি সব শিক্ষার্থীদের সহযোগিতা কামনা করছি।’

ঢাকায় অবস্থানরত ভিসি প্রফেসর ড.এস এম ইমামুল হক বলেন, ‘তিনি দুঃখ প্রকাশের পরও শিক্ষার্থীদের আন্দোলন অযৌক্তিক। এই আন্দোলন এখন আর শিক্ষার্থীদের আন্দোলন নেই। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতর থেকে একটি মহল এই আন্দোলনে ইন্ধন যোগাচ্ছে। তিনি (উপাচার্য) চলে গেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেউ (ট্রেজারার অধ্যাপক একেএম মাহবুব হাসান) পরবর্তী উপাচার্য হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন। তারাই আবাসিক হলে শিক্ষার্থীদের খাওয়ার যোগান দিচ্ছেন। এই আন্দোলনের উদ্দেশ্য এখন স্পস্ট। বিষয়টি তিনি শিক্ষা মন্ত্রীকে জানিয়েছেন।

বন্ধ ক্যাম্পাসেও চলছে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) আবাসিক হলের ডাইনিং বন্ধ করে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। আন্দোলনের পঞ্চম দিনের রবিবার বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এই কঠোর পদক্ষেপ নেয়। তারপরও ভিসির পদত্যাগের এক দফা দাবিতে আন্দোলন অব্যাহত রেখেছে শিক্ষার্থীরা। প্রশাসনিক ভবনের নীচে অবস্থান নিয়েছে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা।

চতুর্থ দিন শনিবার বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রিয় শহীদ মিনারে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ ও প্রতিবাদী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। এরপর ওই রাতে আবসিক হলের ডাইনিং চালু থাকলেও আজ  (রবিবার) সকাল থেকে সব আবাসিক হলের ডাইনিং বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (ববি) স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত বৈকালিক চা চক্র ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের আমন্ত্রণ না জানানোর প্রতিবাদকারীদের ভিসি প্রফেসর ড. এসএম ইমামুল হক রাজাকার বলায় এর প্রতিবাদ ও ভিসির উক্তি প্রত্যাহারের দাবিতে ক্লাস পরীক্ষা বর্জন করে গত ২৭ মার্চ থেকে আন্দোলন শুরু করে শিক্ষার্থীরা। আন্দোলনের মুখে গত ২৮ মার্চ বিশ্ববিদ্যালয়ের সব শিক্ষা কার্যক্রম অনির্দিষ্টকালে জন্য বন্ধ ঘোষণা এবং ওইদিন বিকেল ৫টার মধ্যে আবাসিক শিক্ষার্থীদের হলত্যাগের নির্দেশ দেয় কর্তৃপক্ষ। কিন্তু শিক্ষার্থীরা এই নির্দেশ অগ্রাহ্য করে হলে অবস্থান নিয়ে টানা আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে।