রিফাত হত্যায় রাব্বির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি, রিমান্ডে হৃদয়

আদালতে নেওয়া হচ্ছে এক আসামিকে (ছবি– প্রতিনিধি)

বরগুনা সদরে দিনের বেলায় প্রকাশ্যে শাহনেওয়াজ রিফাত শরীফকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় পরোক্ষভাবে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে আসামি রাফিউল ইসলাম রাব্বি আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। বুধবার (১০ জুলাই) বিকাল ৫টার দিকে বরগুনার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মাদ সিরাজুল ইসলাম গাজীর আদালতে সে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। এদিন একই বিচারক এ মামলার এজাহারভুক্ত আসামি টিকটক হৃদয়ের আরও পাঁচদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। বরগুনা সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা হুমায়ন কবির এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।

হুমায়ন কবির বলেন, ‘টিকটক হৃদয় ও রাফিউল ইসলাম রাব্বিকে পাঁচদিন করে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। রিমান্ড শেষে আজ (বুধবার) তাদের আদালতে হাজির করা হয়। এসময় রাফিউল ইসলাম রাব্বি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্ধি দেয়। আর টিকটক হৃদয়কে সাতদিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করলে বিচারক তার পাঁচদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

রিফাত হত্যা মামলায় এপর্যন্ত ১১ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ২ জুলাই ভোররাতে মামলার প্রধান আসামি নয়ন বন্ড পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হয়। এখনপর্যন্ত এজাহারভুক্ত তিনজনসহ সাত আসামি হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছে।

গত ২৬ জুন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে সন্ত্রাসীরা প্রকাশ্যে রামদা দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে রিফাত শরীফকে। তার স্ত্রী আয়েশা আক্তার মিন্নি হামলাকারীদের সঙ্গে লড়াই করেও তাদের দমাতে পারেননি। একাধারে রিফাতকে কুপিয়ে বীরদর্পে অস্ত্র উঁচিয়ে এলাকা ত্যাগ করে হামলাকারীরা। তারা চেহারা লুকানোরও কোনও চেষ্টা করেনি। গুরুতর আহত রিফাতকে এদিন বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে বিকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। এ ঘটনায় রিফাতের বাবা দুলাল শরীফ বাদী হয়ে ১২ জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।