মাকে ঝুপড়িতে রেখে দোতলা বাড়িতে ছেলে

ছেলের দোতলা বাড়ির পাশে ঝুপড়িতে থাকেন মাবাবা-মায়ের একমাত্র সন্তান হওয়ায় সব সম্পত্তির মালিক ছিলেন রশি বেগম। বাবা-মায়ের মৃত্যুর পর ৫ বছর পরে সব সম্পত্তি বিক্রি করে সব টাকা একমাত্র ছেলের হাতে তুলে দেন রশি। সেই টাকা দিয়ে ছেলে ইউনুস ফকির দোতলা বাড়ি নির্মাণ করেন। কিন্তু অভিযোগ পাওয়া গেছে, সেই ভবনে ঠাঁই হয়নি ৮৫ বছর বয়সী মায়ের। বাড়ির পাশে মায়ের জন্য তৈরি করে দিয়েছেন একটি ঝুপড়ি ঘর। গত ৫ বছরে ছেলে বা তার পরিবার রশি বেগমকে একবেলা খেতেও দেয়নি। অসুস্থ হলেও তাকে কেউ দেখতেও আসে না। স্থানীয় ও আত্মীয়রা এমনটাই জানিয়েছেন।

বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার বাগধা ইউনিয়নের খাজুরিয়া গ্রামের বাসিন্দা রশি বেগম ২৫ বছর আগে স্বামী কাসেম ফকিরকে হারান। বয়সের ভারে এখন কথা বলতে পারেন না তিনি। কোনও কিছু জিজ্ঞাসা করলে ফ্যাল ফ্যাল দৃষ্টিতে চেয়ে থাকেন। চোখ দিয়ে অশ্রু গড়িয়ে পড়ে। আঁচল দিয়ে সেই অশ্রু মুছে ফেললেও সন্তানের অমঙ্গল কামনা করেন না তিনি। তার চাহনি বলে দেয়, ছেলের বিরুদ্ধে তার কোনও নালিশ কিংবা অভিযোগ নেই।

এ বিষয়ে স্থানীয় ইউপি মেম্বার ইউনুস মিয়া বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন,  ‘ইউনুস ফকিরের সন্তানরাও তার মতোই হয়েছে। তারাও দাদির কোনও খবর রাখে না। রশি বেগমের ছাপড়া ঘরের টিনও ইউনিয়ন পরিষদ থেকে দেওয়া হয়েছে।’

রশি বেগমের খালু খলিল মিয়া বলেন, ‘যে সময় রশি বেগম ইউনুসের সঙ্গে থাকতেন তখনও সে (ইউনুস) তার দেখভাল সেরকম করতো না। আমার জানামতে, ১০ বছর ধরে মায়ের কোনও খবর রাখেনি ইউনুস। কিন্তু  রশি মা হয়ে তার ছেলের খবর ঠিকই রাখেন। ছেলে ও নাতিরা তার কাছে না যাওয়ায় রশি তার ঘর থেকে সারাক্ষণ ছেলের বাড়ির দিকে থাকিয়ে থাকেন। ছেলে ও নাতিদের দেখলে হাসি দেন। ছেলের বিরুদ্ধে কোনও কথা বললে তিনি রেগে যান।’

খলিল মিয়া আরও বলেন, ‘রশি আমার ভায়রার মেয়ে। উনি খাবারের অভাবে মরবেন বিষয়টি আমি মানতে পারিনি। এ কারণে আমি রশির দেখভাল করি। আমার পরিবারকে বলা আছে, রশিকে যেন সাহায্য করে। আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি কোনও মায়ের যেন এমন সন্তান না হয়।’

আগৈলঝাড়া থানার এসআই নাসির উদ্দিন বলেন, ‘বাড়ির জায়গা নিয়ে বিরোধের জেরে গত ৯ জুন রাতে ইউনুস ফকির স্থানীয় মাহাবুব নামে এক ব্যক্তির অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে মারধর করেন। ওই ঘটনায় দায়ের করা মামলায় ইউনুস কারাগারে আছেন। ’

তবে এ বিষয়ে ইউনুসের পরিবারের সদস্যরা কেউ কথা বলতে রাজি হননি।