কলেজ ব্যাবস্থপনা কমিটির সভাপতি ন্যাশনাল ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক আর এ হাওলাদারের দাবি, নিয়োগ পরীক্ষা তিনি ইচ্ছা করলে তার বাসভবনে বসে নেয়ারও ক্ষমতা রাখেন।
মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরের উপ-পরিচালক অধ্যাপক মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, সভাপতি চাইলেই যেকোনও স্থানে বসে কলেজের নিয়োগ পরীক্ষা নিতে পারেন না।
কলেজের অধ্যক্ষ জাকির হোসেন বলেন, পূর্ব নির্ধারিত সময় অনুসারে বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় কলেজের অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটরের দুটি শূন্য পদে এবং ল্যাব সহকারীর একটি শূন্য পদে ওই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়া ওই হোটেলে আরও পাঁচটি পদ যথাক্রমে লাইব্রেরিয়ান, আয়া, অফিস সহায়ক, নিরাপত্তাকর্মী ও নৈশপ্রহরী পদে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। তবে কতজন আবেদন করেছেন সে সম্পর্কে কোনও তথ্য দিতে পারেননি তিনি।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন নিয়োগ প্রত্যাশী বলেন, ওই পদগুলোতে গত ১৮ জুলাই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে সভাপতি আর এ হাওলাদারের স্বজনরা উত্তীর্ণ না হওয়ায় কোনও কারণ ছাড়াই পরীক্ষা বাতিল করা হয়। এরপর পুনঃনিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়। সেখানে আমরা আবেদন করলেও আমাদের পরীক্ষার জন্য ডাকা হয়নি। হঠাৎ করেই আমরা জানতে পারি বরিশাল নগরীর একটি হোটেলে ওই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
এদিকে আবাসিক হোটেলের যে কক্ষে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয় সেখানে চার জন পরিদর্শকের দায়িত্ব পালন করেন। তবে তারা ওই কলেজের শিক্ষক নন। তারা ব্যবস্থপনা কমিটির সভাপতি আর এ হাওলাদারের সহযোগী। তাদের নাম জানা সম্ভব হয়নি। সভাপতির নির্দেশে তারা দায়িত্ব পালন করেন বলে জানা গেছে।
নিয়োগ পরীক্ষা নিতে ডিজির প্রতিনিধি হিসেবে বাকেরগঞ্জ সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক জসীম উদ্দিন, হযরত আলী ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ জাকির হোসেন হোটেলে অবস্থান নেন। পরীক্ষা চলাকালীন সময় তারা হোটেলের ৩০৩ নম্বর কক্ষে ব্যাবস্থপনা কমিটির সভাপতি আর হাওলাদারের সঙ্গে বিশেষ আলাপচারিতায় ব্যস্ত সময় পাড় করেছেন।
এ ব্যাপারে ডিজির প্রতিনিধি সরকারি বাকেরগঞ্জ কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক জসীম উদ্দিন বলেন, ‘কলেজ ব্যাবস্থাপনা কমিটির সভাপতি আর এ হাওলাদার হোটেল এরিনায় পরীক্ষার ভেন্যু ঠিক করা হয়েছে। আমাদের বাধ্য হয়ে এখানে আসতে হয়েছে। এর বাইরে কিছু করার ছিল না আমার।’
মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরের উপ-পরিচালক অধ্যাপক মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, ‘সভাপতি চাইলেই যেকোনও স্থানে নিয়োগ পরীক্ষা নিতে পারেন না। আর সেখানে সরকারের প্রতিনিধিও যেতে পারেন না। তবে বাকেরগঞ্জ সরকারি কলেজ অধ্যক্ষ কীভাবে ওই হোটেলে গেল তা আমার জানা নেই। আর কলেজের নিয়োগ পরীক্ষা নিজ কলেজ কিংবা পাশাপাশি কোনও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে হবে। একটি আবাসিক হোটেলে পরীক্ষা নেওয়া মানে প্রার্থী আগে থেকে নির্বাচিত করা।’ তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি।
কলেজ ব্যবস্থপনা কমিটির সভাপতি ন্যাশনাল ব্যাংকের সাবেক ব্যাবস্থাপনা পরিচালক আর এ হাওলাদার বলেন, ‘পরীক্ষা নিজ বাসভবনে নেওয়ার ক্ষমতাও আমি রাখি। এখানে নিয়মের কোনও বিষয় নেই। আমার কলেজের পরীক্ষা কোথায় নেবো সেটা আমার ব্যাপার। এখানে কারও কিছু করার ক্ষমতা নেই।’