শনিবার (১০ আগস্ট) বেলা ১১টার দিকে সরেজমিনে দেখা গেছে, কাজিরাবাদ বাজার সংলগ্ন রাস্তার দু’পাশে খুঁটি পুতে গরু বেঁধে রাখা হয়েছে। কোরবানির পশু কিনতে রাস্তার ওপরই ক্রেতা-বিক্রেতাদের ভিড়। ক্রেতা-বিক্রেতাদের অবস্থানের ফলে যানবাহন ও মানুষের চলাচল বিঘ্নিত হচ্ছে। বাস, মিনিবাস, অটোরিকশা, মোটরসাইকেল ও মালবাহী ট্রাকসহ অসংখ্য ছোট-বড় যানবাহন দীর্ঘ সময় সড়কে আটকে থাকছে। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েন যাত্রীরা।
এই সড়ক দিয়ে যাতায়াতকারী বরগুনার বেতাগী উপজেলার স্কুল শিক্ষক মো. আল-আমিন বলেন, ‘এই রাস্তা দিয়ে আমি নিয়মিত যাতায়াত করি। কোনও সমস্যা হয় না। তবে পশুর হাট বসার ফলে আমরা ভোগান্তিতে পড়েছি। গরুর গোবর ও প্রসাবে পুরো রাস্তাটি আবর্জনার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে।’
সড়কটিতে চলাচলকারী একটি যাত্রীবাহী বাসের ড্রাইভার আব্বাস বলেন, ‘পশুর হাটের করণে অনেক সময় নিয়ে এই রাস্তাটুকু পার হতে হয়। এ কারণে আমাদের গন্তব্যে পৌঁছাতে দেরি হয়ে যায়। আমরা টাইম মেনে সড়কে গাড়ি চালাই, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পৌঁছাতে না পারলে জরিমানা গুনতে হয়।’
হাট সংলগ্ন করুনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল মন্নান বলেন, ‘বর্তমানে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সাময়িক বন্ধ থাকলেও কোরবানির হাট ছাড়াও সড়কের ওপর হাট বসায় সব সময় শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিকভাবে চলাচলে ভোগান্তির শিকার হয়ে আসতে হচ্ছে। এর ফলে প্রায়ই ছোট-খাট দুর্ঘটনা ঘটলেও কোরবানির ফলে বেশি মানুষের সমাগমের কারণে বড় ধরনের বিপদের আশঙ্কা রয়েছে।’
কাজিরাবাদ পশুর হাটের ইজারাদার কাজী পলাশ জানান, পশুর হাটের জন্য জায়গা সংকটের কারণে তাদের সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। তাই বাধ্য হয়ে রাস্তার দু’পাশের জায়গা ব্যবহার করতে হচ্ছে।
বেতাগী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রাজীব আহসান বলেন, ‘সড়কের ওপর যেন পশুর হাট বসানো না হয়, সে বিষয় ইতোমধ্যে ইউপি চেয়ারম্যানকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তারপরও অমান্য করলে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’