জানা গেছে, দেশে উদ্ধারকারী জাহাজ রয়েছে চারটি। এর মধ্যে ‘নির্ভিক’ ও ‘প্রত্যয়’ নামে দুটি জাহাজের উত্তোলন ক্ষমতা সর্বোচ্চ ২৫০ টন থেকে ৫শ’ টন। অন্য দুটি জাহাজ ‘হামজা’ ও ‘রুস্তম’ এর ক্ষমতা ৬০ টন করে ১২০ টন। তবে শেষের দু’টি জাহাজ অনেক দিনের পুরনো হওয়ায় অকার্যকর হয়ে পড়েছে।
গত ১৪ ডিসেম্বর কীর্তনখোলা নদীতে যাত্রীবাহী লঞ্চের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষে ১২শ’ টন ক্লিংকারসহ এমভি হাজি মোহাম্মদ দুদু মিয়া-১ কার্গো ডুবে যায়। কার্গোটির ওজন ৬শ’ টন। ক্লিংকার ও পানির কারণে কার্গোটির ওজন আরও ২শ’ মেট্রিক টন বেড়েছে। এ অবস্থায় কার্গোটি উদ্ধারের সক্ষমতা না থাকা সত্ত্বেও উদ্ধারকারী জাহাজ ‘নির্ভিক’ ডুবে যাওয়া কার্গোর পাশে দুই দিন অবস্থানের পর গন্তব্যে ফিরে যায়।
এর আগে, ২০১৭ সালের ২২ এপ্রিল নগরীর চরবাড়িয়া সংলগ্ন কীর্তনখোলা নদীতে দুটি নৌযানের মুখোমুখি সংঘর্ষে ডুবে যাওয়া কয়লাবোঝাই বাল্কহেডটিও উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। ২০১৪ সালের আগস্টে পদ্মার মাওয়া পয়েন্টে ডুবে যাওয়া পিনাক-৬ লঞ্চটিও উদ্ধারে ব্যর্থ হয় বিআইডব্লিউটিএ। এভাবে উদ্ধারকারী জাহাজের অক্ষমতার বহু উদাহরণ রয়েছে।
লঞ্চ মালিক সমিতির কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি সাইদুর রহমান রিন্টু বলেন, ‘সমুদ্র পরিবহন অধিদফতর দেশে সর্বোচ্চ চার হাজার টন ওজনের জাহাজ নির্মাণের অনুমতি দিচ্ছে। বিশেষ করে বরিশাল-ঢাকা নৌ রুটে চলাচলকারী যাত্রীবাহী এক একটি জাহাজের ওজন তিন থেকে চার হাজার টন। আর বিআইডব্লিউটিএ’র উদ্ধারকারী জাহাজের উত্তোলন ক্ষমতা রয়েছে মাত্র আড়াইশ’ টন ।’ যেকোনও ধরনের বিপদ মোকাবিলায় ক্ষমতাসম্পন্ন উদ্ধারকারী জাহাজ সংগ্রহের দাবি জানান এ ব্যবসায়ী নেতা।
আড়াইশ’ টনের ওপর উদ্ধারকারী জাহাজ না থাকার বিষয়টি স্বীকার করে নৌ সংরক্ষণ ও পরিচালন বিভাগের যুগ্ম পরিচালক (চলতি দায়িত্ব) রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন উদ্ধারকারী জাহাজ কেনার চিন্তাভাবনা করছে।’
ডুবন্ত নৌযান উদ্ধারে কর্তৃপক্ষের সীমাবদ্ধতা এবং অক্ষমতা স্বীকার করে বিআইডব্লিউটিএ’র যুগ্ম পরিচালক (উদ্ধার) ফজলুর রহমান বলেন, ‘সংস্থার উদ্ধার ইউনিট যুগোপযোগী করতে ২ হাজার টন এবং দেড় হাজার টন ক্ষমতাসম্পন্ন দুটি উদ্ধারকারী জাহাজ কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ। এ জন্য বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) একদল বিশেষজ্ঞকে প্রাথমিক সমীক্ষার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তাদের প্রতিবেদন পাওয়ার পরই নতুন দুটি উদ্ধারকারী জাহাজ কেনার প্রক্রিয়া শুরু হবে।’
দেশে ৬০ টন উত্তোলন ক্ষমতাসম্পন্ন হামজা কেনা হয় ১৯৬৪ সালে, আর রুস্তম কেনা হয় ১৯৮২ সালে। অর্ধশত বছরের পুরনো হামজা আর ৩৭ বছরের পুরনো রুস্তম এখন অকার্যকর। সবশেষ ২০১২ সালে প্রায় ৪ কোটি টাকা ব্যয়ে কোরিয়া থেকে আনা উদ্ধাকারী জাহাজ ‘নির্ভিক’ ও ‘প্রত্যয়’ এর উত্তোলন ক্ষমতা ২৫০ টন করে। কিন্তু কারিগরি জটিলতার কারণে এ দু’টি জাহাজ একসঙ্গে উদ্ধার কার্যক্রম চালাতে পারে না।