কারাদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- কাজি মো. ইকবাল হোসেন, তার সহকারী মো. হাসান, বর মো. সজিব। এদের মধ্যে কাজি ইকবাল হোসেন সদর উপজেলার পরানগঞ্জ বাজার এলাকার সৈয়দ আহম্মদের ছেলে। তার সহকারী মো. হাসান একই উপজেলার আলীনগর ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের মো. আব্দুল মতিনের ছেলে এবং বর মো. সজিব বোরহানউদ্দিন উপজেলার টবগী ইউনিয়নের মুলাইপত্তন গ্রামের নাজিম উদ্দিনের ছেলে। অর্থদণ্ড পাওয়াদের মধ্যে রয়েছেন- বোরহানউদ্দিন উপজেলার মুলাইপত্তন গ্রামের প্রবাসী মো. মফিজুল ইসলাম ফরাজীর স্ত্রী নাসিমা আক্তার, তার নবম শ্রেণি পড়ুয়া মেয়ে মোসা. ফাতেমা আক্তার মিতু, সদর উপজেলার ধনিয়া ইউনিয়নের মো. সবুজ, মজিব উদ্দিন, মাইনুদ্দিন ও নাজিম উদ্দিন।
জানা যায়, বৃহস্পতিবার ভোলা শহরের সামসুদ্দিন মার্কেটে অবস্থিত কাজি অফিসে বিয়ে পড়ানোর সময় কাজি মো. ইকবাল হোসেন, তার সহকারী মো. হাসান ও বোরহানউদ্দিনের মো. সজিব (১৯), একই এলাকার নবম শ্রেণি পড়ুয়া মোসা. ফাতেমা আক্তার মিতু ও তার মা নাসিমা আক্তারকে আটক করে ভ্রাম্যমাণ আদালত। পরে কাজি ও তার সহকারী এবং বরকে ৬ মাস করে কারাদণ্ড দেন আদানলত। কনে ও তার মাকে ১০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়।
এছাড়াও সদর উপজেলার ধনিয়া ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের চেউয়াখালী গ্রাম থেকে বুধবার রাতে বাল্য বিয়ে পড়ানোর সময় বর, মেয়ের বাবা ও চাচাসহ চার জনকে আটক করে পুলিশ। এদের মধ্যে বর মো. সবুজ, মেয়ের বাবা মো. মজিব উদ্দিন, চাচা মাইনুদ্দিন ও নাজিম উদ্দিনকে ভ্রম্যমাণ আদালত অর্থদণ্ড দেন। এসময় কনের বাবা বয়স ১৮ বছর না হওয়া পর্যন্ত মেয়েকে বিয়ে দেবেন না বলে মুচলেকা দেন।
ভোলা সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. কাওছার হোসেন বলেন, সমন্বিত শিশু বিবাহ প্রতিরোধ প্রকল্পের কর্মীরা ও বাল্য বিয়ে প্রতিরোধ কমিটির তথ্য পেয়ে এবং পুলিশের সহায়তায় ভোলা পৌরসভার ২নং ওয়ার্ডের কাজি অফিস থেকে কাজিসহ পাঁচ জন ও সদর উপজেলার ধনিয়া ইউনিয়ন থেকে বর ও মেয়ের বাবাসহ চার জনকে আটক করা হয়। এদের মধ্যে তিন জনকে ৬ মাস করে কারাদণ্ড ও বাকি ছয় জনকে সর্বমোট ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।