পলিথিন থেকে ভাস্কর্য

ভাস্কর্য হাতে এমিলিয়া রায়রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম, মাদার তেরেসা কিংবা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, সবার ভাস্কর্যই বানানো হয়েছে পলিথিন গলিয়ে। এই শিল্পকর্মগুলো বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার গৈলা ইউনিয়নের রাহুৎপাড়া গ্রামের গৃহিণী এমিলিয়া রায়ের বানানো। নিজেকে শিল্পী নয়, বরং পরিবেশ সচেতন মনে করেন প্রায় ৭০ বছর বয়সী এই নারী। গত ২০ বছর ধরে পরিবেশ দূষণকারী পলিথিন গলিয়ে তৈরি করছেন ভাস্কর্য। বাদ যায় না তুলা ও পড়ে যাওয়া চুলের মতো ফেলনা জিনিস। এ পর্যন্ত শতাধিক শিল্পকর্ম তৈরি করেছেন তিনি।

এমিলিয়া বানিয়েছেন প্রায় ৮০ কেজি ওজনের মাদার তেরেসার ভাস্কর্য। রয়েছে ১৫ আগস্ট ঘাতকের বুলেটের সামনে বঙ্গবন্ধু ও শেখ রাসেলের ভাস্কর্য। এমন অনেক ভাস্কর্য রয়েছে তার সংগ্রহে। তবে এগুলো বিক্রির জন্য তৈরি করেননি।

ছোটবেলা থেকেই এমিলিয়া রায় শিল্পপ্রেমী। ছবি আঁকা, কবিতা লেখা, গান গাওয়া ও নিজের লেখা গানে কণ্ঠ দেন। স্বামী মারা যাবার পর বর্তমানে বেশিরভাগ সময় তিনি যুক্তরাষ্ট্রে মেয়ের কাছে থাকেন। পাঁচ সন্তানের মধ্যে বাকি দুই ছেলে থাকে কানাডা ও অস্ট্রেলিয়ায় এবং দুই মেয়ে ঢাকায়। প্রায়ই গ্রামের বাড়িতে এলে ভাস্কর্য নিয়েও কাজ করেন।

Barisal Vaskarjo PIc=09-01-20এমিলিয়া রায় বলেন, নিজের ঘরের এবং অন্যদের ফেলনা পলিথিন গলিয়েই শুরু করি ভাস্কর্য বানানোর কাজ। ভাস্কর্য তুলে দিতে চাই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতে। তবে ঘাতকের বুলেটে নির্মম হত্যার শিকার শেখ রাসেলের ভাস্কর্যটি নিজের কাছেই রাখতে চাই। কারণ মুক্তিযুদ্ধের সময় আমার তিন বছরের ছেলে তিনু অসুস্থ হয়ে মারা যায়। শেখ রাসেলের মধ্যে আমি তিনুকে খুঁজে পাই।’

তিনি আরও বলেন, ‘ভাস্কর্য তৈরির চেয়ে আমার প্রধান লক্ষ্য ছিল পরিবেশদূষণ দূর করা। বিভিন্ন রঙের পলিথিন পুড়িয়ে সেখান থেকে রঙের সামঞ্জস্য রেখে বিভিন্ন ভাস্কর্য তৈরি করেছি। এটি সকলের মাঝে ছড়িয়ে দিতে পারলে পলিথিনের দূষণের হাত থেকে আমরা কিছুটা হলেও মুক্তি পাবো। কারণ পলিথিন সহজে পচনশীল নয়। নিজের বয়সের সঙ্গে যুদ্ধ করে কাজ চালিয়ে যাচ্ছি।’