দুই পুলিশ কর্মকর্তাকে ‘শাস্তিমূলক’ বদলি

এসআই মনির ও ওসি মাহবুব উল আলমবরিশাল মেট্রোপলিন পুলিশের (বিএমপি) এয়ারপোর্ট থানার ওসি মাহবুব-উল আলম ও উপ-পরিদর্শক মনিরকে ‘শাস্তিমূলক’ বদলি করা হয়েছে। বুধবার (৭ আগস্ট) ওসি মাহবুবকে ঢাকার আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নে ও এসআই মনিরকে ঢাকা ট্যুরিস্ট পুলিশে সংযুক্ত করা হয়েছে। বিএমপির মুখপাত্র সহকারী পুলিশ কমিশনার (গোয়েন্দা) নাসির উদ্দিন মল্লিক দুই কর্মকর্তার বদলির বিষয়টি নিশ্চিত করে এটিকে রুটিনমাফিক বদলি বলে দাবি করেন।

তবে, বিএমপির দায়িত্বশীল সূত্র ওসি মাহবুব-উল আলম ও এসআই মনিরকে শাস্তিমূলক বদলি করার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ‘বরিশাল বিএম কলেজের ছাত্রী মিলি ইসলামকে হত্যার অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলা তদন্তে গাফিলতি এবং মামলাটি ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার অভিযোগে তাদেরকে শাস্তিমূলক বদলি করা হয়েছে।’

মেট্রোপলিটন পুলিশের দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, মিলি ইসলামের মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলাটি তদন্তে প্রভাব বিস্তার ও গাফিলতি করে ওসি মাহবুব উল আলম ও এসআই মনির। বিষয়টি বিএমপি কমিশনার মো. শাহবুদ্দিন খান ঘটনাটি অবহিত হওয়ার পর ওই দুই কর্মকর্তাকে ‘শাস্তিমূলক’ বদলি করেন।

বদলির বিষয়টি স্বীকার করে ওসি মাহবুব উল আলম বলেন, ‘কি কারণে বদলি করা হয়েছে, তা আমিও জানেন না।’

সূত্র জানায়, ৩ মে নথুল্লাবাদ কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল সংলগ্ন ফিশারি রোডের একটি ভবনের দোতলা থেকে বিএম কলেজের মাস্টার্সের ছাত্রী মিলি ইসলামের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে এয়ারপোর্ট থানা পুলিশ। এরপর প্রথমে অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করা হয়। পরে মিলির মা বাদী হয়ে নগরীর মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের গণিত বিষয়ের শিক্ষক পুলিন সরকারকে অভিযুক্ত করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় শিক্ষক পুলিন সরকারকে পুলিশ গ্রেফতারও করে। পরে তিনি জামিনে মুক্ত হন। পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা পুলিন সরকার মিলি ইসলামের বড় বোনের বাসার গৃহশিক্ষক ছিলেন। সে সুবাদে পুলিনের সঙ্গে মিলির প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

মিলির ভাই সোহাগ হাওলাদার বলেন, ‘পুলিন সরকার ভিন্ন ধর্মের হওয়ায় মিলি ও পুলিনের সম্পর্ক তাদের পরিবার মেনে নেয়নি।’

সোহাগ হাওলাদারের অভিযোগ, ‘পুলিন সরকার ফিশারি সড়কের ওই বাসা ভাড়া নিয়ে তার বোন মিলিকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে লাশ ঝুলিয়ে রেখে পালিয়ে যায়।’

নগরীর নথুল্লাবাদ ফিশারি রোড এলাকার ডা. আলী আজিম জানান, পুলিন-মিলি নিজেদের বিবাহিত পরিচয় দিয়ে ২ মে তার বাড়ির চারতলায় বাসা ভাড়া নিয়ে সেখানে ওঠেন। পরদিন ৩ মে সকালে ওই বাসায় সাড়া শব্দ না পেয়ে তিনি পুলিশে খবর দেন। পুলিশ গিয়ে ফ্ল্যাটের দরজা খুলে ফ্যানের সঙ্গে গলায় ওড়না দিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় মিলির মরদেহ দেখতে পায়।

এ ঘটনায় মিলির মা বাদী হয়ে পুলিনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় দুই মাস পর পুলিন গ্রেফতার হয়। এখন তিনি জামিনে রয়েছেন। পুলিন নগরীর সরকারি মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষক।