ঘূর্ণিঝড় ফণী মোকাবিলায় দ্বীপজেলা ভোলায় সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঝড়ের আগে ও পরেসহ তিন ধরণের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ভোলায় ৭ নম্বর বিপদ সংকেত দেখানো হয়েছে। এরইমধ্যে চরের বাসিন্দাদের আশ্রয় কেন্দ্রে নিয়ে আসার জন্য সকাল থেকে রেডক্রিসেন্ট ও সিপিপির সেচ্ছাসেবকরা নদী তীরবর্তী এলাকায় প্রচার-প্রচারণা শুরু করেছে। ফণীর প্রভাবে ভোলা সংলগ্ন মেঘনা ও তেতুলিয়া নদীতে জোয়ারের উচ্চতা বৃদ্ধি পেয়েছে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে ৯২ টি মেডিক্যাল টিম গঠন করা হয়েছে এবং ৬৫৭টি আশ্রয় কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। ১০ হাজার সেচ্ছাসেবী কর্মীকে উপকূলীয় এলাকায় কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে ঝড় মোকামেলায় ৩ দফা বৈঠক করেছে জেলা প্রশাসন। ভোলার অভ্যন্তরীন সব রুটে নৌযান চলাচল বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
ভোলার সিভিল সার্জন ডা. রথিন্দ্রনাথ রায় জানিয়েছেন তিনি বৃহস্পতিবার (২ মে) জেলার বভিন্ন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে প্রস্তুতিমূলক সভা করেছেন। এছাড়াও সম্ভাব্য দুর্যোগ মোকাবিলায় মেডিক্যাল টিম গঠনসহ প্রয়োজনীয় স্যালাইন, গজ ও ব্যান্ডেজ প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
ভোলার জেলা প্রশাসক মো. মাসুদ আলম ছিদ্দিক জানান, ঘূর্ণিঝড় ফণী মোকাবেলায় জেলা প্রশাসন সব ধরণের প্রস্তুতি নিয়েছে। ঘূর্ণিঝড় মোকাবেলায় কোস্টগার্ড, ফায়ার সার্ভিস, জেলা পুলিশ, নৌ পুলিশ ও আনসার বাহিনীর সদস্যসহ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এছাড়াও প্রতিবন্দ্বিদের সহায়তায় সাত উপজেলায় ৮০ সদস্যের ৮টি টিম গঠন করা হয়েছে। জেলা প্রশাসনের সব কর্মকর্তাদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। বুধবার (১ মে) থেকে চরগুলোতে সতর্কতামূলক প্রচারণা শুরু হয়েছে। জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির দুই দফা বৈঠক হয়েছে।
ঘূর্ণিঝড় ফণী মোকাবিলায় ভোলা আবহাওয়া অধিদফতরের সব কর্মকর্তা-কর্মচারিদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে বলে জেলা আবহাওয়া কার্যালয়ের জুনিয়র আবহাওয়া পর্যবেক্ষক মাহবুব রহমান জানিয়েছেন।
সিপিপি’র উপ পরিচালক সাহাবুদ্দিন মিয়া আরও জানান, বর্তমানে সিপিপি’র স্বেচ্ছাসেবকরা জনগণকে নিরাপদে থাকার জন্য ও প্রয়োজনে আশ্রয় কেন্দ্রে আসার জন্য মাইকিং করছে এবং বিভিন্ন স্থানে লাল –কালো পতাকা (৫-৭ নম্বর সিগন্যাল) উড়িয়ে দিয়েছে।